somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বুক ফাটা আর্তনাদ!

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরে এসেছি বেশ কয়েকবছর হল। বিয়ে করেছি, বাবাও হয়েছি। দ্রব্যমূল্যের উচ্চমূল্য এবং বাড়িওয়ালাদের তান্ডব ণৃত্য দেখতে দেখতে হাফিয়ে যাচ্ছি। ছোট্ট একটা চাকুরী আমার, তাও আবার প্রাইভেট ফার্মে। সরকারি চাকুরেদের কপালকে হাজার সালাম দিয়ে সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গে। কোন টাইম সিডিউল নাই, নাই কোন পাওনা ছুটি কিংবা ওভারটাইম। রাজকাপালিদের আরেক দফা বেতন বাড়ার সংবাদে বুকের মাঝে হাতুড়ি পেটানো শব্দ যেন আরো বেড়ে গেল। বাড়বে তরিতরকারি সহ সব কিছুর দাম। বাড়িওয়ালারা ওৎ পেতে বসে আছেন জানুয়ারীর দিকে তাকিয়ে। কিন্তু আমিতো আর পারছি না কারো দিকে তাকিয়ে থাকতে। মালিকের পরিষ্কার কথা, যাদের পোষাবে না তাদের জন্য দরজা খোলা আছে। ওনার খোলা দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলে সহজে যে আমরা ঘরের দরজা খুঁজে পাব না এটা ওনারা হয়তো জেনে গেছেন।

ভুল করেছি জেনারেল লাইনে পড়াশুনা করে। তাই ছোট ভাইকে দেশ থেকে নিয়ে এসেছি ইঞ্জিনিয়ার বানাবো বলে। গ্রামে থেকে ভাল রেজাল্ট করতে পারে নাই তাই সরকারী পলিটেকনিকে চান্স হয় নি। বাধ্য হয়ে বিআইএসটি (বাংলাদেশ ইনিষ্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি) তে ভর্তি করিয়ে দিলাম। প্রসপেকটাস দেখে মনে হয়েছিল এটা হয়তো ভাল মানের একটা আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে শান্তি নগর। তাছাড়া বাসারও বেশ কাছাকাছি হওয়ায় নিশ্চিন্তে ভর্তি করিয়ে দিলাম।

আস্তে আস্তে এর বাস্তবচিত্র ধরা পড়ল। স্থায়ী কোন শিক্ষক নাই, সবাই ক্ষ্যাপ মারে পার্ট টাইম। এমন শিক্ষক ক্লাশ নিতে আসেন যে চেহারা ছাত্রদের থেকেও ছোট এবং কোন সাধারণ প্রশ্নের সহজ উত্তরটুকুও দিতে পারে না, জটিল প্রশ্নে কান লাল হয়ে যায়। ল্যাব আছে ঠিকই কিন্তু কোন সরঞ্জাম নাই যা দ্বারা ছাত্ররা প্রাকটিক্যাল জ্ঞান লাভ করতে পারে। প্রথম সেমিষ্টারে নিজের ক্যাম্পাসেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল। ছাত্রদের কোন অসুবিধা হয়নি পাশ করতে কারন নিজেদের স্যার বলেই কথা। সমস্যা হলো দ্বিতীয় সেমিষ্টারে, কেন্দ্র পড়েছে অন্যত্র। প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব নয় কোন ছাত্রের পক্ষে। স্যাররদের জন্য কোন চিন্তার বিষয় নয় কারন রেফার্ড পরীক্ষার জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফিস ৮০-১০০ টাকা হলেও কলেজ আদায় করছে ৮০০ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা যাচ্ছে স্যার মহাশয়দের পকেটে। বেশ ভাল একটি ইনকাম; তানারা চান বেশী ছাত্র যেন ফেল করে।

প্রতি মাসে ছাত্রদের কাছ থেকে ১৪৫০ টাকা নির্ধাতিন বেতন কড়ায় গন্ডায় আদায় করে চলেছে। সাত তারিখ থেকে আট তারিখ হয়ে গেলেই ১০০ টাকা ফাইন ধার্য হয়ে যায়। এর কোন মাফ নেই, অথচ শিক্ষা দানের কোন উন্নতি চোখে পড়ে না। প্রিন্সিপালকে সচরচার দেখা যায় না যে ছাত্ররা তাদের দাবী/অভিযোগ করবে। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করাব বলে হুমকি দিয়ে থাকেন।

ভাবতে খুব কষ্ট লাগে যে অভাবের সংসারকে আরো অভাবিত করে ছোট ভাইকে প্রতি মাসে বেতন, বই খাতা, যাতায়াত খরচ বাবদ ভুরি ভুরি টাকা ঢালার পরও রিজাল্ট যদি এমন হয় !

প্রতিবাদ করার ভাষা খুজে পাই না। মাঝে মাঝে মনে হয় মিডিয়াতে প্রকাশ করি ওদের দুর্নিতির শ্বেতপত্র। আবার ভাবি কি হবে এসব করে, কে শুনবে আমার মত অসহায় গার্ডিয়ানদের বুকফাটা আর্তনাদ !!!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×