somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ কারাগার - অনিয়ম (পর্ব - পাঁচ)

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিটি জেলের দূর্নীতি ও অনয়িমের কেন্দ্রবিন্দু হল কেইস টেবিল। কেইস টেবিলের অত্যাচারের বর্ণনা দিতে হলে ফিরে যেতে হয় আদিম যুগের বর্বতার মাঝে। শত শত অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে প্রতিদিন কেইস টেবিলে। কেইস টেবিলে যদিও জেলের বড় সাহেব অর্থাৎ সিনিয়র সুপার/সুপারগণ এবং জেলার কারা অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের বিচার কাজ সম্পন্ন করে। তবে কেইস টেবিল পরিচালিত হয় সুবেদার, সি, আই ডি জমাদার ও জমাদারের দ্বারা। প্রতিদিন ভোর ৪টা হতে লক-আপ ঘন্টা পড়া পর্যন্ত কেইস টেবিল হয়ে উঠে অত্যন্ত সরব। রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত হয় সারা দিনের লেন-দেনের হিসাব-নিকাশ।

ভোর চারটার সময় কয়েদী চীফ রাইটারের নেতৃত্বে কেইস টেবিল রাইটারগণ কেইস টেবিলে উপস্থিত হয়। নবাগত বন্দিদের ফাইল করায় জেলর ও সাহেবের জন্য। সাজা প্রাপ্ত বন্দিদের তৈরী করা হয় সাজা লাগিয়ে তাদের কাজ পাশ দেয়ার জন্য । সর্ব প্রথমে নবাগত বন্দিদের ফাইল শেষ করেই শুরু হয় সাজা প্রাপ্ত বন্দিদের ফাইল। সাজা প্রাপ্ত বন্দিদের শেষ করে হাজির করা হয় জেলের অভ্যন্তরে অপরাধকারী বন্দিদের। অপরাধকারী বন্দিদের অভিযোগ তুলে ধরে পুট-আপ রাইট। পুট আপ রাইটার যদি আগে ভাগে টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগ অতি হালকাভাবে উত্থাপিত হয়।

তাহলে অভিযোগ অতি হালকাভাবে উত্থাপিত হবে জেলরের কাছে। সেক্ষেত্রে সুবেদার পুট-আপ রাইটারের সাথে অনেকটা একমত হয়ে তার অভিমত প্রদান করবে। জেলর সাহেব বুঝে নেন এতে তার কি করণীয় রয়েছে। তাই জেলের সেই সমস্ত মামলা নিজেই রফা-দফা করে দেন। দরকার মতে ছোটখাট শাস্তিও দিয়ে দেন। যদি পুট-আপ রাইটার ও সুবেদার অভিযুক্তের নিকট হতে পূর্বেই টাকা না পেয়ে থাকে, তবে যত ছোট অপরাধই হোক না কেন সেটাকে মহা অপরাধে রুপ দিবে পুট-আপ রাইটার। জেলরের সামনে সেভাবেই পেশ হবে। জেলর সাহেব বুঝে শুনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম করে সুপার ফাইলে চার্জসীটসহ অভিযুক্তকে পুট-আপ করা হয়। সুপার নানা ধরণের শাস্তি প্রদান করেন। সুপার চলে গেলে সেই শাস্তি ও হেরফের হয়ে যায় টাকার বিনিময়ে। সুপার ওয়ার্ড কেটে দিলে সেই ওয়ার্ডে সুবেদার টাকার বিনিময়ে ফেরৎ পাঠান। সুপার যদি ডান্ডা বেড়ী দেন ১মাস, সি,আই ডি জমাদার ও সুবেদার টাকা খেয়ে তা ১৫ দিনেই খুলে দেয়। সুপার যদি হ্যান্ড ক্যাপ দেয় ১মাস প্রতিদিন ৬ ঘন্টা, সেটাও রকম ফের হয় সুবেদার,চীফ রাইটার, পুট-আপ রাইটার ও সি, আই ডি জমাদার এর ম্যানেজ করার মাধ্যমে।

কেইস টেবিলের আসল চেহারা ফুটে উঠে সাহেব ফাইল শেষ হওয়ার পর হতে। বেলা সাড়ে এগারটার দিকে সাহেব ফাইল শেষ হলে সাহেব (সুপার) তার অফিসে ফিরে যায়। সুপার (সাহেব) কে তার দপ্তরে পৌঁছে দিয়ে এসে কেইস টেবিলে নিদৃষ্ট চেয়ারে হাতলে পা তুলে দিয়ে সুবেদার সাহেব বসবেন। টেবিলের ওপর সাজানো কিছু আঙ্গুর, বেদনা থাকে তা খাবেন। সাথে-চা-পান।

