রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্ট বাতিল হচ্ছ।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নামে অবৈধভাবে ইস্যু হওয়া সব পাসপোর্ট বাতিল হচ্ছে। শরণার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে যারা ইতিমধ্যেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করেও নেয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নামে ভবিষ্যতে যাতে আর কোন পাসপোর্ট ইস্যু না হয় সেজন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট ইস্যুর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাসপোর্ট ইস্যুর আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথাও আবার চালু করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, কক্সবাজারসহ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বসতি স্থাপনকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিদেশ গমন আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এমনি অবস্থায় এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে ঢাকার বাইরে থেকে জরুরি পাসপোর্ট ইস্যু বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের পাসপোর্ট নিয়ে যেসব রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জামিয়েছে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে। সংশিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমানে- বিডিআর ও পুলিশের নিরাপত্তা টহল জোরদার এবং নাফ নদীতে অতিরিক্ত কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বেশকিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। এতে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। ফলে ওইসব দেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্যও মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। সূত্রমতে, জরুরি পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়মনীতির শিথিলতার সুযোগ নিয়ে শুধু রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই নয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীরাও রাতারাতি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পালিয়ে গেছে। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় অবৈধ বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নানাবিধ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি ছাড়াও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ও পরিবেশ বিনষ্ট করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে বিয়েসহ সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলেছে। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার ও মেম্বারদের সহযোগিতায় নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে ভোটার হয়েছেন। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ১০টি উপজেলার খসড়া ভোটার তালিকা বাতিল করে পুনঃ ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে। নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে না পারলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবক’টি জেলায় তাদের বসতি ছড়িয়ে পড়বে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী গত কয়েক মাসে সৌদি আরব, কানাডা ও সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে দেয়া একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলায় বর্তমানে অবৈধভাবে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। স্থানীয় কিছু এনজিও ও সমাজপতি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও রিপোর্টে উলেখ করা হয়েছে। ১৮০ কিলোমিটার নাফ নদীর বাংলাদেশের সীমানে- রয়েছে ৭০ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আলাপকালে সৃরাষ্ট সচিব আবদুস সোবহান সিকদার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশকালে বিডিআর ও পুলিশের হাতে দেড় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী গ্রেফতার হয়েছে। পরে তাদের মধ্য থেকে এক হাজার ২০০ জনকে মিয়ানমারে পুশব্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই অঞ্চলে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করছে। কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমানে- অবৈধ চোরাচালান কাজেও তারা জড়িত।
সুত্র: Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




