somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মালয়েশিয়া ভ্রমন (২য়পর্ব)B-)

০১ লা জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১ম পর্ব এখানে:- Click This Link

বোডিং পাস হাতে নেয়ার পর ইমিগ্রেশন ফরমালিটিস শেষে একটু গুছিয়ে নিলাম। সবাইকে ফোন করলাম যারা দুপুর থেকে আমার সাথে খুবই টেনশনে ছিল। আমরা ৩ জন ছিলাম, এর মধ্যে আমার মামার পাসপোর্ট ছিল ইউএস। এই ইউএস পাসপোর্ট কল্যানে আমাদের অনেক জায়গায় অনেক কাজ সহজ হয়। লাষ্ট চেকআপের সময় আফিসারেরা ভাব করলো যেন মাত্র ১০মিনিট আগে আসায় তারা যেন খুবই বিরক্ত। রানওয়েতে আমাদের বিমানের ফ্লাইটি দেখে মন খারাপ হলো, দেখতে কেমন যেন জীর্ণ, ভাবছি যেতে পারবোতো? তার থেকে আরো জীর্ণ অবস্থা আমাদের বিমানের ভিতরের খালাদের। আরো খারাপ অবস্থা বিমানের ভিতরের অবস্থা, কোন ডিসপ্লে মনিটর নাই, ইনডিভিজুয়েল ডিসপ্লে বাদ দিলাম, জানা যায়না যে কত উপর দিয়ে যাচ্ছি এবং কোন রুটে যাচ্ছি। পাইলট বাবাজিরও কোন হাকডাক পেলামনা শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত। নাই কোন হেডফোন। বাদ দেই বিমানের আবস্থা। আমি যেহেতু আমার চট্টগ্রাম-ঢাকা জার্নিতে কোন কিছু খাওয়ার সুযোগ পায়নি তাই বিমান পরিবেশিত প্যাকেট ডিনার এর তেমন সমালোচনা করলামনা। খালাদের কাছে যা কিছুই চেয়েছি ভোতা হাসিতে তা দিয়েছেন।

বিমান ঠিক সময়ে ল্যান্ড করলো কেএল এয়ারপোর্টে।আনুষ্ঠানিকতা সেরে আসন নেই বারগার কিং কাফেতে কারণ অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ৩ ঘন্টার মতো। এখানে একটা টিপস দেই, এয়ারপোর্ট থেকে বাসে যাবেন কারণ বাসের ভাড়া ১০ ভাগের ১ ভাগ ট্যাক্সির তুলনায় এবং ৩ ভাগের ১ ভাগ ট্রেনের তুলনায়। ডানবাম চোখ ফেরালেই দেখবেন কোন লেভেলে বাস ছাড়ে লিফট করে নেমে যান ো বাসের টিকেট করুন। { এয়ারপোট কোচ (কেএলআইএ টু কেএল সেন্ট্রাল) ১০ আর-এম পার পারসন }
আমরা রাওয়ানা দেই সকাল ৬ টায়।তাদের ওয়েব সাইট http://www.airportcoach.com.my

মালয়েশিয়ায় যেখানেই যাবেন আপনার ব্যাগ ও লাগেজ খুবই সতর্কতার সাথে হ্যান্ডলিং করবেন কারণ তারা কোন ট্যাগ দেয়না। আমার খুবই মুল্যবান হ্যান্ডব্যাগ আরেকজন ভুলে নিয়ে যেতে যাচ্ছিল। আমি যদি খেয়াল না করতাম তবে আমাদের তিনজনের পাসপোর্ট, টিকেট্, ক্যামেরা সবই যেত।

কেএল সেন্ট্রাল নেমে সব লাগেজ নিয়ে উঠে আসি কেটিএম কাউন্টারে এসে টিকেট করি মসজিদ জামেক। টিকেট করে চলে যাই নির্দিষ্ঠ স্থানে। একটা স্টেষন পরই মসজিদ জামেক। একটা বিষয়ে এখনো আমার একটা খটকা আছে যা সত্যচারী জবাব দিতে পারবেন। এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় আমি ড্রাইভারেক বলেছিলাম যে আমি মসজিদ জাকেম যাবো। কেএল সেন্ট্রাল পথের ৮/১০ মিনিট আগে অামার বাস ড্রাইভার আমাক নামতে বল্লো। খটকা এখানেই, এয়ারপোর্ট - কেএল সেন্ট্রাল – মসজিদ জামেক হয়ার কথা। কেএল সেন্ট্রাল আগে কেন?ভোর থাকায় ড্রাইভারের কথায় না নেমে কেএল সেন্ট্রাল গিয়ে মসজিদ জামেক যাই।

মসজিদ জামেক এসে আরেক সমস্য। আমাদের কোন হোটের বুক করা ছিলনা। যেহেতু পথ ঘাট কিছুই চিনিনা, পথের মানুষদের বিবেচনা করে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চাইলাম। যে হোটেলেই যাই রুম নাই, যেটার রুম পাই পছন্দ হয়না। একসময় আমি ওো আমার কাজিন ৭/১১ এক দোকানের সামনে বসে পড়লাম। আমার মামা ছুটলেন হোটেল খুজতে। শেষ পযর্ন্ত হোটেল পেলাম নাম................ ১৬০ আরএম। আমার পছন্দ হয়েছে কিনতু আমার মামার পছন্দ হয়নি কারণ হোটেলটা পুরানো এবং উনার মনের মতো পরিষ্কার নয়। আমার পছন্দ হয়েছে কারণ বেশ বড় রুম ১টা ডবল ওো ১ সিঙ্গেল বেড। আমাদের রুম থেকে কেএল টাওয়ার দেখা যায়। আমাদের কক্সবাজারের হোটেলের তুলনায় অনেক অনেক গুন ভাল, আর ফ্রী wi-fi

