লিবিয়ার গাদ্দাফির পতনের পর, সবার চোখ এখন ইরানের দিকে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন ইরান হতে পারে পরবর্তী টার্গেট পশ্চিমা চ্যালাদের। কারন ইরানের পরমাণু কার্যক্রম। ইরান বারবার বলে আসছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই পরমাণু শক্তির ব্যবহার করবে। কিন্তু পশ্চিমারা এটি মানতে নারাজ, কারন তাদের কলিজার টুকরা ইসরাইল যে বেশী দূরে নয়। এর জন্য তারা কোন রিস্ক নিতে রাজি না। ইসরাইল ও চায় মনে প্রানে ইরানকে একটি ধাব্রানি দিতে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ইরানের পাশে সৌদি আরব ও নেই। উইকিলিক্স থেকে প্রাপ্ত বার্তায় দেখা যায়, সৌদি আরব অনুরধ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা করার জন্য।
এই পৃথিবীতে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। পশ্চিমাদের স্বার্থের ভিতরে হলে সবকিছু মানবাধিকার কিন্তু ব্যঘাত ঘটলে মানবাধিকারের চরম লংগন। খুব সহজ হিসাব, যদি আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ইসরাইল, পাকিস্তান, ভারত, রাশিয়া পরমাণু বোমার মালিক হতে পারে তাহলে ইরান কি দোষ করল? ইরানকে মানা করার আগে যেসব দেশ পরমাণু বোমার মালিক তাদের লজ্জা করে না, নিজেরা পারমানবিক বোমা বগলে রেখে অন্যকে ছবক দিতে! নাকি ইরান মুসলমান বলে, ইসরাইলের পাশে বলে এত মাথা ব্যাথা!
এই সুযোগে মার্কিনীরা পেয়ে বসেছে ইরানকে। অনেক ধরনের অবরোধ আরোপ করেছে। এই অবরোধের একটি অংশ হিসাবে ইরান নতুন কোন বিমান কিনতে পারছেনা। এমন কি পুরনো বিমানের যন্ত্রপাতি ও পার্টস ও কিনতে দেয়া হচ্ছে না। আপনারা জানেন এখন বিমান বিক্রি করে আমেরিকার বয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস। সবাই ইরানকে না করে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে ইরানকে অন্য এয়ারলাইন্স থেকে পুরনো বিমান কিনতে হচ্ছে। এমন কি ইউকে, জার্মানি, ও মুসলিম ভাই (?) আরব আমিরাত ইরানের বিমানকে সেদেশ থেকে তেল ভরতে দেয় না। চিন্তা করেন আমরা মুসলমানরা আসলে কি ভাই ভাই? অনেক সমালচনার পর শুধু দুবাইয়ে ইরানের বিমান গুলো তেল ভরতে পারছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে ৬ জুলাই, ২০১০ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ঘোষণা দেয় তারা খুব শিগ্রি ইরানের সকল বিমানকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারন দেখিয়ে আর ইউরোপের কোন দেশে অবতরন করতে দিবে না। কারণ ইরানের বেশিরভাগ বিমান অনেক পুরনো। একদিকে নতুন বিমান কিনতে দিবি না আবার পুরনো বিমান বলে তোদের দেশে নামতে ও দিবি না। এটা কোন মানবাধিকারে লেখা আছে ?
এই বছর থেকে ইউরোপের সব দেশ ইরানের বিমানের তেল ভরার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর কিছুদিন সার্বিয়ার বেলগ্রেড থেকে কাজ চলছিল। তারাও মার্কিন প্রেসারে বন্ধ করে দিয়েছে। একি পথে হেঁটেছে নিরপেক্ষ মুখোশ নিয়ে থাকা সুইজারল্যান্ড। এখন ইরানের বিমান শুধু ইউক্রেন এর কিয়েভ এ একমাত্র ভরসা হিসাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কইদিন এই সুবিধা থাকে আল্লাহ জানে। এটি বন্ধ হলে ইরানের কোন বিমান আর ইউরোপের আকাশে দেখা যাবে না।
এর মধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং মারা গেছে অনেক নিরপরাধ যাত্রী। এসব বিমান দুর্ঘটনার কারন হিসাবে অন্যতম একটি কারন ইরানকে নতুন বিমান কিনতে না দেয়া ও পুরনো বিমানের মেরামত করতে না দেয়া ও যন্ত্রাংশ ও পার্টস ইরানকে সাপ্লাই দিতে না দেয়া। এই সবের পেছনে আছে বিশ্বের মানবাধিকারের এক নম্বর ফেরিওয়ালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমার প্রশ্ন ইরানের মানুষ গুলো কি ভিন গ্রহ থেকে আসছে? ওরা মানুষ না?
তথ্য সুত্র- ইন্টারনেট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


