somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ লজ্জা কি করে ঢাকি? (সংশোধিত পুণর্প্রকাশ)

০৭ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি দেশের সকল ধর্মের সকল বর্ণের, ধনী ও গরীব প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র স্থান সেই দেশের বিচারালয়। মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই অপরাধপ্রবণ, তাই স্বাভাবিক কারণেই সমাজকে সুস্থ এবং সুষ্ঠু গন্ডিতে ধরে রাখার জন্য আইন-আদালতের প্রয়োজন। এই আইন-আদালতের কর্ণধার হলেন বিচারক। এই বিচারালয়ে বিচারকের কাছেই মানুষ চায় সব অবিচারের প্রতিকার। কিন্তু, সমাজে অন্যায় ঘটলেই বিচারের প্রশ্ন আসে। নির্মোহ ও কঠোর বিচারালয় সেই অন্যায়ের অবকাশকেই সমাজের অতি ক্ষুদ্র বৃত্তে বন্দি করে দেয়। তাই, একটি দেশের বিচারালয়ের গুরুত্ব ও দায়িত্ব অপরিসীম।

একজন বিচারপ্রার্থী কি বিচার পাবেন তা বাস্তবে সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে বিচারকের উপর, বিচারক যেই রায় দিবেন তাই মান্য। বিচারক যদি জ্ঞানে ও আদর্শে মহান ও অবিচল না হন - কোন আইন, কোন যুক্তি সুবিচার আনবে না। আমাদের বিচারালয়গুলিতে অবিচারের পাতাভরা নজির আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। আবার বিচারকের উপর মানুষের কতটুকু আস্থা আছে তার উপর নির্ভর করে মানুষ প্রতিকারের জন্য বিচারালয়ের দ্বারস্থ হবে কি না। বিচারালয়ের উপর মানুষের এই আস্থায় যখন চিড় ধরে তখন সমাজে নিয়ম-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে জ্যামিতিক হারে। দেশ পরিনত হয় অপরাধের স্বর্গরাজ্যে, সন্ত্রাস বাসা বাঁধে সমাজের প্রতিটি আনাচে-কানাচে। এমন পরিস্থিতি কোন স্বদেশ প্রেমিক সুস্থ মানুষের কাম্য হতে পারে না।

দেশের এই ভয়ংকর অবস্থায় লাভবান হয় হাতেগোনা কিছু লোক যারা নিজ অপকর্মের জন্য বিচারের সন্মুখীন হয় না ভেঙ্গেপড়া বিচার ব্যবস্থার কারণে। অনেক সময়েই সরকারের ও প্রশাসনের ক্ষমতাধরগন পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন তাদের গনবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, নিজের স্বার্থে দেশের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে। এসব দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য এই যে, এই অল্প কয়েক জনের হাতেই থাকে আবার সেই দেশের বিচার-ব্যবস্থাকে সকল দুষ্ট প্রভাব, অনিয়ম ও অনাচার থেকে রক্ষা করার। এমন করুণ প্রহসন দুর্ভাগা দেশের ‘ললাটলিখন’ বলে চালাবার প্রয়াসও এই সকল সার্থান্ধদের প্রচারমন্ত্র যা ভুক্তভোগী জনতাকে বিভ্রান্ত করে।

কিন্তু, বাংলাদেশ, হায়রে আমার বাংলাদেশ! সুনীতি এবং সভ্যতার করুণ সমাধি যেন এখানেই হলো, এবং বার বার। এই দেশে ‘খুনের আসামীকে’ও নিয়োগ দেয়া হয় সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকের আসন অলংকৃত করার জন্য। সর্বোচ্চতেই যদি এই অবস্থা, তাহলে নীচের দিকে যে কি হচ্ছে তা অনুমান করা কি খুব কঠিন! কোন্ সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ স্বদেশের সর্বনাশের এমন চিন্তাটিও করতে পারে, ভেবে পাই না! অথচ, তাই তো হচ্ছে আমাদের প্রাণ-প্রিয় বাংলাদেশে। এই অস্বাভিক আচরণের প্রতিবাদের ভাষা আমি খুঁজে পাই না!

শুধু ভাবি, এ লজ্জা আমি কি করে ঢাকি?
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×