somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে খোলা চিঠি

২৬ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৩ জুনের ‘প্রথম আলো’র ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় বাংলাদেশের সমস্যাকবলিত শিক্ষাব্যবস্থার উপর মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়েছে। সাক্ষাৎকারে জাফর ইকবাল স্যার সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কারণ এখানে মুখস্ত করার সুযোগ কম। আমরাও সৃজনশীল পদ্ধতির উপর চরম আশাবাদী ছিলাম। কেননা সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পেছনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল- শিক্ষার্থীরা যেন মুখস্ত না করে। শুধুমাত্র তার নিজের ভেতরের সৃজনশীলতা দিয়ে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখবে। অথচ, সফল হয়নি গবেষকদের প্রচেষ্টা। আশাহত হলাম সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম বছরের এস.এস.সি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতিটি বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নগুলিই বাজারের প্রচলিত গাইড বই থেকে হুবহু কমন পড়েছে। তাহলে কেন এই সৃজনশীল পদ্ধতি? জাফর ইকবাল স্যার বাজারের গাইড বই না কিনতে অভিভাবকদের আহবান জানিয়েছেন। স্যার হয়তো ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরের নামী-দামী কিছু স্কুল-কলেজ সম্পর্কে অবগত আছেন। আপনার ধারণা আর বাস্তবের মধ্যে কতটা অমিল-এটা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমেই মফস্বলের চালচিত্র সম্পর্কে অবগত হতে হবে।
বস্তুত এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণশীল হলেও মফস্বলে শিক্ষার গুণগত মান ক্রমাগত এতটাই অবনতির দিকে যাচ্ছে যে, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কেউ এটা অনুধাবন করতে পারবেন না।
দেশের গ্রামাঞ্চলে বিস্তর সংখ্যক বেসরকারি স্কুল-কলেজ আছে। অথচ, নেই সেখানে উপযুক্ত শিক্ষক। মফস্বলে শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ দুটিতেই রয়েছে যোগ্যতার অভাব। শিক্ষাজীবনে দু’চার বার অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাই এলাকার মাতব্বর প্রধানদের কাছে ধর্ণা দিয়ে ও মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে স্কুল-কলেজে শিক্ষকতা করতে নেমেছেন। তাছাড়া উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভাব তো আছেই।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে প্রবেশ করতে পারছে না মফস্বলের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ঢাকার শিক্ষার্থীরা জিপিএ ৪ পেয়েও মেডিকেল-বুয়েটসহ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে। মূলত ঢাকার শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে চৌকষ শিক্ষকদের সান্নিধ্য। সুতরাং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতির ইতিবাচক দিক থাকলেও মফস্বলের প্রশিক্ষণবিহীন ও অযোগ্য শিক্ষকরা কিভাবে তাদের ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান করবেন? গাইড বইয়ের বদৌলতে তারা কাসে গিয়ে অন্তত ২০/৩০ মিনিট সময় ছাত্রদের সামনে বসে থাকতে পারেন। গাইড বই বন্ধ হলে এই সমস্ত শিক্ষকরা কী শিক্ষা দান করবেন-তা কিন্তু নীতি নির্ধারকরা ভেবে দেখেন নি। আমি মফস্বলের যে স্কুলে লেখাপড়া করেছি, সেখানকার শিক্ষকরা ‘মসলিন কাপড়’কে সবসময় বলেছেন ‘মুসলিম কাপড়’ এবং ‘গ্রীষ্ম ঋতু’র উচ্চারণ করেছেন ‘গ্রীষমো ঋতু’। এমন আজব আজব মানুষ শিক্ষকতা করেন মফস্বলে, ফলে উপায়হীন হয়েই ছাত্রছাত্রীরা এমন কি অভিভাবকরাও গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে। যা কখনও কাম্য নয়। এই পদ্ধতি চালুর পূর্বে নীতিনির্ধারকরা বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেই এই পদ্ধতি চালু করেছেন-এটা অবশ্যই ইতিবাচক ও প্রশংসার দাবীদার; কিন্তু তাদের কি উচিৎ ছিল না পদ্ধতিটি চালুর পূর্বে নিজেদের দেশের মফস্বলের শিক্ষার হালচাল সম্পর্কে অবগত হওয়া? আমি অবশ্যই সৃজনশীল পদ্ধতির পক্ষে। তবে আমার মত অনেক সাধারণের অনুরোধ- আপনারা পদ্ধতি চালু করার পূর্বে গাইড বই বন্ধ করুণ ও অযোগ্য-অদক্ষ শিক্ষকের পরিবর্তে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগদানের ব্যবস্থা করলে সৃজনশীল পদ্ধতি অনেক ফলপ্রসূ তবে, নতুবা উল্টো এক কুয়াশাচ্ছন্ন পথ ধরে চলতে থাকবে আমাদের শিক্ষালাভ, মেরুদণ্ড সুগঠনের প্রক্রিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১০ সকাল ৮:২২
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×