গল্পের শুরু ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তাঁর বয়স তখন ২০ বছর, ছাত্র। ঠিক চার বছর পর সেই ছেলেটিকে টাইম ম্যাগাজিন ঘোষণা করল দুনিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ হিসেবে। ফোর্বস-এর প্রতিবেদনে তাঁকে বলা হলো নিজ উদ্যোগে হয়ে ওঠা তরুণ ধনকুবেরদের মধ্যে তিনিই ‘ইয়াঙ্গেস্ট বিলিয়নিয়ার’।, কলেজের হোস্টেল কক্ষ থেকে একটি কম্পিউটার নিয়ে যে উদ্যোগ তিনি শুরু করেছিলেন, তার বদৌলতেই তিনি মালিক হন দেড় শ কোটি ডলারের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা তরুণ মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।
২০০৮ সালে এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে জুকারবার্গ বলেছিলেন, ‘অনেক আগে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন, ু“যা করছ তা ভালোবেসে করো।” এই একটি কথাই হয়তো আমার জীবনটাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমি যখন যা করি আমার মন থেকে করি, আমার পুরোটা দিয়ে করি। সেটা ফেসবুকের শুরু থেকেই।’ ফেসবুক অনেক পরে আলোর মুখ দেখলেও এমন একটা কিছু করার স্বপ্নটা তাঁর ছেলেবেলাতেই ছিল। যদিও এটা নিয়ে ব্যবসা হবে, তা ভাবেননি তিনি। জুক একবার স্কুল পরিবর্তন করার সময় সেই স্কুলের সব শিক্ষার্থীকে একটা স্মরণিকা দেওয়া হয়েছিল। স্মরণিকাটির নাম ‘ফেসবুক’।,এখানে সবার ছবি ও যোগাযোগের ঠিকানা ছিল। তখনই জুকারবার্গ অনুধাবন করেন, তাঁর ছেড়ে যাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কতটা প্রয়োজনীয়। এই প্রয়োজন থেকেই স্বপ্নের শুরু। মাথায় গেঁথে যায় ‘ফেসবুক’।
স্কুলজীবনের মাঝামাঝি থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করতেন জুকারবার্গ। স্কুলের পাট চুকানোর আগেই তিনি হয়ে উঠলেন দুর্দান্ত পিএইচপি প্রোগ্রামার। কাজ করতেন কম্পিউটার গেম ও যোগাযোগের টুকিটাকি নিয়ে। দুষ্টুমি করে আরেকটা কাজ করতেন তিনি—কম্পিউটার হ্যাকিং। তবে যোগাযোগের বিষয় নিয়ে তাঁর ঝোঁকটা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই সময়ই তিনি তাঁর বাবার অফিসে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে একটি সফটওয়্যার তৈরি করে দেন। বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ডের ছাত্র তখন তিনি। হোস্টেলের কক্ষেই কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকের কাজ শুরু করেন। সামনে পরীক্ষা। বন্ধুরা জুকারের পাগলামি ছেড়ে চোখ ডোবালেন বইয়ে। কিসের পরীক্ষা, জুক ফেসবুক নিয়েই আছেন। প্রথমেই হোস্টেলের প্রতিবেশী কক্ষের শিক্ষার্থী এবং পরে কলেজের আরও কয়েকজন সদস্য হলেন ফেসবুকের। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল তাঁর পাগলামির কথা। মাত্র দুই সপ্তাহে হার্ভার্ডসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলল ভিন্ন মাত্রার এই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট। শুরুতে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা থাকলেও জুক বুঝতে পারলেন, এর চাহিদা আছে। ফেসবুক উন্মুক্ত হলো সবার জন্য। গল্পের পরের অংশটা সবার জানা। ফেসবুকে এখন সক্রিয় সদস্য ৫৫ কোটি। প্রতিদিন নতুন করে নাম লেখাচ্ছে গড়ে ১৫ লাখ সদস্য। ২০০৭ সালে ২৪ কোটি ডলারে ফেসবুকের ১ দশমিক ৬ শতাংশ মালিকানা কেনে মাইক্রোসফট, তখন ফেসবুকের দাম উঠেছিল দেড় হাজার কোটি ডলার।
এই দাম এক দিনে ওঠেনি। ফেসবুক যখন শুরুর দিকে তখন থেকেই আকর্ষণীয় দামে কেনার প্রস্তাব দেন অনেকে। জুকারবার্গ তাঁর লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। জুকারবার্গ বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নে আস্থা ছিল। আর আমি কাজটা ভালোবাসতাম। ফেসবুক বিফল হলেও আমার ভালোবাসাটা থাকত। জীবনে একটা স্বপ্ন থাকতে হয়, সেই স্বপ্নকে ভালোও বাসতে হয়।’
লেখক :জাবেদ সুলতান
পুরো লিখাটি পড়তে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


