মুসলমান মানেই মি’রাজ শরীফ সম্পর্কে সহীহ আক্বীদা পোষণ করতে হবে। সম্যক ইলম হাসিল করতে হবে॥
যথাযথ শান-শাওকত এবং জওক-শওককের সাথে মি’রাজ শরীফ পালন করতে হবে॥
পাশাপাশি কেবল সরকারী ছুটি দিলেই হবে না বরং আন্তর্জাতিকভাবেই মি’রাজ শরীফ পালনের জন্য উদ্যোগ, বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে
বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফের এ অংশে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ এনেছিলেন।
এখানে বুরাক বেধে রাখা হয়েছিল।
শবে মি’রাজ শরীফ-এ মুসলমানদের করণীয়
আররবী মাসের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত মাস হল মাহে রজব বা রজব মাস। এই রজব মাসের ২৭ তারিখ রাত্রে সংঘটিত হয় পবিত্র মি’রাজ শরীফ। এই শবে মি’রাজ শরীফ হলো যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন, অবর্ণনীয়, অকল্পনীয়, শান-মান মর্যাদা, মর্তবা বুযূর্গী সম্মানের সামান্যতম বহিঃপ্রকাশ মাত্র। হাক্বীক্বীভাবে উনার শান-মান ্বর্ণনা করা গোটা কায়িনাতের কারো পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো ঠিক তেমন যেমন আল্লাহ পাক বর্ণনা করেছেন, প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সমস্ত কায়িনাতের পক্ষেও অনন্তকাল ধরে উনার শান মান বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মি’রাজ শরীফ হলো সরওয়ারে কায়িনাত, দো’জাহানের হাবীব, রউফুর রহীম, শাফায়াতে কুবরা, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসংখ্য অগণিত মু’জিযা শরীফ-এর মধ্যে একটি মু’জিযা শরীফ; যা হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। হাদীছ শরীফ-এ এসেছে নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতের জন্য অত্যন্ত ইহসান করে পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামায উপহার দিয়েছেন।
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মি’রাজ রজনীতে আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে গিয়েছেন। অর্থাৎ প্রথম আসমান থেকে শুরু করে সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করলেন- যেখানে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, আমি যদি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে এক চুল পরিমাণ অগ্রগামী হই তাহলে আমার ছয়শত (অন্য বর্ণনায় ছয় হাজার) পাখা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে; সেই সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম
করে আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে গেলেন। এরপর আরো অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জান্নাত দেখলেন, জাহান্নাম দেখলেন। হাদীছ শরীফ-এ এসেছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে এতোটাই নিকটবর্তী হয়েছিলেন যেমন- ধনুকের দুই মাথা যত নিকটবর্তী হয়, তার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র মি’রাজ শরীফ বিনা চু-চেরায় বিশ্বাস করার কারণে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া অর্থাৎ নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘ছিদ্দীক্বে আকবর’ লক্ববে ভূষিত করলেন। সুবহানাল্লাহ!
কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ দ্বারা বর্ণিত এত সীমাহীন, বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ, রহমতপূর্ণ, বরকতপূর্ণ ছাকিনাপূর্ণ জৌলুসপূর্ণ শান, শওক্বতপূর্ণ মি’রাজ শরীফ সম্পর্কে ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দী, তাবলীগী, লা-মাযহাবী, মওদুদী উলামায়ে ছূ’রা বিভ্রান্তিমূলক ফতওয়া দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! তারা বলে থাকে যে, শবে মি’রাজ শরীফ-এ আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক চাক করে ভিতর থেকে নাপাকী বের করে ফেলে দেয়া হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! কতবড় কুফরী বক্তব্য। যেখানে সমস্ত হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহিম উনাদের ইজমা হয়েছে যে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ-এ পা মুবারকের সাথে যে মাটি মুবারক স্পর্শ করে আছে, সেই মাটি মুবারকের মর্যাদা আল্লাহ পাক উনার আরশে আযিমের চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ!
শুধু এতটুকুই নয়, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মুবারক, প্রস্রাব মুবারক, ইস্তিঞ্জা মুবারক এতই পূত-পবিত্র যে, কোন
কাফির ব্যক্তি ভুল করেও যদি উনার ইস্তিঞ্জা মুবারক পান করে তাহলে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! যে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইস্তিঞ্জা মুবারকের এত মর্যাদা ও পবিত্রতা তাহলে উনার শরীর মুবারক হতে ফেলে দেয়ার মত কি থাকতে পারে? সিনা মুবারক চাক করে ভিতর থেকে নাপাকী বের করে ফেলে দেয়া হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! এটা কাট্টা কুফরী কথা। এ সমস্ত উলামায়ে ‘ছূ’ মি’রাজ শরীফ-এর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক ফতওয়া দেয়। অথচ তারা গান-বাজনা, ছবি, ভিডিও, গণতন্ত্র, বেপর্দা-বেহায়া, খেলাধুলাসহ যত প্রকার অশ্লীল-অশালীন কাজ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয় না। এরা কাফিরের চেয়েও বড় কাফির।
তাই আসুন! আমরা শবে মি’রাজ শরীফ-এ বেশি বেশি, মীলাদ শরীফ, দুরূদ শরীফ, তওবা, ইস্তিগফার পাঠ করি এবং সাধ্যমত গরিব-মিসকিনদের দান খয়রাত করি। আর দিনে রোযা রাখি। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা করলে আল্লাহ পাক উনার খাছ রহমত ও বরকত নাযিল হয়ে থাকে। আয় আল্লাহ পাক! আমাদের সবাইকে পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ-এ হাক্বীক্বী আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
সন ও তারিখের ইখতিলাফের দোহাই দিয়ে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শত্রুরা মি’রাজ শরীফ-এর ফযীলত থেকে মু’মিন-মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করতে চায়
বিভিন্ন রাবী ও ঐতিহাসিকগণের বর্ণনায় হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার মি’রাজ শরীফ-এর সন ও তারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। তবে মশহূর ও বিশুদ্ধ মত যা হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত তাহলো, মাহে রজবের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ তারিখ সোমবার শরীফ রাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী ৫১তম বয়স মুবারকে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের একাদশ বছরে মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়।
আমাদের এ উপমহাদেশে যিনি সর্বপ্রথম হাদীছ শরীফ-এর প্রচার প্রসার করেছেন; যাঁকে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ উপমহাদেশে বিশেষভাবে হাদীছ শরীফ-এর তা’লীম বা শিক্ষা প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন, তিনি হলেন ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মা ছাবাতা মিনাস সুন্নাহ’য় এ ছহীহ ও মশহূর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এরপর মুসলমানদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি কিতাব লিখেছেন উনাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব, দশম হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ও ইমাম, সুলত্বানুল আরিফীন, মুজতাহিদ ফিদ দ্বীন আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও মশহূর কিতাব ‘শরহে মাওয়াহিবুল লাদুননিয়াহ’য় উল্লেখ করেছেন। কাজেই সন ও তারিখের ইখতিলাফের দোহাই দিয়ে যারা নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ-এর ফযীলত থেকে মু’মিন-মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করতে চায় তারা ইসলামের শত্রু; তারা কাট্টা ফিতনাবাজ ও গুমরাহ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