প্রসঙ্গে ফিরা যাক। সুবেদার সাহেবের সামনে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে পূর্ববর্তী রাত ৮.০০টার পর হতে পর দিন সকাল ১০.০০ টা পর্যন্ত যত অপরাধ ঘটেছে সেই সমস্ত অভিযুক্তদের আনা হয় কেইস টেবিলে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয় সকলকেই বেধরক পিটানো। সেই বেত্রাঘাতের অবস্থা দেখলে যে কোন মানুষের হৃদয় ও শরীর অবশ্যই আতঙ্কীত হয়ে উঠবে। চার পাঁচ জন জমাদার, পেট্টীধারী কয়েদী বন্দীরা এক সাথে ঝাপিয়ে পড়ে অভিযুক্তদের ওপর। কখনো দেখা যায় অভিযুক্তের দু’পা-দু’হাত বেঁধে, দু’টি চেয়ার কিছুটা দূরত্ব করে বসানো হয়. বাঁশ দিয়ে পালকী বানিয়ে অভিযুক্তকে তার ওপর শোয়ানো হয়। তারপর শুরু হয় পায়ের তলায় ও পাছায় পিঠানো। জেলের ভ্যন্তরে যেভাবে পিটানো হয় তার চার ভাগের এক ভাগও থানায় রিমান্ড নিয়ে পিটানো হয় না। কখনো দেখো যায় কেইস টেবিলের খামে বা গাছের সাথে বেঁধে পিটানো হয়। জেল কোডে ৭২৪, ৭২৬ ,৭২৭ ধারায় সুবেদার, জমাদার, রক্ষী ও কয়েদীর বেত্রাঘাতের কোন ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি। সুবেদার, জমাদারগণ রক্ষীগণ এমনকি কর্তৃপক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েদীরা জেল কোডের কোন তোয়াক্কা না করেই পিটিয়ে একাকার করে ফেলে প্রতিদিন বন্দিদের। জেলের ভাষায় বলে ‘ডান্ডা হলে ঠান্ডা’, এই প্রবাদ বাক্যটি মনে রেখে জেলের সুবেদার, জমাদার ও রক্ষীরা তাদের বেতের নানা বাহার তৈরী করে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। দেখা দেখি কনভিক্ট ওভারশিয়ার নামক কয়েদীরা পেট্টীতে পিতল লাগিয়ে ঝকঝকে করে তোলে সাধারণ বন্দিদের মারার আতংক সৃষ্টি করার জন্য।

কেইস টেবিল একদিকে চলতে থাকে মারামারি, অন্যদিকে কেইস টেবিল রাইটার ও টেবিলের দালালরা শুরু করেন অভিযুক্তদের সাথে দেন দরবার। এক্ষেত্রে পুট-আপ রাইটার, আমদানী রাইটার দেন দরবার করে। চীফ রাইটারের মাধ্যমে ম্যানেজ করে সুবেদারকে; যাতে কেইস পুট-আপ না করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষ কেইস রফা-দফার মূল্য ৪০/৫০ হাজার টাকার উঠে। যেমন গাজা-হেরোইন সংক্রান্ত বিবাদ হয় তার জন্য নিদেন পক্ষে ৪০/৫০ হাজার পর্যন্ত দেন-দরবার ফয়সালা হয়। ছোটখাট বিষয়ে হাজারে মিটিয়ে ফেলা যায়।

