এটি একটি সাদা মনের মানুষের গল্প।
গল্পটি যাকে নিয়ে তার নাম ফেরদৌস আলম তপন। বেড়া উপজেলার সিংহাসন গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশের স্বনামধন্য সাহিত্যপত্রিকা কালি ও কলম ও গ্ল্যমার পত্রিকা আইস টু ডে পত্রিকায় দীর্ঘ তিন বছর সুনামের সাথে চাকরী করেন। ভাল বেতনে সন্তোষজনক বেতনে চাকরী করলেও তার মন পড়ে থাকে গ্রামের মাঠ, ঘাট, ধুলো-বালির দিকেই। নিজের জেলা শহর পাবনায় গিয়ে একটি কলেজে
যোগদান করেন। সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মালেও তার মন পড়ে থাকে গ্রামে। সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য কিছু করার জন্য মন কাঁদে। কলেজের চাকরী ছেড়ে দিয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শুরু হয় তার প্রকৃত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ চলা...। নিজ গ্রামের বোরামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদনের পর দেখেন তাদের বিদ্যালয়ের দৈন্যদশা। দীর্ঘ ১৫ বছর যে স্কুলে বৃত্তি পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী পাশ করতে পারতো না সেই স্কুল থেকে প্রথম বছরে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বেড়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করেন। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাশ নেওয়ার পরও স্কুলের গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ডেকে এনে বিনা বেতনে সকাল-বিকাল কোচিং দিয়ে থাকেন। এছাড়াও সন্ধার পর ছাত্র/ছাত্রীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন। দরীদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের নিজের বেতনের টাকা দিয়ে খাতা-কলম-পেন্সিল কিনে দেন। প্রতি বছর প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ছাত্র/ছাত্রীকে তিনি বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন। ছাত্র/ছাত্রীদের সুখের জন্য নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়েছেন। ঢাকা ছায়ানট থেকে নজরুল সংগীতের শিক্ষা গ্রহণ করা এই শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের নানা রকম আনন্দদানের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তার ক্লাশে কোন শিক্ষার্থীই অমনযোগী থাকে না। তার এই শিক্ষা পদ্ধতিই শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফল করাচ্ছে বলে জানায় স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীরা। মাত্র ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ শিক্ষক জীবনের সূচনায়ই তার যে সুকীর্তি স্থাপন করছেন তা আমাদের সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা উচিত। এমন একজন শিক্ষককে কি আমরা সাদা মনের মানুষ বলতে পারি না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




