তার বিদ্রোহী চেতনার সাথে অবলীলায় বলা যায় তিনি একজন প্রেমিক কবি। তার প্রেমের আকুলতা তার কবিতা গানে এমন ভাবে ফুটে উঠেছে যেন কবি স্বত্তার ভিতরের আবেদন, হৃদয়ের কান্না বুঝা যায়।
আমি কবির করিতাকে ভালবাসি তার গানকে ভালবাসি। কবিকে বা তার গানকে নিয়ে আলোচনা আমি করব না কারন সেই যোগ্যতা বা পড়াশুনা কোনটাই আমার নাই। আমি কবির একটি প্রেমের কবিতা এখানে তুলে দিচ্ছি। কবিতাটি আমার প্রিয় কবিতার একটি। পড়তে পড়তে চোখে পানি এসে যায়। কথাগুলি এত সুন্দর উপমাগুলি তুলনাহীন। [img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/akidaruna_1251355809_1-thumbnail4[1].jpg]
বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি ।
বিদায়, হে মোর বাতায়ন-পাশে নিশীথ জাগার সাথী!
ওগো বন্ধুরা, পান্ডুর হ;ইয়ে এল বিদায়ের রাতি!
আজ হ’তে হ’ল বন্ধ আমার জানালার ঝিলিমিলি,
আজ হ’তে হ’ল বন্ধ মোদের আলাপন নিরিবিলি।।....
অস্ত-আকাশ-অলিন্দে তার শির্ণ কপোল রাখি’
কাঁদিতেছে চাঁদ,’ মুসাফির জাগো নিশি আর নাই বাকী!;
নিশীথিনী যায়, দূর বন-ছায় ত্নদ্রায় ঢূলুঢুল্,
ফিরে ফিরে চায়, দু’-হাতে জড়ায় আঁধারের এলোচুল।-
চমকিয়া জাগি, ললাটে আমার কাহার নিঃশ্বাস লাগে?
কে করে ব্যজন তপ্ত ললাটে, কে মোর শিয়রে জাগে?
জেগে দেখি, মোর বাতায়ন-পাশে জাগিছে স্বপঞ্চারী
নিশীথ রাতের বন্ধু আমার গুবাক-তরুর সারি!
তোমাদের আর আমার আঁখির পল্লব কম্পনে
সারারাত মোরা ক’য়েছি যে কথা, বন্ধু, পড়িছে মনে!-
জাগিয়া একাকী জ্বালা করে আঁখি আসিত যখন জল,
তোমাদের পাতামনে হ’ত যেন সুশীতল করতল
আমার প্রিয়ার!-তোমার শাখার পল্লব- মর্মর
মনে হ’ত যেন তারি কন্ঠের আবেদন সকাতর।
তোমার পাতায় দেখেছি তাহারি আঁখির কাজল-লেখা,
তোমার দেহেরই মতন দীঘল তাহার দেহের রেখা।
তব ঝির্-ঝির্ মির্-মির্ যে তব কুন্ঠিত বাণী,
তোমার শাখায় ঝুলানো তারি শাড়ীর আঁচলখানি।
--তোমার পাখার হাওয়া
তারই অঙ্গুলি-পরশের মত নিবিড় আদর-ছাওয়া!
ভাবিতে ভাবিতে ঢুলিয়া প’ড়েছি ঘুমের শ্রান্ত কোলে,
ঘুমায়ে স্বপন দেখেছি,-তোমারি সুনীল ঝালর দোলে
তেমনি ওমার শিথানের পাশে। দেখেছি স্বপনে, তুমি
গোপনে আসিয়া গিয়াছ আমার তপ্ত ললাট চুমি’।
হয়ত স্বপনে বাড়ায়েছি হাত লইতে পরশখানি,
বাতায়নে ঠেকি, ফিরিয়া এসেছে, লইয়াছি লাজে টানি,
বন্ধু, এখন রুদ্ধ করিতে হইবে সে বাতায়ন!
