somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক নেতিবাচক খবরের ভিড়ে একটা ভাল সংবাদ কিংবা পেছনের পাতায় অন্ধকারে খুঁজে নেওয়া একটা ইতিবাচক খবর।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওভার স্মার্টনেসের বাংলাদেশি সংস্করন পত্রিকা না পড়া। সাথে দেশ-কাল-রাজনীতি নিয়ে সচেতন না থাকা বাড়তি যোগ্যতা। ডিজুস প্রজন্ম হলে তো কথায় নাই।
অবশ্য দোষ দেয়ার উপাই নাই। রাজনীতির কচকচানিতে কখনও মনেহয় দুনিয়ার সকল ক্যাচাল বোধহয় আমাদের জন্যই বরাদ্দ। পত্রিকার পাতায় কয়টা নেতিবাচক খবরের বিপরীতে একটা ইতিবাচক খবর থাকে(যদিও বিটিভির আটটার সংবাদের ক্ষেত্রে অনুপাতটা সম্পূর্ণ উল্টা!)?
তবুও দেখি। পেটে না খেলেও পিঠে সয়ে নিতে হয় গোলাম হোসেন!
ভাগড়ে একটা ভাল খবর দেখলেই স্বভাবতই উৎফুল্ল হয়ে উঠি।
আজকের দিনটাও ব্যাতিক্রম না আমাদের সংবাদ ভান্ডারের জন্য। বিক্ষোভ, লুটপাট, দানাবাঁধা ক্ষোভ, খুন-যখম, সু্স্বাদু আলুপোড়ার সুঘ্রাণ; সবই আছে। ব্যাতিক্রম শুধু ভেতরের পাতার একটা ভিন্ন ধরণের খবরে চোখ আটকে যাওয়া।
_______________________________

আপ্রাণ চেষ্টায়ও বাঁচানো গেল না গাছখাটাশ শাবকটিকে

মেঘশিরীষের ডালে বেড়ালছানার মতো খেলছিল গাছখাটাশের তিনটি বাচ্চা। হঠাৎ একটি বাচ্চা প্রায় ৩০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে যায় নিচের বিদ্যুতের তারে। প্রচণ্ড শব্দে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ ছড়ায় চার পাশে। বাচ্চাটি মাটিতে পড়ার সাথে সাথে ওয়াইল্ড লাইফ ক্লাবের সদস্য শিপলু খান, খুরশিদ খন্দকার ও রেহানা মল্লিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট খাটাশশাবকটিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেন। ফিডারে ছাগলের গরম দুধও পান করানো হয় বাচ্চাটিকে।
ও দিকে বাচ্চাটির মা অন্য দু’টি বাচ্চা নিয়ে আশপাশের গাছপালায় অস্খির লাফালাফি করছিল ও চিৎকার করছিল শাবক-শোকে।
না, সìধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না শাবকটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ জানুয়ারি, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের সাতশৈয়া গ্রামে। বাগেরহাট জেলায় আজো গাছখাটাশ (চধষস পরাব:) বা সারেল উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে। কিন্তু তাদের সংখ্যা কমছে। কলা, পেয়ারা, বরই প্রভৃতিসহ পোষা কবুতর খাওয়ার জন্য আজকাল এদের প্রাণ দিতে হচ্ছে এয়ারগানের গুলিতে বা বিষটোপে। অবশ্য এ প্রবণতা ঠেকাতে ও এদের রক্ষার জন্য স্খানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সহায়তায় নিরলস কাজ করে চলেছে ফকিরহাট ওয়াইল্ড লাইফ ক্লাব। বিজ্ঞপ্তি।

নয়া দিগন্তঃ Click This Link (পত্রিকার বিজ্ঞাপন দিচ্ছি না)।

জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব করার অনেক কিছু আছে নিশ্চয়, তবে হলফ করে বলতে পারি, কিছু না থাকলেও গর্বের কমতি হত না! ভুপেন হাজারিকার মত পৃথিবীর পথে পথে যাযাবরের মত ঘুরিনি, সামনে পেছনে ডানে বামে; শুধুই দেখেছি বাঙ্গালি। দেখেছি, বাঙ্গালির গর্ব আছে, অহঙ্কার আছে, আছে ক্রোধ, হিংসা, লোভ, ভালবাসা; শুধু নাই পশুর প্রতি মমত্ববোধ।
রাতের শেষ প্রহরে কসাইয়ের ঘরে গরুর জবাই দেখেছি, পোল্ট্রির দোকানে জবাইয়ের আগে ব্রয়লারের 'পণ্য'গুলোকে ডানায় আর পায়ে গিট মেরে পুঁটলির মত ছুড়ে মারতে দেখেছি, ফসল বাঁচাতে বিষ প্রয়োগে ক্ষেতে পাখি মারতে দেখেছি। অতিথি হয়ে আসা পাখিগুলোকে আহত করে ঢাকার রাস্তায় বিকোতে দেখেছি। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে আসা ক্ষুধার্ত হাতির দলকে প্রতিরোধের জন্য রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে গ্রামবাসীকে পালা করে পাহাড়া দিতে দেখেছি, বুনো হাতিকে বিদ্যুৎপৃষ্ট করতে তার জুড়ে গাছে লাগানোর মত দুষ্ট বুদ্ধির কমতি হয়নি!

এই জানুয়ারি মাসেরই দুইটা খবর;
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে বাসের ধাক্কায় মেছোবাঘের মৃত্যু।
কুঁড়িগ্রামে চিতা বাঘের শাবক পিটিয়ে হত্যা। (তারিখ মনে নাই, তাই সূত্র দিতে পারলাম না)।

আহত মানুষের পক্ষে বলার জন্য উকিল আছে, দেশ আছে, রাষ্ট্র আছে, মানবাধিকার আছে। অবুঝ প্রাণীগুলোর পক্ষে দাঁড়াবে কে? বিচার নিয়ে যাবে কার কাছে?

চারিদিকে এমন মনুষ্য নিষ্ঠুরতার মাঝেও বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের কিছু উদ্যমী আধুনিক মনস্ক মানুষের এই মহতি উদ্যগ সত্যিই হাজারও নেতিবাচক খবরের মাঝে একটা আশাজাগানিয়া সংবাদ। তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা। কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:৩৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×