সে অনেক কাল আগের কথা। আমার সাথে এক পরী থাকতো। সে আমার সাথে খেলতো, ঘুমাতো, দুস্টামী করতো, পড়াশুনা করতো, আবার মাঝে মাঝে গভীর রাতে ভয় দেখাতো। আলিফ লায়লার পরীদের মতন সে ছিল অপূর্ব সুন্দরী। আমার একমাত্র খেলার সাথী। সবাই দেখত, আমি সারাদিন একা একা থাকি। আমার পরীকে শুধু আমিই দেখতাম। আহা, সেইসব আদরমাখা দিন।
পরীকে নিয়ে দিন গুলো কেটে যেত স্বপ্নের মত। বাসার আর কারো বোধহয় সেটা ভাল লাগল না। আমি কারো সাথে মিশতাম না। আসলে আর কাউকে আমার ভাল লাগত না, পরী সাথে থাকলে অন্যদের মনে ধরে কেমনে! আমাকে নিয়ে বাবা-মা-দাদী সবাই ভীষন চিন্তায় পড়ে গেল। একলা থাকাটা প্রধান সমস্যা না। আসল সমস্যা অন্যখানে। প্রতিরাতে আমি ঘুমের ঘোরে কোথায় জানি হেঁটে যেতে থাকি। আর কেউ যেতে বাঁধা দিলে ভয়ংকর চিৎকার চেচামেচি শুরু করি। সকালে অবশ্য আমার কিছুই মনে থাকে না। এখনো মনে করতে পারি না, হেঁটে আমি কোথায় যেতে চাইতাম। হয়ত পরীর সাথে পরীর রাজ্য কোহেকাফ নগরীতে। আফসুস, যেতে পারলাম না।
রাতের পর রাত আমার চিৎকার চেচামেচি বাড়তে থাকে। আমার কারনে বাসার মানুষজন ঘুমাতে পারে না। আমার জন্য একজন সার্বক্ষনিক পাহারাদার নিযুক্ত করা হলো। আমার পরিষ্কার মনে আছে, সেই মেয়েটাকে আমি মাঝে মাঝে গলা টিপে ধরতাম। অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। দাদীর পরামর্শে একদিন আমাকে নিয়ে যাওয়া হল শহর থেকে অনেক দূরে। পুরো শহর পেরিয়ে নদীর ওপারে অচেনা এক জায়গায়। তারপর কি ঘটল কিছু মনে নেই। পরে সবার কাছে শুনেছি, আমার পরীকে বোতল বন্দী করে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। আরো শত শত পরী সেখানে বন্দী আছে। কিছু ঔষধপত্র আমাকে দেয়া হল। আমরা সেখান থেকে চলে এলাম।
তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। আমার পরী আমাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেল। আর কোনদিন তার দেখা পাইনি। আমি বিশ্বাস করি না, পরী বন্দী আছে। হয়ত কোন এক অজানা অভিমানে আমাকে একা ফেলে চলে গেছে। একদিন পরী ফিরে আসবে, আসবেই, হয়ত কোন এক অপরূপার রূপ ধরে। সেই দিনের অপেক্ষায় … … …

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



