somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি জানেন কি?অভিনয়, নাট্য রচনা, উপস্থাপনা অতঃপর পরিচালনায় : হৃদি হক

১০ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভিনয়-পরিচালনা

অভিনয়, নাট্য রচনা, উপস্থাপনা অতঃপর পরিচালনায় : হৃদি হক


মঞ্চ ও টেলিভিশনে এতদিন দর্শকরা হৃদি হকের সুঅভিনয় দেখেছেন। অভিনেত্রী পরিচিতির বাইরে নাট্যকার হিসেবেও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মেগাসিরিয়াল আমাদের আনন্দবাড়ি লিখে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। নাট্যকার পরিচয়ের বাইরে মিডিয়া ভুবন অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে উপস্থাপিকা হিসেবেও আলাদা একটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

হৃদি এবার নাট্য পরিচালক হিসেবে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন দর্শকদের সামনে। আপাতত ৫২ পর্ব টার্গেট করে সামনে এগোচ্ছেন। শুটিংও শুরু করেছেন। নাটকের নাম নাইনটিন টুয়েনটি । নাট্যকার তিনি নিজেই। প্রথমবার নাটক নির্দেশনা দেয়া প্রসঙ্গে হৃদি হক বলেন, অভিনয় করতে করতে নির্দেশনায় আসা তা কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়নি। সম্পূর্ণ বিষয় জেনেই আমি নাটক পরিচালনায় এসেছি।

যদিও অনেক দিন থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল নাটক পরিচালনা করবো। আমাদের আনন্দবাড়ি আমার লেখা হলেও শুটিং চলাকালে আমি নির্দেশনার কাজ ভালভাবে লক্ষ করতাম। একটা সময়ে এডিটিংও শিখেছি। হৃদি হক আরও বলেন, আমার মনে হয় নাটক বা ফিল্ম যাই বলি না কেন এখানে এসে কাজ শুরু করলেই হবে না। অবশ্যই কাজ শিখে আসা উচিত। কেননা কোন কাজই না শিখে করা ঠিক হবে না।

নাট্য পরিচালনা নিয়ে টার্গেট জানতে চাইলে বলেন, কাজ করতে চাই এবং অবশ্যই ভাল কিছু করতে চাই। তাছাড়া পরিচালনার কাজটি বেশ আনন্দ নিয়ে করি। নাটক লিখতে যেমন ভাল লাগে তেমনি পরিচালনা করতেও ভাল লাগে। প্রথম নির্দেশিত নাটকের বিষয়বস্তু কি- এর জবাবে বলেন, আমার এই নাটকটি সদ্য যারা টিনএজ পার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তাদের জন্য লেখা।

ওই বয়সী ছেলেমেয়েরা কেমন হয়, তাদের চিন্তা-ভাবনা, স্বপ্নই মূলত ফুটে ওঠবে। অন্য এক প্রসঙ্গে হৃদি হক বলেন, নাটক রচনা এবং পরিচালনা করতে গিয়ে অভিনয় একটু কমবে। টেলিভিশন নাটকে অভিনয় কমে গেলেও মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করবো। সত্যি কথা বলতে মঞ্চে অভিনয় করতেই বেশি ভাল লাগে।

তাছাড়া আমি যেহেতু চাকরিও করি কাজেই ছুটির দিন যতটুকু পারি শুটিং করবো। নাইনটিন টুয়েনটি নাটকের অভিনয় শিল্পীরা হলেন- তিশা, স্বাগতা, নাফিজা, জিতু আহসান, দীপা খন্দকার, লিটু আনাম, কুমকুম, শারমিন শীলা, তানভীর হোসেন প্রবাল প্রমুখ। নিজের রচিত ও নির্দেশিত নাটকে হৃদি হক অভিনয় করছেন না।

