মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কর্মী কি কান্ডটা করল!
ঢাকা থেকে এক গার্মেন্টকর্মীকে অপহরণ করে কক্সবাজার নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে গলার একাংশ ও জিহ্বা কেটে দিয়েছে রাজধানীর রামপুরা এলাকার যুবলীগ কর্মী খোকন এবং তার এক সহযোগী। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গার্মেন্টকর্মীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। ঘটনার পর যুবলীগ কর্মী খোকন ও তার সহযোগী পলাতক।
মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাস্থল নিয়ে রামপুরা ও চট্টগ্রামের কক্সবাজার মডেল থানার মধ্যে রশি টানাটানি হওয়ায় কোনো থানায় মামলা দায়ের করা যাচ্ছে না। রামপুরা এলাকা থেকে মেয়েটি অপহৃত হলেও এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী খোকনের বিরুদ্ধে ওই থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি।
জানা যায়, পূর্ব রামপুরা কুঞ্জবন রোডের বাসিন্দা ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী খোকন টিভি রোডের ৩৪০ নম্বর বাসার মৃত বাতেনের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রণয়ের তিন মাসের মাথায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে গত ৫ ডিসেম্বর মিয়েটিকে কক্সবাজার সাজ্জাদ কটেজ রেস্ট হাউসে নিয়ে যায় খোকন ও তার এক বন্ধু। মেয়েটিকে হোটেল কক্ষে আটক রেখে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেয়েটির গলার একাংশ ও জিহ্বার দুই পাশ কেটে দেয়। মেয়েটি মারা গেছে ভেবে তারা পালিয়ে যায়।
গত ৮ ডিসেম্বর ভোরে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় কটেজ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটি পড়ে আছে। দ্রুত চিকিত্সার জন্য প্রথমে তাকে কক্সবাজার মেডিকেলে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে মেয়েটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
এদিকে মেয়েটির পরিবার জানায়, এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী খোকন ও তার সহযোগীদের নামে মামলা করতে গেলে রামপুরা থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তাদের থানা থেকে বের করে দেয় পুলিশ। তারা আরও জানায়, খোকনের বিরুদ্ধে মামলা না করতে আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতা হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে রামপুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল কক্সবাজার হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ওই থানাতেই মামলা করতে হয়।
অন্যদিকে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার বলেন, এটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের পর হত্যার চেষ্টা। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়েটির ভাই তৌহিদকে অভিযোগ নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