কেইস টেবিলে ওয়ার্ড পাশ শুরু হয় বিকাল ৩.০০টা হতে। চীফ রাইটার তার ইচ্ছামত ওয়ার্ড পাশ করালে জন প্রতি ১০০/- টাকা সুবেদারকে দিতে হবে। সেল পাশ করালে নিদেন ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবেদারকে দিবে, নিজের জন্য যতটুকু সে রাখতে পারে রাখবে। ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে দৈনিক কমপক্ষে ১০০টি ওয়ার্ড পাশ হয়; সেলের ৪/৫ জনের টিকিট পাশ ও বাতিল হয়। জেলা কারাগারগুলোতে ওয়ার্ড পাশ ও সেলের বরাদ্দের জন্য আলাদা কোন আয় নেই বললেই চলে। তকে নগদ কিছু টাকা দিতে হয় সুবেদারকে। সারাদিন সি.আই.ডি জমাদার সমগ্র জেলে ষড়যন্ত্র করে বেড়ান টাকা কামানোর জন্য। কেইস টেবিলের বেত্রাঘাতের ২/৩টা ঘটনা উল্লেখ করতে হয়। একটা ঘটনা ঘটে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শীতের সকালে। দিনটি ছিল শুক্রবার ডেপুটি জেলার জামাল তার দায়িত্বে রয়েছে। জুলহাস নামে এক কয়েদী দেখার গেটে গিয়ে তার সহযোগীর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। বিচার এলো ডেপুটি জেলার জামালের নিকট। সাথে পেল ২০০/- টাকা। লাঠি দিয়ে পিটাতে পিটাতে জুলহাসকে নিয়ে আসে কেইস টেবিলে। দেখার গেট হতে কেইস টেবিলের দুরত্ব হবে কমপক্ষে ৫০০ মিটার। কতবার যে, ডেপুটি জেলারের পায়ে ধরেছে কতবার যে বাবা ডেকেছে তার হিসেব নেই। অবশেষে আমার সাথে দেখা হতেই তিনি মিষ্টি-হেসে বললেন আর বলবেন না সাংবাদিক সাহেব ওটা একটা শয়তান। কোন রকমের অনুশোচনা নেই বরং এক ধরনের দাম্ভিকতা দেখা-গেল তার চোখে ও মুখে। কে জিজ্ঞাসা করবে, কে দিয়েছে তাকে এই অধিকার বেত্রাঘাতের? জেল কোডের কোন ধারায় কোন অনুচ্ছেদে বলছে অভিযুক্তকে ডেপুটি জেলার মারতে মারতে কেইস টেবিলে এনে পুট-আপ করবে।

ঘটনা হলো ২০০৫ সালের জুন মাসের। ডেপুটি জেলার ফরহাদ। কয়েদী বন্দি পাগলা মনির; তার চালান হয়েছে। কাশিমপুর কয়েক-দিন আগেই সে কাশিমপুর থেকে এসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে ছিল। কেউ কান কথা লাগিয়ে দিয়েছে তাকে চালান দিতে হবে। মনির এনিয়ে অনেক অনুরোধ মিনতী করার পর নিজের মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করতে যায়। শুরু হলো ডেপুটি জেলার ফরহাদের লাঠির পেটা। তার সাথে ২ জন জমাদার ও ৩/৪জন রক্ষী অমানুষিকভাবে শারিরীক নির্যাতন করে লাঠি দিয়ে। প্রায় ১ ঘন্টা চলে এই নির্যাতন। তারপর হাজির করা হলো কেইস টেবিলে।

২০০৫ সালের আষাঢ় মাস কোর্ট হতে ফিরছি, জেল গেটে এসেছি। আমাদের সাথে একজন হাজতী বন্দি। বয়স ২৩/২৪ হবে; বসে আছে। পাশে সোয়াবিন তেলের ড্রাম, ড্রামের উপর কয়েকটি বাটিতে তেল পরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে। কৌতুহল বসত ছেলেটি একটি তেলের বাটিতে হাত রাখে। ডেপুটি জেলর ফরহাদ তা দেখে শতশত বেতের আঘাতে জর্জরিত করে ফেলে হাজতী বন্দি ছেলেটিকে। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হলো কেইস টেবিলে।

যত বেশী ঝামেলা হবে ততবেশী লাভবান হবেন সি আইডি জমাদার ও সুবেদার। বন্দিদের ধরে ধরে কেইস টেবিলে আনা হয় আর পুট-আপ করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। কোন কোন এলাকায় স্থানীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত রক্ষী, জমাদার স্থানীয়ভাবে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলে টাকা নিজের পকেটে রেখে দেন। ঝামেলা কইেস টেবিল পর্যন্ত যেতে দেয়না।

নব্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের কাজ পাশ নিয়ে কেইস টেবিলের ‘কাজ পাশ রাইটার, চীফ রাইটার দেন দরবার শুরু করেন। যদি কেউ কাজ পাশ নিয়ে কয়েদী ওয়ার্ড যেতে না চায় তবে সেই কয়েদীকে নিজ ওয়ার্ডে থাকতে দেয়া হবে এবং নাম কাওয়াস্তে কাজ দেয়া হয় যাতে কাজ করতে না হয়; সেক্ষেত্রে ৮০০০/-টাকা দিতে হয়। কেইস টেবিল রাইটার হয়ে বহির্গমনে লক আপ নিতে হলে সেক্ষেত্রে দিতে হয় ৩০,০০০/- টাকা। যারা কয়েদী ওয়ার্ডে থাকবে এমডি শাখায় কাজ পাশ থাকবে তাদের দিতে হবে ১০০০/- টাকা এটা ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের হিসাব। অন্যান্য কেন্দ্রীয় করাগারের রেট ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারের ৫০ শতাংশ কম। জেলা জেলগুলোতে যার থেকে যত নেয়া যায় সেই নীতিতে চলে। জেলর ফাইলে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর টিকেট লিখে উত্থাপন করা হয় কাজ পাশ; জেলার সাহেব চোখ-বুঝে তা সই করে দেন। তিনি ভাল করেই জানেন তার হিসাব সুবেদার সাহেব পাঠিয়ে দিবে বাসায়।

