somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকুরীর ইন্টারভিউ দেবার তরিকা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরেন আপনি বন্ধুর বাসায় গিয়েছেন। দোস্ত বাসায় নাই, একটু পর আসবে ।বন্ধুর বাসার বারান্দায় দুইটা কুত্তার বাচ্চা। একটা দেখতে সাদা বেশ সুন্দর, আরেকটা বাদামী, দেখতে খারাপ না। আপনি বারান্দায় গেলেন। বাদামীটা দৌড়ে এলো আপনার কাছে। পায়ের কাছে এসে ঘষাঘষি করতে লাগল। লেজ নাড়িয়ে নাড়িয়ে আপনার সাথে খেলা শুরু করেছে। সাদা কুত্তার বাচ্চাটা কেন জানি গম্ভীর হয়ে বসে আছে। খুব একটা নড়া-চড়া করছে না। আপনার মনে ইচ্ছে হতে লাগল একটা কুত্তার বাচ্চা পালা শুরু করলে খারাপ হত না।
আপনার দোস্ত আসল এই সময়। আড্ডা দিচ্ছেন।কথাবার্তার এক পর্যায়ে সে আপনাকে জানাল একটা কুত্তার বাচ্চা যদি আপনি নিয়ে যান তবে ভালো হয়। সে আর আগ্রহ পাচ্ছে না কুত্তা পালতে।
আপনি কোন বাচ্চাটা নিবেন??? সম্ভাবনা নব্বইয়ের বেশি বাদামী বাচ্চাটা, যেটা আপনাকে দেখে খুশিতে লেজ নাড়তে শুরু করেছে সেইটাই।



আমি একবার একটা গার্মেন্টসে ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। সেখানে একটা waste water treatment plant তৈরী হবে। আমার থিসিস ছিল water treatment এর ওপর। তাই খুব আগ্রহ নিয়ে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। গারমেন্টস এর মালিক ইন্টারভিউ নিচ্ছে। ইন্টারভিউ দেবার জন্য বাইরের একটা রুমে যারা বসে আছি তারা সবাই আমার ক্লাসমেট। আড্ডা দিচ্ছি অনেকটা। এমন সময় বোমা ফাটলো। এক দোশ্ত বের হয়ে এসে বলে হারামজাদা ত মাত্র ছয়হাজার টাকা অফার করেছে। সে না করে দিয়ে এসেছে।
এরপরের জন বের হয়ে এসে বলল আরো ভয়াবহ কথা। ছ হাজার শুনে সে যখন বলেছে আরেকটু বেশি দিলে বিবেচনা করতে পারে, তখন গার্মেন্টস মালিক উত্তর দিয়েছে এর বেশি দেয়া সম্ভব না। তবে একজন মেয়ে এসিস্ট্যান্ট দেয়া যেতে পারে। এই কথা বলার পর আবার মুখ টিপে হেসে বলেছে যে বুঝার সে এতেই বুঝবে।
আমি মাথা ঘুরিয়ে অফিসের দিকে তাকালাম। এর আগে খুব একটা মনযোগ দিয়ে তাকাইনি। এবার মেয়েদের দিকে তাকালাম। চারজন খুব সুন্দর মেয়ে আছে অফিসে। তাহলে ব্যাপার এই! শালা লুইচ্চার চূড়ান্ত। সাথে সাথে অফিস থেকে বের হয়ে চলে যাওয়া উচিত ছিল। গেলাম না। যখন অফিসে এসেছি তখন একটু কথা বলেই যাই। তখন ত আর জানি না,এই লোকটার সাথে কথা না বললে আমার ইন্টারভিউ দেবার তরিকাটাই জানা হত না।

একসময় গার্মেন্টস মালিকের রূমে আমার ডাক আসে। আমি খুব বিরক্তি নিয়ে ঢুকি। আমাকেও ছয় হাজার টাকা আর assistant এর কথা বলা হল। আমি বিরক্তি চেপে কোনরকমে বলি আগামী মাসে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। তখন যদি আমি চাকুরি না পেয়ে থাকি তবে এটা করব।
আরো অনেক কথাবার্তা হলো। শেষের দিকে লোকটা আমার জীবনের শোনা সবচে মূল্যবান কথাগুলার একটা কথা বলল, আমার হাসি খুশি মুখ দেখতে ভালো লাগে।


এই ইন্টারভিউ দেবার পর আর যত ইন্টারভিউ দিয়েছি আমার চাকুরি হয়েছে।আমার বন্ধুদের কয়েকজন যখন জব না পেয়ে হতাশ, তখন আমি শুধু ভালো লাগে না বলে চাকুরি পাল্টাতে পারি।

কারন আর কিছুই না। ইন্টারভিউ বোর্ডে কোন প্রশ্ন না পারলেও আমি হাসি। সিরিয়াস মুখে ইন্টারভিউ দেই না। আমি প্রথমে বলা সেই বাদামী কুত্তাটার মত আচরন করার চেষ্টা করি। আমার চেয়ে যোগ্যরাও জব পায় না, মামু চাচা না থাকার পরও আমি পাই। কারন যারা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তারা হাসিখুশি মুখ যোগ্যতার চেয়েও বেশি পছন্দ করেন।
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×