somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন কখনো হারায় না (কপি-পেস্ট পোস্ট)

১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন পেপার পড়তে গিয়ে এই রিপোর্টটা পড়ে ভালো লাগলো।তাই আপানদের সাথে শেয়ার করলাম। :)

সফলদের স্বপ্নগাথা ইন্টারনেট জগতে সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে কে না চেনে। ল্যারি পেইজ এই গুগলের উদ্ভাবক। আজ থেকে ১২ বছর আগে ১৯৯৮ সালে ল্যারি ও তাঁর বন্ধু সার্জি ব্রিন মিলে গুগলের যাত্রা শুরু করেন। গুগলের স্বপ্নদ্রষ্টা লরেনস ল্যারি পেইজ ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ২ মে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতাটি দেন।

অনেক দিন আগের কথা। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিভিন্ন কাজ থাকত। তারই একটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রান্নাঘরের দেয়াল ও ছাদ থেকে ময়লা পরিষ্কার করা। আর ওই ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে মা ও বাবার পরিচয়। সুতরাং আমার আসা সেখান থেকেই। আমার বাবা এই মিশিগানেই কম্পিউটার যোগাযোগ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু এটা তিনি করেছেন ৪৪ বছর আগে। বাবা ও মা নিজেদের পোশাকগুলো নিজেরাই তৈরি করেছেন। আমার বাবার পোশাক আমি পরেছি, আমার পোশাক আমার ছোট ভাই পরেছে। আরও কত কী!
আমি এগুলো বলছি কারণ, এটাই হচ্ছে আমার এত দূর আসার পথ। আমি ব্যাখ্যা করতে পারব না যে এখানে আসতে পেরে আমি কতটা গর্বিত।
স্বপ্নপূরণের জন্য আমার একটি গল্প আছে। অথবা সত্যিকারের স্বপ্ন খুঁজে পাওয়ার জন্যই আমার গল্পটি আমাকে সহায়তা করে।
তুমি কি জানো, মধ্যরাতে রঙিন স্বপ্ন দেখে কীভাবে জেগে উঠতে হয়? এবং তুমি কি জানো, তোমার বেডের পাশে কাগজ আর কলম না থাকলে ওই স্বপ্ন তুমি কীভাবে মনে রাখবে?
আমার যখন ২৩ বছর বয়স, তখন এ রকম স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম। হঠাৎ করে যখন আমি জেগে উঠলাম, ‘তখন চিন্তা করছিলাম, আমরা কি পুরো একটি ওয়েব পেজ ডাউনলোড করতে পারি শুধু এর লিংকটা দিয়ে?’
তখনই আমি একটি কলম ও খাতা নিয়ে লেখা শুরু করে দিলাম। মাঝেমধ্যে এভাবে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে জেগে উঠতে হয়। আমি মধ্যরাত পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছি চিন্তাভাবনা করতে। আমি আমার উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি ব্যাপারটি নিয়ে। তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি চালিয়ে যাও, তুমি পারবে।’ কখনো চিন্তা ছিল না আমরা একটি ‘সার্চ ইঞ্জিন’ তৈরি করতে পারব। কিন্তু আমাদের চেষ্টা দিয়ে সফল হলাম। এভাবেই গুগলের জন্ম।
যখন আমি মিশিগানে ছিলাম, তখন চিন্তা করতাম, কীভাবে স্বপ্নকে বাস্তবে আনা যায়। আমি বিভিন্ন কর্মশালায় গিয়ে নিজেকেই নিজে অনুপ্রাণিত করেছি। আমি মনে করি, স্বপ্ন কখনো হারায় না। সাময়িকভাবে লুকিয়ে থাকে মাত্র। যদি আমরা কঠোর পরিশ্রম করতে পারি, আর সেই পরিশ্রম যদি কোনো লক্ষ্য ঠিক রেখে করা যায়, তবে সমাধান আসবেই আসবে।
