লিখতে লিখতেই তাদের মাঝে প্রেম হয়ে গেল। প্রেম বললে হয়ত ভুল বলা হবে। একটা ভাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং বলা যায়। সোহেল আর দীপা একে অপরকে বুঝতে পারে। এই উত্তরাধুনিক সময়ে সেই বা কম কী? দুজন মানুষ – একজন অপরজনকে বুঝতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। প্রেম সে তুলনায় এমন হাতিঘোড়া কিছু নয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, তারা একে অপরকে উদ্দেশ্য করে লিখে না। সেই প্রচলিত ধারার চিঠি, চিরকুট, মেসেজ কিংবা ইমেইল এগুলো নয়। তাদের লেখালেখির মাধ্যম ব্লগ। যেখানে পাঠক উন্মুক্ত আর লেখার বিষয় – যা ইচ্ছা তাই।
দীপা লেখে কবিতা। বেশ জনপ্রিয় কবি বলা যায়। ব্লগে তার লেখা কবিতাগুলোর সংকলন নিয়ে বইমেলায় বই বের হয়। মূলত কবি হলেও মাঝে মধ্যে দীপা আত্মকথা বা ডায়েরী লেখে। যাই লেখা হোক, দীপার পোস্ট হিট। আসলে বাস্তব কিংবা ভার্চুয়াল – লুলের বিচরণ সর্বত্র।
সোহেল ব্লগে কোনকালে কবিতা লেখেনি। গুণীজনেরা কহেন, সৃজনশীল লেখার হাতেখড়ি প্রতিটি মানুষের হয় কবিতা দিয়ে। সেই কথার মান-সুলেমান রাখতে গিয়ে হয়ত স্কুল ম্যাগাজিনে ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিল। সেই শুরু সেই শেষ। সোহেল আদতে নিজেকে লেখক মনে করে না। সে একজন বিশিষ্ট সমালোচক।
দুজন সম্পূর্ন বিপরীত মেরুর লেখক। অথচ স্রেফ লিখতে লিখতেই তাদের পরস্পরকে চেনা। দীপার অসংখ্য ভক্তের শত শত মন্তব্যের মাঝে সোহেলের মন্তব্য হাতেগোনা। অনেক লেখায় মন্তব্যই করেনি। এমন নয় যে সে কবিতা বোঝে না। আসলে সবসময় তার মনে হত, একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে কিনা! দীপা অনেক বেশী স্বতস্ফূর্ত। সোহেলের প্রতিটি লেখায় তার একাধিক সুবিস্তৃত মন্তব্য। কম-বেশীর থোড়াই কেয়ার করে সে। শুরু থেকেই দীপার মনে হত, এই ভাববাজ ছেলেটিকে তার দারুন লাগে।
তারপর? তার আর পর নেই। চৈত্রের শেষ রাত্রিতে ঠিক হয়, দেখা হবে। বৈশাখের তপ্ত রোদে দেখা হবে দুজনায়। ভোর হলো। নতুন বছরের নতুন ভোর। দীপাকে দেখে সোহেলের ভাল লাগে। সহজ সাধারণ একটা মেয়ে। শ্যামলাবরণ মেয়ের দীঘল কালো চুল। মুখে উজ্জ্বল দীপ্তি। অন্যদিকে দীপা এক কথায় শক্ড। এ যে সাক্ষাত রাজপুত্তুর। লম্বা-ফর্সা এই যুবকের কাছে সেতো নস্যি। এখানে আসাই মনে হয় ভুল হয়েছে। পিছন দিকে ছুটে পালাতে পারলে ভাল হত। সে কথা জানাতেই সোহেল দীপাকে ধরে একটা ঝাঁকি দিল আর হাসতে হাসতে বলল, ‘এই মেয়ে! আমার তোমাতেই চলবে।’
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