কেইস টেবিল রাইটারগণ নিয়োগ পান টাকার বিনিময়ে। চীফ রাইটার হতে হলে তাকে টাকার বিনিময়ে আসতে হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে কেইস টেবিলের চীফ রাইটারকে কমপক্ষে ২/৩লক্ষ টাকা জেল কতৃপক্ষকে দিতে হয়। অন্যান্য কেন্দ্রীয় করাগারে এর রেট ৩০ হাজার টাকা। জেলা কারাগারগুলোতে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে পুট-আপ রাইটার, কাজ পাশ রাইটার, অন্যান্য রাইটার হতে হলে ঘুষ দিতে হতো কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি দিনই দিতে হয় নজরানা। কেইস টেবিল রাইটারদের নিযুক্তির টাকা ভাগ করেন সুবেদার ও জেলার। যেহেতু টাকা। দিয়ে তারা কেইস টেবিল রাইটার নিযুক্ত হয়, তাছাড়াও প্রতিদিন সি.আই.ডি জমাদার অন্যান্য জমাদার ও রক্ষীদের খরচ বহন, সুবেদারদের জন্য সকাল, দুপুর, রাতের, উন্নতমানের খাবার ব্যবস্থা করার খরচ, কেইস টেবিলের শোভা বর্ধন খরচ করে তাদের লাভ খুজতে হয়। তাই তারাও নেমে পড়েন নানারুপ নির্যাতন, নিপিড়ন ও প্রহসন মূলক কর্মকান্ডে। যার ভার বহন করতে হয় প্রতিটি বন্দিকে।

জানা যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চীফ রাইটার যদি নিদেন পক্ষে ৬মাস কাজ করতে পারে খরচ ব্যতীত কমপক্ষে ১৫ লক্ষ টাকা (লাভ করে বিনিয়োগের অংশ বাদ দিয়ে)। অন্যান্য রাইটারগণ কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা বাড়ীতে পাঠাতে পারে যদি ৬ মাস কাজ করার সুযোগ পায়। তবে অতীতে কেউ এক বছর পর্যন্ত চীফ রাইটার; পুট-আপ রাইটার, কাজ পাশ রাইটার থেকেছে তার বহু প্রমান রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর অবস্থা আনুপাতিক হারে কম। তবে এই খাতে অনিয়ম ও দূর্নীতির অবস্থা এক অভিন্ন।

লক আপ ঘন্টা পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয় কেইস টেবিলের হিসাব নিকাশ। যে সমস্ত রাইটার কয়েদী বন্দীদের সাথে সুবেদার এর হিসাব নিকাশ থেকে যায় তাদের আফটার লক আপ দেয়া হয়। বিশেষ করে চীফ রাইটার পুট-আপ রাইটার, কাজ পাশ রাইটার,বহিঃগমন রাইটার, বিশেষ দফার ওস্তাগার, আমদানী রাইটারদের টাকার হিসাব হয়। লেন দেন শেষ করতে, একই সাথে গাজা-হেরোইনের টাকার হিস্যা আদায় করা হয় রাতের আঁধারে। পরের দিন সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত কোন কোন অথরিটিকে কিভাবে কিভাবে ম্যানেজ করতে হবে সেই সমস্ত আলোচনা হয়। কে কে সুপার ফাইলে নালিশ করবে তাদেরকে সকাল হতেই ওয়ার্ড বা সেল থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে আমদানীতে লক আপ করতে হবে সেই নির্দেশনা জারী করেন সুবেদার সাহেব।

বিশেষ দফা ও সুইপার দফাকে আফটার লক আপ করা হয় জেলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার জন্য। তাদের দ্বারা হেরোইন দফা চালায় ও টাকা আদায় করার আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। সেই সাথে লাল গাড়ী দিয়ে চৌকার চোরাই মালামাল ড্রেনে ভাসিয়ে দেয়া সহ যাবতীয় কাজ করার পরামর্শ করা হয়। যদি কোন ভিজিটর আসার কথা থাকে সেই ব্যাপারে সলা পরামর্শ করা; যাতে বন্দিরা কোন ভিজিটারের সামনে যেতে না পারে।

বাংলাদেশ কারাগার-অনিয়ম (পর্ব -চার) পড়তে সামহয়ারইন এখানে অথবা at news bd এর এখানে ক্লিক করুন ।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×