somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মালয়েশিয়া ভ্রমন (১ম পর্ব) রোমাঞ্চকরB-)

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যেদিন প্রথম মালয়েশিয়ার ভ্রমনের অফার পেলাম(আমার মামার কাছ থেকে)
তার ঠিক কদিন আগেই ব্লগার সত্যচারী মালয়েশিয়া ভ্রমনের এক ধারাবাহিক পোষ্ট দেয় ১ থেকে ৮ পর্যন্ত। কি দারুন coincidence

শুরু হয় নানা রকম প্লানিং। সত্যচারীর একের পর এক পোষ্ট আর সবার নানা রকম মন্তব্য
আমার মালয়েশিয়ার ভ্রমন সহজতর করে তোলে । আমি প্রাথমিক দিন নির্ধারণ করি ১৫ই ডিসেম্বর থেকে ২২শে ডিসেম্বর, দিন যতই আগায়, প্লান ততই চুড়ান্ত হয়। ফাইনালি ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ২৩শে ডিসেম্বর (বিমান) যাওয়া হয়।

শুরুতেই বলি ভ্রমনের শুরু ও শেষ ছিল নানা বিপত্তি/সমস্যা/ হা / না / ও নানা রোমাঞ্চকর আভিজ্ঞতা পুর্ণ। আজ শেষ করবো বিমানের উঠার আগ পর্যন্ত:

০১. প্রাথমিক যাওয়া কনফার্ম করার পর খবর পেলাম যে মামার শরীর খুবই খারাপ, ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন ৬ই ডিসেম্বর, প্রায় দেড় মাসের সব পরিকল্পনা শেষ।/:) কারণ কিছুদিন আগেই একই সমস্যার জন্য মামা হসপিটালাইজড হয়েছিলেন। পরে ৭ই ডিসেম্বর জানলাম তিনি যেতে পারবেন। শুরু হয় আবার প্লানিং..........

০২. আমি যে চাকুরী করি ৭ দিনের ছুটি অসম্ভব, তাই আগে থেকেই জিএম, ডিরেক্টর থেকে মৌখিক
ছুটি নিয়েছিলাম। সবচেয়ে সুবিধা ছিলো ডিসেম্বরের ১৫ থেকে ২৮ আমার কোন শিপমেন্ট ছিলোনা
ভিসা হলো ৯ তারিখ তাই আবার ছুটির ব্যাপারটা ১১ তারিখ রিকনফার্ম করলাম। সমস্যা হলো তার পরদিনই। চট্টগ্রামে ইপিজেডএ ইয়ংওয়ান শ্রমিক অসন্তোষ এর জের ধরে আমাদের অফিস ও কারখানা ২ দিন অফিস বন্ধ ছিল। আমার যাওয়ার ব্যাপারটায় আবার ব্যাঘাত ঘটে। এরকম একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে তখন আমার মালয়েশিয়া ভ্রমনের কোন চিন্তাই মাথায় আসছিলনা। কথা বলি মামার সাথে জানাই যেহেতু টিকেট এখনো করিনি, আমার টিকেট বাদ দিয়ে ২টা টিকেটিই করি, তিনি জানালেন, আমি এখন না গেলে তিনিও এখন যাবেনা, প্লান করবেন জানুয়ারীতে। ডিসেম্বর ১৪ তারিখে সব কিছু স্বাভাবিক হয় এবং জিএম এর সাথে আবার পরামর্শ করে যাওয়ার ব্যাপারটা কনফারর্ম করে টিকেট করলাম। { ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ২৩শে ডিসেম্বর (বিমান) }