এদিকে প্রথম নির্দেশিত ধারাবাহিকের কাজ ছাড়াও চলতি সময়ে হৃদি হকের উপস্থাপনায় বাংলাভিশনে প্রচার হচ্ছে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান মিডিয়া ভুবন। অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। এ বিষয়ে বলেন, উপস্থাপনা করার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না। এটি একেবারেই অপরিকল্পিত। তখন আমি বাংলাভিশনে চাকরি করতাম।

সে সময়ে বাংলাভিশনের সিইও মোস্তাফিজুর রহমান আংকেল আমাকে দায়িত্ব দেন মিডিয়া ভুবন করার। সত্যি কথা বলতে আমি মোস্তাফিজ আংকেলকে না বলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। অবশ্য না বলার ইচ্ছে ছিলও না। তো এভাবেই শুরু হয়ে গেল। শুরুর দিকে আমি স্ক্রিপ্ট লেখার কাজও করতাম। এখন কেবলই উপস্থাপনা।

এখন কেমন সাড়া পচ্ছেন- এই প্রশ্ন করতেই সহাস্যে বলেন, এতো বেশি সাড়া পাচ্ছি যা আমার কল্পনায় ছিল না। এখন খুব ভাল লাগছে। বেশ উপভোগ করছি। এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলে রাখি, অনুষ্ঠানটির দুটি পর্ব আমি উপস্থাপনা করতে পারিনি দেশের বাইরে থাকার কারণে। ওই সময়ে দর্শকরা প্রচুর ফোন করেছে। উপস্থাপনার বিষয়ে হৃদি হক আরও বলেন, উপস্থাপনা করতে হলে বাচনভঙ্গি থাকতে হবে।

প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি টেলিভিশনে মিডিয়া ভুবন দিয়ে উপস্থাপনা শুরু করলেও আন্তর্জাতিক কিছু অনুষ্ঠান আমি উপস্থাপনা করেছি। উল্লেখ্য, বর্তমানে হৃদি হক অভিনীত দুটি ধারাবাহিক নাটক ফিরে দেখা এবং মৌচাকে ঢিল প্রচার হচ্ছে। হৃদি হক বলেন, নতুন ধারাবাহিকে শুটিং করা নিয়ে কিছু ভাবছি না।

কারণ আমার নির্দেশিত নাটক নিয়েই ব্যস্ততা যাচ্ছে। এতো সবের বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কটি এক ঘণ্টার নাটকও শেষ করেছেন হৃদি। এগুলো হচ্ছে- জামাই রাজা, প্রতিস্থাপন, চন্দনা ও একটি আংটি এবং চৌকিদার।

শুটিং স্পট থেকে: বৈশাখ থেকে শ্রাবণ

দশ আঙ্গুলের মধ্যে সাতটাতে নেইল পলিশ লাগানো হয়েছে তারিনের। এরই মধ্যে পরিচালকের একজন সহকারী এসে তারিনকে জানালেন, পরিচালক তাকে ডেকেছেন দৃশ্যায়নের কাজে। পরিচালকের নির্দেশনার প্রতি শতভাগ আন্তরিকতা প্রকাশ করতে গিয়ে বাকি আঙ্গুলগুলোতে আর নেইল পলিশ লাগানো হলো না তারিনের।

সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে তারিন সেটে প্রবেশ করতে চাইলেই পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী তাকে ইশারায় জানান দিলেন একটু অপেক্ষা করতে। শর্মিলী আহমেদ ও তোফা হোসেনের একটি দৃশ্যায়ন চলছিল। আপনঘর শুটিং হাউজের চতুর্থ তলার একটি রুমে হাসপাতালের আবহ তৈরি করেছেন পরিচালক।

বেডে শুয়ে আছেন তোফা হোসেন। তার মাথায় ও শরীরে ব্যান্ডেজ। পরিচালকের নির্দেশ পেয়ে সংলাপ আওড়াচ্ছেন শর্মিলী আহমেদ। তাঁর মুখাবয়বে বিষাদের মেঘ। আর চোখে কান্নার নদী। প্রথম টেকেই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। এবার সুযোগ বুঝে তারিন বলেন, আমি তো ভেবেছিলাম আমার দেরী হলে গেল বুঝি সেটে আসতে। তাই তিন আঙ্গুলে নেইল পলিশ না করেই চলে এসেছি।

