মেজাজ চরমভাবে বিলা হইবার কারনেই এই সমাজ সংসার আর নাগরিক জীবনকাহিনী নিয়া লিখিতে বসিয়াছি।
“ঢাকার গুষ্ঠি কিলাই” এই অমার্জনীয় ভাষাখানা যেন আমার অন্তর হইতে শুরু করিয়া প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ বলিয়া যাইতেছে। সাধুভাষা লিখিয়াছি বলিয়া এই গল্পখানা কতটুকু পাঠকনন্দিত হইবে তাহা নিয়া আমি যথেষ্ট সন্দিহান। সে যাহাই হোক বাংলা ব্যাকরনের প্রতি শৃদ্ধা দেখাইয়াই আমি এই অভিজাত ভাষা বাছিয়া নিয়াছি আমার কথ্য গল্পটি লিখিবার জন্য। এইবার তাহাহইলে গল্প শুরু করা যাক:
সমাজ সংসারের প্রতি আমার হতাশা ছিল সেই উনিশশো কোয়াওর সাল(সাল খানা মনে নাই) থাকিয়া। এহেন হতাশার কারনও ছিল বিবিধ। প্রথম কারন হিসাবে আমি বলিতে চাই যে সমাজ আমাদিগকে বিবিধ অকাজ কুকাজ দিয়া ভরিয়া রাখে আবার সেই অকাজের জন্য দোষারুপ করিয়া আমাদিগকে শাস্তি প্রদান করিয়া থাকে। তেমনি একটি অকাজ আর তার শাস্তি আমি বর্ননারুপে উপস্থাপন করিব। পাঠক সমাজ আবার হাসিবেন না আমার ঘটনাখানা নিয়া।
ঘটনার আগের রাত্রিতে সংকল্প করিয়া ঘুমাতে গিয়াছিলাম যে আজ আমার জীবনে সেরা একটা দিন কাটাইবো। কোন মিথ্যা কথা বলিব না। কারন কাল একখানা বিশেষ দিন আমার জন্য। কাল আমাকে কিছু করিয়া দেখিতে হইবে। এই বার অফিস বুঝিয়া দেবো আমি কিছু করতে পারি আমি কোন বেকুব নই।
ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়াই খুশি মনে ব্রাশখানা হাত দিলাম। কিন্তু হায় টুথপেস্ট কোথায়? গতদুইদিন ধরে তাহা কিনিবো বলে আর কিনা হইল না। মেজাজ খানা গরম হইবার আগেই তাহা আমার অনুকুলে নিয়া আসিলাম। অগ্যতা শুধু মুখ খানা ধুইয়া বসিয়া পড়িলাম খাতা কলম নিয়া। সেই কবে খাতা কলম নিয়া লেখালিখি ছাড়িয়া ছিলাম তাহাও মনে করিতে পারিলাম না। আপন মনে কিছুক্ষন লিখার পর দেখিলাম যে আমার খাতার শেষ পৃষ্ঠাতেই আমি লিখিতেসে। সারা রুমে খুজেও একটা আস্ত পৃষ্ঠা পেলামনা লিখার জন্য। আহারে আমার বক্তব্য।আজই তাহা উপস্থাপন করিত হইবে তাহা দিয়াই আমার চমকখানা দেখাইতে হইবে।
যাহা হোক বন্ধু পরেশকে ১০ বার মোবাইল কল দিলাম কিন্তু তাহার কোন খবর নাই। মেজাজখানা আবার গরম হইতে গিয়াও ঠান্ডা রাখলাম। কারন আজ আমার বিশেষ দিন। সে হয়ত তাহার বিশেষ কাজে ব্যস্ত। বউকে নিয়া হয়ত এখন ঘুমাইতেসে। অফিসের প্রস্তুতি নিতে থাকিলাম। সার্ট প্যান্ট পড়িয়া একেবার ফিটফাট বাবু হইয়া গেলাম।
বিশেষ প্রয়োজনে এবার তো টয়লেটে যাওয়া লাগিবে। বিশেষ বড়কর্ম টি করিবার সময় ই পরেশ কলখানা দিল। কথা বলে নিলাম যদিও তাহার থেকে কথা বলিয়া বরাবরের মত কোন উপকার হইল না। মোবাইল খানা পকেটে রাখতে গিয়া হাত ফসকে পড়িয়া গেল কমোডে। আহহহ রে মোবাইল পানির অতল গহবরে যেন হারাইয়া গেল। মেজাজ খানা চড়িয়া গেল।
আজ আমি অফিসে একটি নতুন প্রোডাক্টের আইডিয়া নিয়া একটি প্রদর্শনী করিবো। সেইখানে আবার অনেক বিদেশী থাকিবে। তাই আজ আমার জন্য একখানা বিশেষ দিন। “দরিদ্রের দারিদ্রতা দূরীকরনে ফেয়ার-এন্ড-লাইলির অবদান”শীর্ষক বক্তব্য দিবেন আমাদের কোটিপোতি জিএম স্যার তার এই বক্তব্যের সময় সবাইকে আবার উপস্থিত থাকিতে হইবে।