আমি মনে করি, উচ্চাশা সফল করা সম্ভব। সফল করতে অনেক বেশি উত্তেজিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তোমাকে তোমার সঙ্গে মৃদু প্রতিযোগিতা করতে হবে প্রতিনিয়ত। সর্বোচ্চ ভালো মানুষেরা বড় বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করতে চান। যেমনটি গুগলে হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য, পৃথিবীর সব তথ্য একত্র ও বিশ্বজনীন করা এবং সহজে যাতে ব্যবহার করা যায়। আমি ও আমার সহযাত্রীরা যখন গুগলে কাজ শুরু করলাম, তখন ভীষণ চিন্তায় ছিলাম, আমার পিএইচডি থমকে না যায়! কিন্তু আমি পিএইচডি সম্পন্ন করেছি। সুতরাং তোমাকে তোমার মূল রাস্তায় থাকতে হবে, তারপর তোমার কাজ। এটা অনেকটা বৃষ্টির সময়ের মতো। মানে, বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটার সময় তোমাকে ছাতার চেয়ে নিচের দিকে খেয়াল বেশি রাখতে হবে; না হলে গর্তে পড়ে তোমার শরীর নোংরা পানিতে ভিজে যাবে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে সবাই অনেকটা অলস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনই উপযুক্ত সময় তোমার আলোড়িত হওয়ার। তুমি কি পারো তা দেখিয়ে দিতে। সুতরাং স্বপ্নে বসবাস করার ইচ্ছে বাদ দিলে চলবে না। কারণ তোমাকে পৃথিবীর দরকার।
কোনো এক সকালে তুমি অনেক আত্মবিশ্বাসী হবে। কিন্তু সৃষ্টির নেশা যদি থাকে, তবে তাকে ভুলে যাওয়া যাবে না। তুমি তোমাকে অন্যের থেকে আলাদা ভাববে এবং মনে করবে, তুমি যে সুযোগ পেয়েছ, কেউ তা পায়নি। সুতরাং তোমাকে এটা শেষ করতে হবে। তোমাকে পার্থক্য করতে হবে অন্যের থেকে তোমার কাজের মাধ্যমে। তারপর তোমার জীবনই তোমাকে বয়ে নিয়ে বেড়াবে।
১৯৯৬ সালের মার্চে বাবা মারা গেলেন। বাবা মারা যাওয়ায় আমি অত্যন্ত হতাশার মধ্যে পড়ি। কিন্তু আমি আমার অস্তিত্বকে খুঁজে পাই বাবার মধ্যে। বাবা বলতেন, ‘আমরা পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। তার মধ্যে এক নম্বর হলো অটোমেশন বা স্বনিয়ন্ত্রিত যান্ত্রিক ব্যবস্থা, দুই. কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষা থাকবে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। আমাদের একটা অংশকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে বিজ্ঞানের উন্নয়নে, মেডিসিনে এবং শিল্প খাতে, না হলে আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে। এর মাধ্যমেই একটি জাতির ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে তার আগামী প্রজন্মকে। যদি আমেরিকার সব যুবক শিক্ষার মধ্যে তাদের খুঁজত, তবে আমেরিকা আরও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতো।
গুগলের যাত্রাপথে অনেক বাধার সম্মুখীন আমরা হয়েছি; কিন্তু আমরা তার সমাধান করে সামনে চলে এসেছি। আমি মনে করি, আমি যতটুকু না পেরেছি, তার চেয়ে বেশি পেরেছে আমার বয়সটা। আমার ওই ২৩-২৪ বয়সটাই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সুতরাং আমি মনে করি, তোমরা স্বপ্ন দেখো অনেক বড় হওয়ার কিংবা বড় কিছু করার। সঙ্গে সেই স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় তার চিন্তা তোমাকেই করতে হবে। আর যদি তা করতে পারো, তবেই তুমিই সাফল্যের গায়ে তিলক আঁকতে পারবে। আর আমি যদি পারি, তোমরাও পারবে। এখন হাতের নাগালে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সুতরাং চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর চেষ্টা চালাও অনেক ভালো স্বপ্ন দেখতে। যে স্বপ্নের মধ্যে থাকবে তোমাকে আলাদা করার ক্ষমতা।

ভাষান্তর: মোহাম্মাদ আলী


মুল লিখাটি পড়তে ক্লিক করুন।

ধন্যবাদ।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×