তারিনের এমন সংলাপ ইউনিটের সবার হাসির খোরাক যোগালেও একজন হাসলেন না। তিনি শর্মিলী আহমেদ। তিনি বললেন, তারিন কাজের প্রতি তোর এই আন্তরিকতাই তোকে আজ এ পর্যায়ে এনেছে। হাসির রাজ্য এবার শূণ্য। আবার শুটিং শুরু হয়েছে। তোফা হোসেন হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে সংলাপ আওড়াচ্ছেন।

কিন্তু পরিচালকের মনঃপূত হলো না। আর তাই পরিচালক তাকে নির্দেশনা দিলেন এভাবে, তোফা ভাই আপনার সারা শরীরে তো ব্যথা। কিন্তু সেই প্রকাশটা তো নেই স্ক্রিনে। এবার দৃশ্যটি টেক করা হয়। শুটিংয়ের খানিকটা বিরতি। চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম ধারাবাহিকে কাজ করা নিয়ে তারিন বলেন, বৌদি অনেকদিন আগে বলেছিল, আমি যদি ধারাবাহিক নির্মাণ করি তবে সেখানে তোকে কাজ করতে হবে। আমিও সেদিন তাকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

সত্যি বলতে কি আমি তাকে কেনো জানি না বলতে পারিনি। স্ক্রিপ্ট, চরিত্র কিছু না দেখে আমি তার ধারাবাহিকে কাজের যে ওয়াদা করেছিলাম তা থেকেই এতে কাজ করা। কাজটি কেমন হবে তা নির্ভর করছে পরিচালকের উপর। সঙ্গে যোগ করলেন শর্মিলী আহমেদ, এ ধারাবাহিকের স্ক্রিপ্ট পেয়েছি একমাস আগে। গল্পটা আমার ভাল লেগেছে।

পরিচালক ক্যামেরা, লাইট, শিল্পীদের গেটআপসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ সজাগ। মনে হচ্ছে কাজটি ভাল হচ্ছে। পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী বলেন, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ শিরোনামের এ ধারাবাহিকটি লিখেছেন ফারিয়া হোসেন। টাইটেল গানের কথা লিখেছেন কবির বকুল। গেয়েছেন তপু। অভিনয়শিল্পীরা সবাই ভাল করছে। আমি আশাবাদী ধারাবাহিকটি দর্শকপ্রিয়তা পাবে।

দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে খানিকটা বিশ্রামে আছেন অভিনয়শিল্পীরা। পাশের রুমে গা এলিয়ে ঘুমের দেশে প্রবেশ করেছেন আরজে নীরব ও বাংলালিংক-এর মডেল হিসেবে পরিচিত নিরব। বিশ্রামপর্ব শেষ হতেই শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন চয়নিকাবাহিনী। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই শুটিংবাড়ির ছাদে সেট ফেলেছেন পরিচালক।

এবার সেটে উপস্থিত নোভা। নোভার দুচোখে আষাঢ়-শ্রাবণ। পরিচিত শহরের চেহারাটা নতুন করে দেখছেন তিনি। পেটে অনাগত সন্তান। পরম মমতায় আদর করলেন শিশুটিকে। দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি হলো। ততক্ষণে সেটে প্রবেশ করলেন নীরব ও নিরব। আরজে হিসেবে পরিচিত নীরব প্রথমবারের মতো অভিনয়ে নাম লেখালেন এই নাটকের মাধ্যমে। কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, অভিনয়টা আমার কাছে উপস্থাপনার চেয়েও কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তবে পরিচালকের সহযোগিতায় পথ চলছি।
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×