আজকে আমি লুংগি “গুছলান্ডি” দিয়ে ব্লগ লিখছি। গুছলান্ডি কুমিল্লা অঞ্চলের শব্দ- এর অর্থ কাছা দেয়া। লুংগিকে ছোট করে শর্টস হিসাবে পড়া। মারামারি করা থেকে শুরু করে যেকোন দৌড়াদৌড়ির কাজে গুছলান্ডি দিয়ে নামা একটা জরুরী বিষয়। নইলে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার সময় লুঙ্গি খুলে পড়ে যেতে পারে।
সৈকত আমাকে অনিন্দিতার চ্যালা বলেছেন এবং অনিন্দিতা সেটা অস্বীকার করেছেন। দুইজন মিলে কিছু হাউকাউ করেছেন । আমি ব্লগটা বেশ পরে পড়েছি। ততক্ষনে পানি থিতিয়ে গেছে। পানি থিতিয়ে যাক। ময়লা নিচে পড়ে যাক। আমি আমি আবার জল ঘোলা করব।
শুরুতেই recap
ব্লগার অনিন্দিতা আর সৈকত “কাইজ্যা” করছেন। প্রচুর শব্দ হচ্ছে। রবাহুত আমি যোগদান করে ফেললাম। দুইজনের কথাবার্তা শুনে মনে হল অনিন্দিতা অনেক গুছিয়ে আক্রমন করছেন আর সৈকত উল্টা-পাল্টা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন নিজের কাজ । প্রচুর অভিযোগ আর পালটা অভিযোগ চলছে। পড়ে, শুনে, দেখে আমার মাথাও গরম হল।
আমি লুঙ্গি কাছা দিয়ে বাশ মাথার উপরে সাই সাই করে ঘুরালাম কয়েকবার। এরপর অনিন্দিতাকে বললাম বাশ রেডি আছে। আপনি ইঙ্গিত দিবেন আমি মাথায় মারব। তখন আমি মাত্র ব্লগ লেখা শুরু করেছি। একজন নারী আমাকে বলছে "এই যে এই পুরুষ মিথ্যেবাদী।" তাতে আমার মনে হল মিথ্যেবাদী ত বটেই। এতবড় সাহস মিথ্যে বলে! আমি সৈকতের মাথায় বাশ মারলাম। প্রবাদ আছে লাফ মারার আগে ভেবে মারো , আমি ত আর লাফ মারছি না। বাশ মারছি। তাই বিনা চিন্তায় আমি বাশ মেরে দিলাম। এছাড়া আমার ভিতরের বহুদিনের পুরানো, আদ্যিকালের এক পুরুষ আছে যে সমস্ত নারীকে করে বিশ্বাস আর পুরুষদের অবিশ্বাস। পক্ষান্তরে যখন কেউ লুংগি কাছা মেরে বাশ মাথার ওপর ঘুরাতে থাকে তখন আসলে তার মাথাও কিছুটা ঘুরতে থাকে। তখন নিশ্চিতভাবে কেউ খুব একটা চিন্তা করে না।
এইখানে অতি প্রসংগক্রমে জানিয়ে রাখি , সৈকত দুর্বল বলেই আমি তার মাথায় বাশ মারার ইচ্ছে প্রকাশ করলাম। উনি শক্তিশালী হলে আমি তাকে মারার চিন্তাও করতাম না। আমার যত দোষ থাকুক বা না থাকুক কেউ বলতে পারবে না আমি যে শক্তিশালী তাকে আমি যথার্থ সম্মান করি না।
এরপর সৈকত আমাকে বলেছেন অনিন্দিতার চ্যালা । সাথে সাথে আমার কাছা খুলে গেছে। বাশও মাথার উপর থেকে নেমে এসেছে। মাথা হয়েছে ঠান্ডা। আমি চ্যালা?
কিন্তু সেটা এখানেই শেষ না। অনিন্দিতা আবার করলেন অস্বীকার । আখসানুল আমার চ্যালা না। শুনে ত মাথা গরম। পারলে লুংগি তুলে কাধে ফেলে বলি কি আমি চ্যালা না??
কার জন্য আমি মাথার উপর বাশ ঘুরালাম? কার জন্য আমি লুংগি কাছা দিলাম?
চোখের জলে কেদে কেদে আমি বলতে চাই ওগো কি নিষ্ঠুর আপনি অনিন্দিতা! এই পরিশ্রমের কি কোন দাম নাই ? আপনার মন পাবার কি কোন উপায় নাই? কিভাবে পারলেন আমার কচি হৃদয়টা ভেঙ্গে খান খান করে দিতে? একবারও কি বিবেকে বাধল না? এমনই হয়! আমি অসহায় ব্লগার। হৃদয়হীনা আর কি বেশী করলে আপনি আমাকে চ্যালা হিসাবে মেনে নিবেন? আমি কি সৈকত এর উপর কুত্তার মত ঝাপিয়ে পড়ব? এরপর সৈকত যখন বলবেন আখসানুল আপনার পালা কুত্তা তখন আবার অস্বীকার করবেন না যেন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


