somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ, গতিশীল এবং শান্তিময় শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর শব্দমূল হচ্ছে সিন-লাম-মিম অর্থাৎ সালাম- যার অর্থ শান্তি। মূলত ইসলাম সব ক্ষেত্রে শান্তিরই কথা বলে। ইসলামে পারস্পরিক অভিবাদনেও শান্তিই কামনা করা হয়। ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। সূরা বাকারার ১১ নং আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন- পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না।

ফিতনা-ফাসাদ সব যুগেই কম-বেশি ছিল। মানব সভ্যতার ইতিবৃত্ত পাঠে জানা যায়, মানব জাতির শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে প্রেরিত নবী-রাসূলরা যে বিধিবিধান প্রবর্তন করেছেন, তা যখন কোন দেশ বা সমাজ পরিত্যাগ করেছে তখন তাদের মধ্যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিস্তার লাভ করেছে। কারণ এই বিশ্বপ্রকৃতি ও মানব সভ্যতার মূল নিয়ন্ত্রক হলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনিই মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সফলতার জন্য উপযুক্ত বিধি-ব্যবস্থা দান করেছেন। কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে হবে তা তিনি রাসূল মারফত আমাদের জানিয়েছেন। এ ব্যবস্থা বা সমাধান যে সমাজে বিদ্যমান থাকবে সে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে।

সন্ত্রাস ও জুলুমের জন্য কঠোরতম শান্তির বিধান এসেছে স্বয়ং কোরআনুল কারিমে। সূরা মায়েদায় ইরশাদ হয়েছে- ‘যারা আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যায় এবং সমাজে বিশৃংখলা ও সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তাদের শান্তি হচ্ছে- তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হ-পদ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের পার্থিব লাঞ্ছনা, আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শান্তি।’ (৫ঃ ৩৩) আলোচ্য আয়াতে যে চারটি শান্তির উল্লেখ করা রয়েছে তা অপরাধ অনুপাতে প্রয়োগ করা হবে। যে হত্যা করল, সম্পদ অপহরণ করল না- তার শান্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। আর যে সম্পদ অপহরণ করল কিন্’ হত্যাকাণ্ড ঘটাল না, তার ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা হবে। যে ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড ঘটাল এবং সম্পদও লুট করল তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে। আর যে শুধু ত্রাস সৃষ্টি করল বা হুমকি প্রদর্শন করে জনমনে আতংকের উদ্‌ভব ঘটাল তাকে নির্বাসিত বা কারাগারে পাঠানো হবে। তবে বিচারক অপরাধের গুরুত্ব-লঘুত্ব ও অপরাধীর অবস্থা বিবেচনা করে চারটি শান্তির যে কোনটি প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে একাধিক শান্তিও প্রদান করতে পারবেন। অতীতে যে সমাজে ইসলামী দণ্ডবিধি কার্যকর ছিল, সে সমাজে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃংখলাও বজায় ছিল।

আমরা দেখতে পাই, প্রিয় নবী হজরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা মুকাররমা থেকে হিজরত করে মদিনা মোনাওয়ারায় তাশরিফ আনয়ন করেন। মদিনায় এসে তিনি মসজিদুন নববী স্থাপন করেন এবং এই মসজিদকেন্দ্রিক একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেন। এই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনি বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সংবিধান সম্পাদন করেন- যা ‘মদিনা সনদ বা চার্টার অব মদিনা’ নামে সমধিক পরিচিত। ৪৭টি শর্তবিশিষ্ট এই সনদের প্রতিটি ধারা-উপধারায় মানবিক মূল্যবোধ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর প্রথম শর্তেই ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি জাতি গঠনের চেতনা স্পষ্ট হয়েছে। এতে যার যার ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে।

আমরা আরও লক্ষ্য করি, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ জিলহজ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে আরও বলেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা শোন, কোন অনারবের ওপর কোন আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন কালোর ওপর কোন সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন সাদার ওপর কোন কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।’

মূলত এই তাকওয়া অবলম্বন করার মধ্যেই একজন মুসলিমের জীবন সার্থকতা লাভ করতে পারে। ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম বেছে চলা অর্থাৎ ভালোকে গ্রহণ করা ও মন্দকে বর্জন করা, হালালকে গ্রহণ করা এবং হারামকে বর্জন করার মধ্যেই তাকওয়ার মর্মবাণী নিহিত রয়েছে। এককথায় বলা যায়, যাবতীয় পাপকার্য থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা অর্থাৎ সাবধানী ও সংযমী জীবন নির্বাহ করার মধ্যেই তাকওয়ার শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে।

একবার উরায়না গোত্রের ৬-৭ জন লোক মদিনার আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা নবীজীর (সা·) কাছে এলে তিনি তাদের গ্রামাঞ্চলে গিয়ে মুক্ত আবহাওয়ায় বসবাস এবং উটের দুধ পান করার পরামর্শ দেন। তারা সরকারি উট-দুম্বার চারণভূমিতে এসে বসবাস শুরু করল এবং উটের দুধ পান করে এক সময় সুস্থ হয়ে গেল। এখান থেকে চলে যাওয়ার সময় লোভের বশবর্তী হয়ে তারা রাতের বেলা রাখালকে হত্যা করে কিছু উট নিয়ে পালিয়ে গেল। এ খবর শোনা মাত্রই নবীজী কয়েকজন সাহসী লোককে দ্রুতগামী ঘোড়া দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। তারা বিচক্ষণতার সঙ্গে চারপাশ থেকে দুবৃêত্তদের ঘেরাও করে ধরে নিয়ে এলেন নবীজীর দরবারে। পরে নবীজী সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেন। প্রহরী রাখালকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেভাবেই তাদেরও নাক-কান-চোখ কেটে হত্যা করা হয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সন্ত্রাস-হানাহানিতে জর্জরিত আরব সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপিত হয়েছিল কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই।

সুতরাং ইসলাম মানুষে মানুষে হৃদ্যতা ও সৌহার্দ স্থাপনের মাধ্যমে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির পৃথিবী গড়ার তাগিদ দিয়েছে। ইসলাম কখনোই অশান্তি, খুন, রাহাজানি, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রভৃতি কার্যকলাপ সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। জর্জ বার্নার্ড শ জোরালো ভাষায় স্বীকার করেছেন, ‘ইসলামই কেবল শান্তিময় পৃথিবী গড়তে সক্ষম।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমগ্র পৃথিবীকে যদি এক নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ করা যেত, তাহলে সর্বোত্তম যোগ্য ব্যক্তি হজরত মোহাম্মদ (সা·), যার পক্ষেই কেবল সম্ভব নানা ধর্মমত, ধর্মবিশ্বাস এবং চিন্তাধারার মানুষকে শান্তি ও সুখের পথে পরিচালিত করা।


Click This Link
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×