আমার বাড়ির উনি কিছুতেই মানতে চান না এমনকি বিশ্বাস ও করতে চান না যে, তার মাথায় একটি টাক হয়েছে বা হচ্ছে। যতই সান্তনা দেই না কেন , ---যে ব্যাক্তির টাকা আছে তারই টাক হয়
একদিন সেলুনে চুল কাটতে বসে দেখে তার পিছনে যে ব্যাক্তি বসেছে তার মাথায় কি সুন্দর ঘন চুল। কিন্তু মাথার মাঝে একটি ছোট্ট গোল টাক। আমার বাড়ির ওনার মনে বড়ই কষ্ট হল এই টাক দেখে। মনে মনে ভাবলো আহারে বেচারার এত্ত সুন্দর চুলগুলি পরে যাচ্ছে, টাক হয়ে যাচ্ছে। না জানি তার কত দুঃখ।
নরসুন্দর আমার বাড়ির উনির চুল কেটে দেবার পর পিছনের লোকটির চেহারা দেখবার জন্য পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে পিছনে কেউ নেই, দেয়াল জুড়ে শুধু একটি আয়না আছে। সেই আয়নায় তার নিজেরই মাথার প্রতিবিম্ব আবারও তার আয়নায় এসে পরেছে। আর সেই আয়নায় প্রতিফলিত টাক অন্যের টাক ভেবে অন্যের প্রতি যে করুনা ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল তা নিজের প্রতি হবার কষ্ট কিছুতেই সহ্য করতে পারলো না। তাই সে সেলুনে যাওয়া বন্ধ করে দিল।
আমার মায়া লাগে । আহারে বেচারা, টাক হবার কষ্টেই তার ভূড়ি উর্ধ্বাকাশ পানে ছুটছে। কত তেল কত হেয়ার ট্রিটমেন্ট যাতে চুল পড়ে না যার যাতে টাক না পড়ে। আমাকে টাকের বিবরন দিতে বললেই আমি বলি ---না না টাক পরেনি, যতটুকু পাতলা হয়েছিল সেখানে হালকা হালকা চুল হচ্ছে।
কিছুটা বিশ্বাস কিছুটা অবিশ্বাসের দোলায় দুলে আমাকে বললো --ছবি তুলে দেখাও তো দেখি কেমন চুল হয়েছে ? দেখালাম এবং খুব করে বললাম --ডিজিটাল ক্যামেরাতো সব পরিস্কার আসে ছোট ছোট নতুন চুলগুলি একটু কম দেখা যাচ্ছে। মন খারাপের কিছু নেই। চুল ধীরে ধীরে হবে।
(এখানে ছবিটা দিতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বেচারার মুখের দিকে চেয়ে খান্ত দিলাম। )
কিন্তু বিধীবাম। কাল কামেনী ফুলের গাছ লাগাবার সময় মেয়ে মোবাইলে তার বাবার ছবি তুললো আর এতে কামেনী গাছের সবুজ সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে তার মাথার টাক ফুটে উঠলো। আমাকে বার বার করে বলছে -- আচ্ছা গাছের কোন পাতা তো মরা নেই তবে আমার মাথার উপরে ব্রাউন কালারের এই ছোপ কেন? আমি বলি ---মনে হয় মরা পাতা। তখন ছিল পরে ঝড়ে পড়ে গেছে।
কিন্তু মেয়ে আমার যত জোড়ে সম্ভব চিৎকার করে বললো ------বাবা এটা তো তোমার মাথার টাক টা। আমি করুন চোখে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



