somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শোওয়া বিভ্রাট

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আমাদের বাড়িতে সবাই মিলে যখন যাই তখন খুব মজা হয়। এর আগে এক পোস্টে লিখেছি একটি মজার ঘটনা। এবার আর একটি ঘটনা লিখছিমজার ঘটনা
সবাই মিলে গেলে আমাদের যে সমস্যাটা হয় সেটা হচ্ছে-- শোবার সমস্যা। গ্রামের অন্যান্য চাচাদের বাড়ির লোকজন এসে বলে-- “তোমাদের এত মানুষের জায়গা হবে না আমাদের বাড়িতে চল রাতে থেকে সকালে চলে এসো।“ কিন্তু আমরা কেউ যাই না। সবার মধ্যেই একটা ভাবনা আমি বাড়িতেই থাকবো। অন্য কেউ যাক। তাই কারোরই যাওয়া হয় না। এখানে একসাথে থাকাটাই আনন্দ।

হই চই করে রাতে শুতে শুতে প্রায়ই দুইটা তিনটা বেজে যায়। বিছানায় শুয়ে এই ঘর ও ঘর থেকে এর ওর সাথে টীক্কা টিপ্পনি করতে করতে কখন যে কে ঘুমায় তার কোন ঠিক নাই। শোবার ব্যাপারে আর কি বলব ? যে যেখানে পারছে শুচ্ছে। কেউ বিছানায় তো কেউ মেঝেতে। কেউ আবার ছোটবেলার মত খড় নিয়ে এসে মেঝেতে বিছিয়ে তার উপরে কাঁথা-চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়ে। মেঝেতে শোয় সাধারনত বুবুরা। সব বোন একসাথে শুয়ে গল্প করা যায়। আমি সব সময় খাট পাই হয়ত শহরের মেয়ে বলে অথবা বাচ্চা ছোট ছোট বলে। কিন্তু আমার বাচ্চাগুলি মেঝেতে শুতেই বেশি পছন্দ করে । দেখা যায় আমিই বিছানায় আর বাচ্চারা ওদের ফুপীদের সাথে মেঝেতে। আগেই বলেছি আমাদের গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি নাই।

শেলী আপার স্বামীর নাম জামান তাকে আমরা জামান দুলাভাই বলে ডাকি। আর আমার ভাশুরের নাম ও জামান ওনাকে আমরা দাদা বলে ডাকি। দাদার বউকে ভাবী বলে ডাকা হয়।

হঠাৎ করে রাত ১টার দিকে সোলার বিদ্যুত চলে গেল অর্থাৎ সবগুলি লাইট ও ফ্যান বন্ধ হয়ে গেল। কি কারন ?? কারন খুঁজে পাওয়া গেল আকাশ ছিল সারাদিন মেঘলা আর সন্ধ্যা থেকে সবগুলি ঘর বারান্দার লাইট ফ্যান চলার কারনে ব্যাটারীর চার্জ শেষ হয়ে গেছে। ( এখন অবশ্য এনার্জি বাল্ব লাগানো হয়েছে ব্যাটারীর চার্জ আর সহজে শেষ হবে না)।

যাই হোক এবার আর কি শোবার ব্যাবস্থা করা উচিত। আমার পিচ্চিরা যখন দেখলো আলো নেই হারিকেনের আলোই ভরসা তখন তারা সুবোধ ছেলেমেয়ের মত আমার কাছে এসে --ঘুমাবো ঘুমাবো --বলে ঘ্যান ঘ্যান করতে লাগলো আমিও সুযোগ বুঝে দুই পিচ্চিকে নিয়ে ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
বুবুরা বলল --আজ রাতে মেঝেতে বিছানা করি শুধু তোশত দিয়ে আর বাকিরা যেভাবে হয় ব্যাবস্থা হবে।

আমি বাচ্চাদের নিয়ে শুয়ে ঘুম পারাচ্ছি এবং সবার গল্পে আংশগ্রহন করছি। সবাই বাড়ীর ভিতরে উঠানে গোল হয়ে বসে গল্প করছে আর হাসা হাসি করছে। সবাই সবার পিছনে লেগে আছে। কে কবে কি করেছে না করেছে এই সব নিয়েই ভাই বোনদের গল্প খুনটুশি । ভাইবোনদের কারো কারো সাথে বছরে হয়তো এই একবারই দেখা হয়। একে একে ধীরে ধীরে সবাই শুতে চলে যাচ্ছে । যে ঘুমাবার সে ঘুমাবে আর যে আড্ডা মারার সে বিছানা থেকেই চিৎকার করছে।


ভাবী শেলী আপাকে বললেন “জায়গাতো নাই, এই রুমে মামুন আর তোর দাদা শুয়েছে তুই জামানের পাশে শুয়ে পড় যা-- জামান ওই ঘরে আছে।“
আমি বললাম “কে বলল জামান দুলাভাই ওই ঘরে !ঐ ঘরে তো দাদা ।”
ভাবী বলল “আমি তো নিজে দেখে এলাম। হারিকেন নিয়ে নিজের চোখে !! ”

এখানে তো আর কিছু বলা যায় না । যার স্বামী সেই ভাল চিনবে আমি কেন তর্ক করি। এরমাঝে যে একটা ঘটনা আছে তা আর ভাঙ্গালাম না ভাবীর কাছে। আমার শোনা কথা ঠিক নাও হতে পারে। তবে আমার মনে হল আমি যেন শুনলাম ---বড় ভাই বলছে মামুনকে “তুই আর আমি তো মোটা মানুষ, এই খাটে জায়গা হবে না তার চেয়ে আমি ওই ঘরে যাই। আর জামান শুকনা ও তোর সাথে থাক।“
শেলী আপা তো চললেন অন্ধকারে তার বর জামানের কাছে শুতে। বড়ভাবী এলেন আমার পাশে। হঠাৎ শুনি মামুন হো হো করে হাসছে। সঙ্গে জামান ভাই শেলীআপা বড়ভাই সবাই। ব্যাপার কি ভাই বাপার কি? খোঁজ নিয়ে জানলাম ------
শেলী আপা সব সময় জামান দুলাভাইক এর সাথে ধমকের সুরে কথা বলে। সেই সুরে সে বিছানায় যেয়ে দুলাভাইকে বলল “সরো তো! বাপের বাড়ী এসেও তোমার যন্ত্রনা? তুমি জানো যে আমি সামনের দিক ছাড়া শুই না ? সরো সরো ।“
তখন দাদা বলে উঠলেন “তুই নানী দাদী দুইটাই হয়েছিস তারপরও জামানের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলা শিখলি না।“
আর যায় কোথায়? মামুন আর জামান দুলাভাই এই ঘর থেকে উঠলো হেসে। ওই ঘরে দাদা। আর শেলী আপা তার জিহ্বায় একটা কামড় দিয়ে বলে উঠলেন “হায় হায় দাদা তুই এখানে।“

আর কি সারা রাত ঘুম হয়। হা হা হি হি করতে করতে রাত ভোর হয়ে গেল। আজান পরল । সবাই নামাজে গেল। চা চলে এল।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪১
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×