ফেলানি এ দেশের কোনো ইভটিজারের নাম নয়, পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামীও নয়, আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের জন্য হুমকিও নয়।
তার পরও তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার দোষ একটাই, সে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। তার এই পরিচয় বিএসএফের কাছে সহ্য হবে কেন? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএসএফ গঠন করা হয়েছে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করার জন্য।
প্রায়ই তারা কোনো না কোনো সীমান্তবর্তী মানুষকে হত্যা করছে। তাদের প্রতিদিনের কার্যসূচিতে বাংলাদেশীদের লাশ যেন একটা নতুন মাত্রা যোগ করে। তাই ফেলানীকে গুলি করেও তাদের মনে ভাবান্তরের সৃষ্টি হয়নি বরং নিষ্পাপ শিশুর পানি পানি বলে চিৎকার দেখে তারা শকুনের হাসি হেসেছে।
এ কথা বলার জন্য কোন জরিপ খোঁজার দরকার হয় না যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যে পরিমাণ মানুষ খুন হচ্ছে, তা পৃথিবীর আর কোনো দেশের সীমান্তে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা করছে না তারা। কখনও কখনও সীমান্ত অতিক্রম করে ভিতরে ঢুকেও মানুষ খুন করছে তারা। কিন্তু আশ্চার্যজনক হলেও সত্য যে এক্ষেত্রে সরকার টু-শব্দটিও করছে না এমনকি এদেশের যে তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো নাম না জানা ঘটনাতেও চিৎকার চেঁচামেচি করে ওঠে, তাদের দরাজ কন্ঠও এখন আর শোনা যাচ্ছে না।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের অনুসন্ধান অনুযায়ী গত ১০ বছরে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশী নাগরিক খুন হয়েছে ৯২২ জন। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৭৪ জন, ২০০৯ সালে ৯৮ জন, ২০০৮ সালে ৬২ জন, ২০০৭ সালে ১২০ জন, ২০০৬ সালে ১৪৬ জন, ২০০৫ সালে ১০৪ জন, ২০০৪ সালে ৭৬ জন, ২০০৩ সালে ৪৩ জন, ২০০২ সালে ১০৫ জন, ২০০১ সালে ৯৪ জন। অথচ এই সময়ের মধ্যে অনেকবার বিডিআরের-বিএসএফ-এর মধ্যে অনেকবার বৈঠক হলেও তা কাজে আসেনি।
হাল আমলে যে হত্যাকান্ডটি নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে তা হল ফেলানি হত্যাকান্ড। গত ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ ফেলানি নামে এক কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করেছে। কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তাকে গুলি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে না মরলেও মুমূর্ষু অবস্থায় সে কাটাতারে ঝুলে থাকে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা। সে গোঙ্গিয়েছে, পানি পানি বলে চিৎকার করেছে, তাতে বিএসএফ-এর মন গলেনি কিন্তু গলেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৈŠমতব। ফেলানী, তোমার মৃত্যু ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী ও তাদের হত্যাকান্ডকে মৌন সমর্থনদানকারীরা না কাঁদালেও একজন সাধারণ বাংলাদেশী হিসাবে আমাকে কাঁদায়। আমার বিবেককে ক্ষত-বিক্ষত করে। আমাদের মাফ করো ফেলানী।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