বাসের জন্য গত একঘন্টা ধরিয়া লাইনে দাড়াইয়া আছি। তাহার যেন কোন খবর নাই। বাস একখানা আসিলো একঘন্টা তেইশ মিনিট পর। আসিবার পরই শুরু হয়ে গেল ধাক্কাধাক্কি। আমরা লাইনের যাত্রি উঠিবার আগেই কতিপয় ভদরলোক(ভদ্রলোক) উঠে তাহাদের বাপের রেজিস্ট্রি করা সিটে গিয়া বসিয়া পড়িল। একটু আগেও এইলোকগুলাই লাইন সোজা রাখার জন্য রীতিমত চিল্লাচিল্লি করিতে ছিল। বাসে উঠিয়া বসিলেও কিছুদুর যাবার পড়ই যেন তাহা থমকে দাড়াইয়া গেল। কারন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রি রাস্তা খান দিয়া যাইতেছেন। যেন জনগনের মরিতে আপওি থাকিবেনা যদি প্রধানমন্ত্রি রাস্তাদিয়া যায়।
১০ টার অফিস ১১ টায় প্রবেশ করিলাম। আজ না জানি কি আছে কপালে। বসকে তো রোজ রোজ ট্রাফিক জ্যামে অজুহাত দেওয়া যাইবে না। ঢুকিবার পর নিজের চেয়ারে বসিতে না বসিতে পিয়ন আসিয়া বলিল যে বড় স্যার নাকি আমার চেহারা মুবারক দেখিতে চাহিতেছেন। বুঝিলাম আমার রুপ লাব্যনের জন্য নহে অন্য কোন কারনে উনি আমাকে ডাকিয়াছেন। যাহা হোক গেলাম উনার রুমে।
উনি আমাকে ঝাড়ছেন ইচ্ছামত। তবে কারন ঠিক ধরতে পারিলাম না। মেজাজ খান আবার গরম হইতে শুরু করিল। বের হয়েই দেখা হয়ে গেল ডিউটি অফিসারের সাথে। একটা বিশেষ রহস্যময় হাসি দিয়া উনি জানালেন একটি বিশেষ কাজে আমাকে এখনই ময়মনসিংহের ব্রান্চে যাইতে হইবে। আমি তাহাকে জানাইলাম যে আমার আজ সেমিনার আছে বিদেশীদের সাথে। এখনও কিছু প্রস্তুতির বাকি রহিয়াছে। তাহা শুনিয়া আমার দিকে মুচকি হাসিয়া বলিলেন যে সমস্যা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূন আপনার মত দক্ষলোকে তাহা করিতে বেশিক্ষন লাগিবে না। তাহার মুখে এমন তৈলাক্ত বানী শুনিয়া আমি যাইতে রাজি হইলাম।
মহাখালি থাকিয়া সিটিং সার্ভিসে উঠিয়া দেখিলাম আমিই বাসে একমাএ এক্সট্রা মানুষ। তাই বাসে দাড়িয়ে থাকতে হল, মেজাজখান আবার গরম হইয়া গেল। তিন ঘন্টা হইয়া গেল কিন্তু বাস এখনো সাভার পার হইতে পারিলো না। আজ নাকি আমাদের বিরোধীদলের নেত্রীর রোডমার্চ। এই দুইজন মিলিয়া যেন দেশটাকে কিনিয়া নিয়াছে।
যাইহোক দুপুর তিনটার পর ময়মনসিংহ ব্রান্চে প্রবেশ করিলাম। সমস্যা শুনিয়া দেখলাম যে নেটওয়ার্ক ক্যাবলটা লুজ সংযোগ হইয়াছিল। যার কারনে তাহার ইন্টারনেটে আমাদের সফট্ওয়্যারে কাজ করিতে পারছিল না। মেজাজ আর চড়িয়া বসিলো। বের হইব ঠিক তার আগ মূহুর্তে ব্রান্চের ম্যানেজার একটু ডাক দিয়া তাহার রুমে নিয়া গেল। তাহার পর আমাকে বলিল যে সে কিভাবে ফেসবুকে ছবি এড করবে তাহা যেন তাহাকে দেখাই। এই কারনেই নাকি সে হেড অফিসে কল করিয়াছিল। রাগে দু:খে মাথার চুল ছিড়িতে ইচ্ছা করিতেছে। সব কাজ শেষ করে ৩.৫৫ মিনিটে বাসে উঠিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। বড় বস আমাকে ফোন করিয়া বলিলেন যে ৫ টার মধ্যে আমাকে ঢাকায় উপস্থিত হইতে হইবে। আমার কিছু বলার আগেই তিনি কলখান কাটিয়া দিলেন। আমি এখন কি করি?
বিমান উপস্হিত হইলেওতো এত তাড়াতাড়ি আমি ঢাকায় পোঁছাইতে পারিবো না। ঠিক ৫.৫৫ মিনিটে বস আবার কল করিলেন যখন আমি সাভারে পোঁছাইছি মাএ। দিয়েই যাহা বলিলেন তাহা হইল আমাকে কাল থেকে আর অফিসে আসতে হবে না। আমার জায়গায় অন্যলোক তিনি নিয়া নিবেন। কাল থেকে আমার আনলিমিটেড ছুটি। মেজাজ আর নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারিলাম না। মোবাইলখানা ছুড়ে মারলাম বাসের জানালা দিয়া। রাস্তায় পাইড়া তাহা ভাইঙ্গা টুকরা টুকরা হইয়া গেল। আমার ঢাকা পোঁছাইতে পোঁছাইতে রাত ১১ টা বাজিল।
“এখন মেজাজ তাই আমার বিলা
কিলা ওরে ঢাকা আর চাকুরীকে কিলা। “
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


