somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালী ---জীবন দেবে তবু জাত দেবে না।

৩১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এই গল্পটি খন্দকার মোহম্মদ ইলিয়াছের --- কিন্তু আমার বাবার কাছ থেকে শোনা। যখনই কোন শুঁচিবায়ুগ্রস্থ লোকের কথা উঠত বা মানসিক সংকীর্নতা পুর্ন কাউকে দেখা যেত তখনই বাবা এই গল্পটি বলতেন।

আমার এক প্রতিবেশি আছেন তাকে দেখলেই আমার এই গল্পটি মনে পড়ে। সেই প্রতিবেশি হোটেলে তৈরী খাবার খান কিন্তু কোন মুসলমানের বাসায় জলও স্পর্শ করেন না। বাসায় আসলে যতক্ষন থাকেন দাঁড়িয়ে থাকেন কোথাও বসেন না। অফিস থেকে বাসায় এসে বাড়ির বাইরেই কাপড় জুতা খুলে-- কাপড় হাতে করে, গামছা পরে সোজা বাথরুমে চলে যান। কী ভাবে যে দিনানিপাত করেন সেটাই আমার বড় বিস্ময়।



অসীম জাতে ব্রাক্ষ্মন। গিয়েছে বিলেতে ট্রেনিং নিতে। কিন্তু শুচীবায়ুগ্রস্থ অসীম ভোলেনি তার বদনা আর খড়ম নিতে।

লন্ডনে যে বাসায় উঠেছে সেই বাসার ল্যান্ডলেডি চার পাঁচ দিন তাকে খেয়াল করে ডেকে বলল --তুমি ঐ হাতির শুঁরের মত পানির পাত্রটি কখনও টয়লেটে নিয়ে যাবে না। আর এত পানি ব্যবহার করবে না। টয়লেটের দেয়াল ও মেঝেতে পুরু ওয়াল পেপার মোড়া। পানি পেলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। তা ছাড়া মেঝেতে পানি থাকলে আমাদের ঘৃণা লাগে, আমরা পানি পরিষ্কার করতে অভ্যস্ত নই।
অসীম তাকে জিজ্ঞাসা করে, পানি না ব্যাবহার করে কি ব্যবহার করবে?? মহিলা তাকে কাগজ ব্যবহার করার কথা বলে। অসীমের জন্য মহিলা দিনে এক প্যাকেট করে টিস্যু পেপার দিতে রাজি। এতে অসীম ক্ষেপে যায় এবং বলে ম্লেচ্ছ দেশে এসেছে বলে সে তার জাত খোয়াতে পারবে না।
মহিলা তাকে হাসতে হাসতে বলে ঃ শুনেছি তোমাদের দেশের লোকজন নাকি মাটির ঢেলা ব্যবহার করে, মাটির চেয়ে কাগজ ভাল নয় কি??
অসীম তা মানতে একেবারেই নারাজ- ফলাফল ল্যান্ডলেডি তাকে পরদিন বাড়ি ছাড়তে নোটিশ দেন।

অসীম এবার নতুন বাড়িতে। এই ল্যান্ডলেডী একজন বৃদ্ধা। একদিন তার চিৎকারে বাড়ির সবাই বের হয়ে আসে। হাতের ইশারায় সবাইকে দেখিয়ে তিনি বলেন-- চক্রবর্তী সিঁড়ির দামী কার্পেটটি দুই দিনেই পঁচিয়ে ফেলবে। ডার্টি বোর্ডার কোথাকার।
অসীমতো ভয়ানক ক্ষেপে গেল তাকে ডার্টি বোর্ডার বলার কারনে। অসীমের রাগ দেখে বুড়ি বলল ঃদোষতো তোমার নয়, দোষ তোমার ঐ “উডেন স্যান্ডেলের।“ বাথরুম থেকে যখন বের হয়ে আসো তখন ঐ স্যান্ডেলের পানির দাগ কেমন করে কার্পেটে পরেছে দেখ, তা তুমি একজোড়া স্লিপার কিনে নিলেই এই সমস্যা হবে না।
অসীম তা মানতে রাজী নয়। সে বিলেত ছাড়তে পারে কিন্তু খড়ম ছাড়তে পারবে না। বুড়ি তাকে বলে ঃ--- তোমাদের দেশ পানি কাদায় পূর্ন সেখানে এই খড়ম না হলে চলে না কিন্তু এখানে তো কার্পেট এই জায়গায় তো স্লিপার ই যথেষ্ট।
অসীম বুড়িকে বোঝাল যে সে ব্রাক্ষ্মন তার পক্ষে খড়ম ছাড়া চলা সম্ভব নয়। অগ্যতা আবারও পরদিন বাড়ি ছাড়ার নোটিশ পেল সে।

