somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমাকে দেখেছি শ্রাবনে------------

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্ক জুবায়ের এর আত্মজৈবনিক পোস্ট “যেভাবে বেঁচে থাকতে হয়ঃ বেঁচে থাকার সহজ প্রনালী...”
পড়ে ভিতরের শান্ত পুকুরটা কিসের ছোঁয়ায় যেন অশান্ত হয়ে উঠলো। একটি ঢিল এসে পড়ল পানিতে। ঢেউগুলো ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। সারাটাদিন কিসের এক আস্থীরতা, অব্যাক্ত যন্ত্রনা।

কোথায় যেন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে তারই ঝাপ্টায় দেবদারু গাছগুলি হেলে হেলে পড়ছে আর ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জলকনা মাঝে মাঝে গায়ে এসে পরছে, দৃষ্টি মেলতেই দেবদারু গাছের ফাঁক দিয়ে, সেই ডাঃ রুমা ঘোষের বাসার সামনে মেরুন রঙের জামা পরা কাকলী নামের মেয়েটা যার হাতে একটা গিটার ওর সাথে আছে যূথী আর শিশির।

হ্যাঁ শিশিরই তো । ঐযে বলছে “এই তারাতারি চল্‌। আমি ফুটবল খেলতে যাব।“

আমি যখন ক্লাশ এইটে তখন শিশির এস এস সি পরীক্ষা দিল। রাস্তায় শিশিরকে দেখে যূথীদের দোতলার ছাদ থেকে আমি যখন ডাকলাম -“এই শিশির শোন” -- তখন শিশির উপরে উঠে এসে নির্জন চিলেকোঠায় দাঁড়িয়ে বলেছিল-“ আমাকে তুমি আর কখনও তুই করে বলবে না।“ আমি হেসে কুটি কুটি হয়ে বলেছিলাম-“ কেন তুই কলেজের ছাত্র হয়েছিস তাই। যা আর তুই বলব না।“ ও কি খুব আহত হয়েছিল আমার কথায়। যূথী আসার সাথে সাথে ওকে বলে দিয়েছিলাম শিশিরকে এখন শিশির ভাই বলতে হবে, আর তুমি করে বলতে হবে । ইউনিভার্সিটিতে গেলে আপনি বলতে হবে।

ওপাড়ার রাসেল আমাকে পছন্দ করে কথাটা জানার পর শিশির বলে ছিল খালি এ পাড়ায় আসুক টেংরী ভেঙ্গে হাতে ধরায় দেব । ওর রাগ দেখে বলেছিলাম “রাসেল খারাপ কোথায় কি সুন্দর দেখতে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে?” শিশির এত ক্ষেপে গিয়েছিল যে দুই হাত দিয়ে স্বরলিপির খাতাটা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে আমাদের রেখে চলে গিয়েছে। আমি আর যূথী একে অন্যের দিকে তাকিয়ে শিশিরর কে ডাকতে ডাকতে ওর পিছু পিছু চললাম বাসার উদ্দ্যেশে।

আমি যখন ইন্টারমেডিয়েট এর পরিক্ষার্থী তখন আমার জন্মদিনে শিশির আমাকে একটা ক্যাসেট উপহার দেয়। যার প্রথম গানটা ছিল ---তুমি নির্জন উপকূলে নায়িকার মত ----- আর শেষ গানটা ছিল ----তোমাকে দেখেছি শ্রাবণে---।

ইউনিভার্সিটিতে ক্লাশ শেষ করে বের হয়ে মাঝে মাঝে দেখেছি শিশির এসে দাঁড়িয়ে আছে করিডোরে।
বলত- “আমারও ছুটি তাই তোকে নিতে আসলাম। চল একসাথে বাসায় যাই।“
একদিন দুইদিন বোধ হয় বলেছে- “চল কোথাও বসি, আড্ডা দিয়ে তারপর বাসায় যাই।“
আমি ওর সেই প্রস্তাব ফু দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে বলতাম-“ তোর সাথে তো জন্মের পর থেকে আড্ডা দিচ্ছি এখানে আর কি আড্ডা দেব? তার চেয়ে বাসায় চল রেস্ট নেব।“ আমরা পাড়ার ছেলে মেয়েরা একই স্কুলে এক সাথেই বড় হয়েছি। সবাই ছিলাম সবার খুব আপন খুব কাছের। তাই শিশির আলাদা করে কিছু ছিল না আমার কাছে।

আমার যেদিন এঙ্গেঞ্জমেন্ট সেদিন ও বার বার এসেছে আমার কাছে পাশে বসেছে হেসেছে কত মজার মজার কথা বলেছে। রাত ১১টার দিকে আড্ডার মাঝে ও হঠাৎ করে আমার মাথায় হাত রেখে বলে উঠেছিল “খুব সুখী হবে জীবনে----“ আমি হেসে বলেছিলাম কথোপকথন-- পূর্ণেন্দু পত্রী।

বিয়ের রাতে মার কাছে গিয়ে শিশির বলেছিল “চাচী কাকলীকে না খুবই সুন্দর লাগছে।“

ঠিক দেড়মাস পর ওর নতুন কর্মক্ষেত্র নেত্রকোনায় যোগদান করতে যেয়ে মুখোমুখি বাস সঙ্ঘর্ষে শিশির সহ মোট ৩৫জন মারা যায়। মারা যাবার তিনদিন পর শিশিরের বড় বোন নিশা আপু আমাকে টেলিফোনে ওদের বাসায় ডাকে। আমি গেলাম। নিশা আপু একটা ডাইরী আমার হাতে দিয়ে বলল-- "এটা তোমার জিনিস তোমার কাছেই রাখো।"
আমি খুব অবাক হয়ে কিছু বলতে চাইলে নিশা আপু কিছু বলতে বাধা দিয়ে চলে গেল। ডাইরীটা নিয়ে বাসায় এসে খুললাম, পড়তে শুরু করলাম। পড়তে পড়তে কখন যে থেমে গেছি ভেবেই পাইনি,--- নিশা আপু ডাইরীটা কি তুমি আমাকে না দিলে পারতে না? যে কথা শিশির কোনদিনও বলতে পারেনি, তা কেন তুমি আমাকে জানতে দিলে? কেন জানালে?

ডাইরীটা আমি শেষ করতে পারিনি। বহুদিন পর আজ আবার খুলে নিয়ে বসলাম। আবারও থেমে যেতে হল। অকারনেই চোখের পাতা ঝাপসা হয়ে আসে। আবার ডুবে যাই সে সুদূর অতীতে।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×