দাকে পথ, হাঁক যাত্রীরা, ‘কর বিদায়ের আয়োজন।‘
--আজি বিদায়ের আগে
আমারে জানাতে তোমারে জানিতে কত কি যে সাধ জাগে!
মর্মের বাণী শুনি তব, শুধু মুখে ভাষায় কেন
জানিতে চায় ও বুকের ভাষারে লোভাতুর মন হেন?
জানি-মুখে মুখে হবে না মোদের কোনোদিন জানাজানি,
বুকে বুকে শুধুবাজাইবে বীণা বেদনার বীণাপাণি।
হয়তো তোমারে, দেখিয়াছি, তুমি যাহা নও তাই ক’রে,
ক্ষতি কি তোমার, যদি গো আমার তাতেই হৃদয় ভরে?
সুন্দর যদি করে গো তোমারে আমার আঁখির জল,
হারা-মমতাজে ল’ইয়ে কারো প্রেম রচে যদি তাজ-ম’ল,
---বল তাহে কার ক্ষতি?
তোমারে লইয়া সাজাব না ঘর, সৃজিব অমরাবতী!....
হয়তো তোমার শাখায় কখনো বসে নি আইয়া শাখী,
তোমার কুঞ্জে পত্রপুঞ্জে কোকিল ওঠে নি ডাকি’
শূন্যের পানে তুলিয়া ধিরিয়া পল্লব-আবেদন
জেগেছ নিশীথে জাগেনিক’ সাথে খুলি’ কেহ বাতায়ন।
--সব আগে আমি আসি’
তোমারে চাহিয়া জেগেছি নিশীথ, গিয়াছি গো ভালোবাসি’!
তোমার পাতায় লিখিলাম আমি প্রথম প্রণয়-লেখ
এইটুকু হোক সান্ত্বনা মোর, হোক্ দেখা।।...
তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না,
কোলাহল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙ্গিব না।
---নিশ্চল নিশ্চুপ
আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ।
শুধাইতে নাই, তবুও শুধাই আজিকে যাবার আগে--
ঐ পল্লব-জাফ্রি খুলিয়া তুমিও কি অনুরাগে
দেখেছ আমারে- দেখিয়াছি যবে আমি বাতায়ন খুলি’?
হাওয়ায় না মোর অনুরাগে তব পারা উঠিয়াহে দুলি’?
তোমার পাতার হরিৎ আঁচলে চাঁদিনী ঘুমাবে যবে,
মূচ্ছির্তা হবে সুখের আবেশে,- সে আলোর উৎসবে,
মনে কি পড়িবে এই ক্ষণিকের অতিথির কথা আর?
তোমার নিরাশ শূন্য এ ঘরের করিবে কি হাহাকার?
আঁদের আলোক বিস্বাদ কি গো লাগিবে সেদিন চোখে?
খড়্খড়ি খুলি চেয়ে রবে দূর আস্ত আলখ-লোক?-
---অথবা এমনি করি’
দাঁড়ায়ে রহিবে আপন ধেয়ানে সারা দিনমান ভারি’?
মলিন মাটির বন্ধনে বাঁধা হায় অসহায় তরু,
পদতলে ধূলি, ঊর্ধ্বে তোমার শূন্য গগন-মরু।
দিবসে পুড়িছে রৌদ্রের দাহে, নিশীথে ভিজিছ হিমে,
কাঁদিবারও নাই শকতি, মৃত্যু-আফিমে পড়িছ ঝিমে!
তোমার দুঃখ তোমারেই যদি, বন্ধু, ব্যথা না হানে,
কি হবে রিক্ত চিত্ত ভরিয়া আমার ব্যথার দানে!
ভুল ক’রে কভু আসিলে স্মরণে অমনি তা যেয়ো ভুলি।
যদি ভুল ক’রে কখনো এ মোর বাতায়ন যায় খুলি’,
বন্ধ করিয়া দিও পুনঃ তায়!...তোমার জাফ্রি-ফাঁকে
খুঁজো না তাহারে গগন-আঁধারে-মাটিতে পেলে না যাকে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