গরম পানিতে গোসল সেরে নাস্তা করে একটু হালকা ঘুরতে বেড়িয়েছি।শুক্রবার ছিল এবংো ক্লান্ত ছিলাম তাই দুরে কোথাও যায়নি।প্রথমেই একটা সিম নিয়েছি ডিজি তারপর হাটতে গিয়েই পেলাম, মাইডিন। সত্যচারীর পোষ্টে মাইডিন ছিল ২ নাম্বারে, তাই ঢুকলাম। কিছু কেনার জন্য নয় কারণ আরো ৬ দিন থাকতে হবে। আমাদের সাথে একটা লেপটপ ছিল যেটা ইউএসএ থেকে নতুন কেনা। ওোই লেপটাই হলো বিপত্তি। কিছু চকলেট/চিপস/পানি কিনে মাইডিন হতে বেরুতেই সিকিউরিটি হর্ণ বেজে উঠলো। মামার সাথেই ছিল লেপটপটা। তাদের একজন কর্মচারী এসে ব্যাগটা নিয়ে গেল যদিও ওোই ব্যাগটা তাদের প্লাস্টিক সিকিউরিটি লক ছিল। ব্যাগ চেক করে পেল ওোই লেপটপ এর সাথে একটা সিডি ছিল যেটাতে প্রাইজ বারকোড ছিল। পরে তারা আমাদের যেতে বল্লো। যে লোকটা আমাদের নিয়ে গেল তার ভাবখানা ছিল আজ তার প্রমশন ঠেকায় কে। তাদের ব্যবস্থাপনাটা আমার ভালো লাগেনি আর এ কারনেই দ্বিতীয় বার আর ওখানে যাইনি। আপনাদের কেো বলছি না যেতে। সবচাইতে দু৭খজনক ব্যাপার হলো ওই প্রমোশন প্রিয় লোকটা ছিল বাংলাদেশী আর তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেৌজন্যমুলক দুঃখিত শব্দটাও বল্লোনা।

হোটেলে ফিরে আরো রেষ্ট নিয়ে নামাজের জন্য রাওয়ানা হলাম হোটেলের কাছেই। ইচ্ছা ছিল মসজিদ জামেক এর প্রধান মসজিদে নামাজ পড়া। খুবই ক্লান্ত ছিলাম তাই কাছের মসজিদেই গেলাম। নামাজ পড়লাম না ঘুমালাম বুঝলাম না। প্রধান কারণ ছিল খুদবার কিছুই বুঝতে পারিনি(স্থানীয় ভাষা ছিল) ঘুম আটকানোর একের পর এক পন্থা নিচ্ছি আর ভাবছি কোখন খুদবা শেষ হবে।

নামাজ শেষে লাঞ্চ করে হোটেলে ফিরে দিলাম ঘুম। আমার ঘুম ভাঙলো সন্ধায়। তারা ঘুমাচ্ছিল তাই রুম লক করে একাই বেরুলাম। আবার বিপত্তি, বৃষ্টি। এত দুর এসে বৃষ্টি দেখে বসে থাকার কোন মানেই হয়না। শুরু করলাম হাটা। পেলাম শরিফা টেক্সটাইল। সত্যচারীর এই শরিফা টেক্সটাইল ছিল ১ নম্বরে, আসলেই ১ নম্বর, আমাদের সকল কেনাকাটা শেষ দিনে এখানথেকেই করেছি, আর মাইডিন চিল ২ নাম্বারে, আসলেই ২ নাম্বার। একে একে সবতালা ঘুরে ফিরে গেলাম হোটেলে গিয়ে দেখি তারা এখনো ঘুম। পরে তাদের নিয়ে আবার বেরিয়েছি মুলত আগামীকালের জন্য আরো একটি রুম পাওয়ার জন্য, আবারো অবাক হলাম কোন হোটেলে কোন রুম খালি নাই। তাই ব্লগার সবাইকে বলছি ইন্টারনেটে রুম বুক না করে কেও যেন কোন পিক সিজনে মালয়েশিয়ায না আসে।

আজ এ পযন্তই।

পরবর্তী পোষ্ট হবে গ্যান্টিং হাই ল্যান্ড।

ছোট্ট একটা মজার কথা বলি, খুব সকালে হোটেল খোজার জন্য যখন এদিক ওদিক ঘুরছি, তখন একজন মানুষের হ্যাল্প চাই কোন রোডে হোটেল পাওয়া যাবে, মজার ব্যাপার হচ্ছে ওই লোকটাও আমার দিকে আসছিল আমার হ্যাল্প নেয়ার জন্য কোথায় হোটেল পাওয়া যাবে।

টিপস: নতুন যে কোন জায়গায়, চলাফেরায়, ঘুরতে, বাস/ট্রেনে চড়তে সঠিক মানুষের নিকট থেকে বার বার পরামর্শ নিন। তাতে আপনার সময় ও খরচ দুইই বাচবে ও ভ্রমন আনন্দময় হবে। {সঠিক মানুষ বলতে, সিকিউরিটি গার্ড, ইনফরমেশন সেন্টার, লোকার ভালো মানুষ(নিজ বিবেচনায়) } প্রতিটি পয়েন্টে/মোড়ে আপনি সিকিউরিটি গার্ড, ইনফরমেশন সেন্টার পাবেন। তাছাড়া সাইনবোর্ডতো রয়েছেই।
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×