বাড়ি খোঁজ়ার বিরাট ঝামেলায় সে পড়ল। সব বাড়িতেই টয়লেটে কাগজ মোড়া, নয় কার্পেট। বহু খোঁজা খুঁজির পর একটা বাড়ি পেল যেখানে কাগজ ও নেই কার্পেটও নেই। সিঁড়িতে একপাটি ভাঙ্গা খড়মও পরে থাকতে দেখা গেল। আসীম মহা খুশি। কে বলে এ দেশে সত্যিকারের মানুষ নেই-- ধর্ম নেই?! খুশিতে অসীম তৃপ্তির হাসি হাসে।

কয়েকদিন পরের ঘটনা।
অসীম চক্রবর্তী হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে নার্সদের বলে ঃ মাননিরা একটু জ়ল দাও। একটু জল দাও।
নার্স এনে দেয় গ্লুকোজ, অসীম বলে --“একটু তাল মিছরী গুলিয়ে জল দাও ।“ নার্সতো আর তাল মিছরি চেনে না। সাতদিন জ্বরে বেহুঁশ থাকার পর তার জ্ঞান ফিরল। তখন সে ডাক্তারকে ডেকে বলল ঃ “প্রতিদিন সূর্য উঠার আগে আমাকে প্রাতঃ স্নান করিয়েছেন কি??”
ডাক্তার তো অবাক ঃ “প্রাতঃস্নান???? এই জন্যই আপনার নিউমেনিয়া ধরেছিল। মরে যাবেন মশাই স্রেফ মরে যাবেন।“
অসীম তাকে বলল ঃ “ আমার বয়স হয়েছে চল্লিশ বছর, জ্ঞান হবার পর থেকে কোন দিন ও সূর্য আমার স্নানের আগে উঠতে পারেনাই। “

শীত প্রধান দেশের মানুষ ডাক্তারের গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। তার দাঁতে দাঁত লেগে ঠকঠক শব্দ হতে লাগল প্রায়।
আসীম তাকে বলে চলল ঃ ” সে বাংলাদেশের মানুষ। তদুপরি জাত ব্রাক্ষ্মন। সূর্যদয়ের পূর্বে স্রোতস্বিনীতে স্নানে মানস সরোবরে স্নানের ন্যায় পূণ্য পাওয়া যায়।

ডাক্তারও রসিকতা জানেন তিনি বললেন ঃ “তা প্রাতঃস্নান যদি করতেই হয় তবে পাইপের পানিতে না করে টেমস নদীতে যান না কেন? সেখানে স্রোত ও আছে পূন্যও বেশী হবে।“
অসীম বিজ্ঞের মত মাথা দোলাতে দোলাতে বলল ঃ “আপনাদের টেমস নদী হিমালয় থেকে নির্গত নয়। নিদেন পক্ষে যদি তাপ্তী - কাবেরীর মতো বিন্ধ্যচল থেকে ও উৎপত্তি লাভ করতো , তবে নিশ্চই যেতাম। কিন্তু এ যে হিমালয় বা বিন্ধ্যপর্বতের ধারে কাছেও যায়নি। একেবারেই ম্লেচ্ছ ও অচ্ছুৎ নদী এই টেমস।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×