০৩. শেষ বিপত্তি/রোমাঞ্চকর আভিজ্ঞতা সেদিনই। ১৬ই ডিসেম্বর সকাল ৭টার বাস গ্রীনলাইন (চট্টগ্রাম টু ঢাকা) বাস। বিমানের ছাড়ার সময় ছিল রাত ৮টা। রিপোটিং সন্ধ্যা ৬টা।
বিসমিল্লাই গলদ, আমাদের বাস ঢাকা থেকে আসেনি, দেড়ঘন্টা পর আরেকটি বাস যোগাড় করে ছাড়ে ৮:৩০মিনিটে। ফেনি পর্যন্ত ঠিকই ছিল, সমস্যা শুরু হয় চোদ্দগ্রাম থেকে।
চৌদ্দগ্রাম থেকে ময়নামতি আসতে লাগে প্রায় ২ ধন্টা। বাংলাদেশের সব গাড়ি / বাস / মাইক্রো / পিকআপভেন / ট্রাক / লরি যেন সেদিন ওই অঞ্চলে ছিল। আবাল বৃদ্ধবনিতা সকলেই যেন ছুটির বেড়ানোর হুমড়ি খেয়ে পড়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকা পর্যন্ত । ময়নামতি থেকে আরো ১০ কিলো যেতে লাগে আরও ১ ধন্টা । আমার সিডিউলটা বাসের ড্রাইভারকে জানাই এবং সে জানায় কোনভাবেই রাত ৯টার আগে সে ঢাকায় পৌছাতে পারবে না। বাসের ড্রাইভার ও কিছু যাত্রী আমায় পরামর্শ দেয় যে অন্যকোন পন্থায় ঢাকায় পেৌছানোর ব্যাবস্থা না নিলে বোকামী হবে। তখন ঘড়ির সময় ৩:১৫মি হাতে আছে ৩ ধন্টা , প্রায় আধা ধন্টা ব্যায় করে অনেক কষ্টে এক মাইক্রযাত্রীদের রিকোয়েষ্টে তাদের গাড়ীতে উঠার সুযোগ পাই।
শুরু হয় আরেক ফিলমী টাইপের ড্রাইভিং জার্নি।
ডানে বামে, মাঝে, রং ওয়ে, রাস্তায় ডান ও বামের কাচা মাটির সবই ব্যবহার করে ছুটে চল্লো মাইক্রেটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমি ওই গাড়ির মুরব্বির সাথে গল্প জুড়িয়ে দিলাম। সবাই আমাকে সান্তনা দিচ্ছিলো যে কোন চিন্তা না করার জন্য। মাঝে মধ্যে এমন এক জামে পড়ে যে সামনে পিছনে যাওয়ার কোন উপায় থাকেনা। বেশ কয়েক জায়গায় অন্য গাড়ির হামলার শিকার হয়েছিলাম রংওয়েতে গাড়ি চালানোর জন্য। পার পেয়েছি গাড়ির মুরব্বির দোহায় দিয়ে যে তিনি অসুস্থ ও ঢাকায় যাচ্ছেন জরুরী চিকিৎসার জন্য। (এটা সত্য)

শেষ পর্যন্ত সায়দাবাদ নামি ৬:৩৫মি

শুরু হয় আরেক অনিশ্চয়তার। হাজারো মানুষ কোন ট্রানপোর্ট নাই, সময় আছে ২৫ মিনিট। যারা ঢাকায় থাকেন তারা জানেন যে সায়দাবাদ থেকে এয়ারপোর্ট ২৫ মিনিটে(সন্ধায়) কোন ভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়। কোন এক ফেরেস্তা যেন আমার জন্য একটা ট্যাক্সি ক্যাব পাঠালো যেটা শত মানুষকে পেরিয়ে ঠিক আমার সামনে দারিয়ে বল্লো কোথায় যাবেনB-)
এয়ারপোর্ট বলে লাফিয়ে উঠলাম আমার ব্যাগ সহ। একটু চিন্তা করলাম এত মানুষ থাকতে আমার সামনে কেন দাড়ালো? কিছু স্বাভাবিক কথা বলে হুকুম করলাম যে আধা ঘন্টার মধ্যে পৌছাতে চাই। ড্রাইভার হেসে বল্লো রোড খালি হলেও সম্ভব নয়। যাই হোক ঢাকা শহরের অনেক চড়াইউৎরাই পেড়িয়ে ৭:২৫ মিনেটে এয়ারপোর্ট পৌছালাম। রিকোয়েষ্ট করে বোডিংপাস নিয়ে হাফ ছেড়ে বাচলাম।

বিমানের টিকেট করার জন্য আনেকেই আমাকে বল্লো কি করলাম? সেদিন বিমান ছিল ১০০% অনটাইম। আমি তাদের উদ্দেশ্যে তখন বলি দেখ বিমান কত্ত ভালো। অনটাইম। :D

বিমানযে কত্তো ভালোX((X( তা জানার জন্য এই পের্বের শেষ পোষ্টটি পড়ুন।

চলবে
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×