আরেকবার অর্থমন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং-এ অর্থ প্রতিমন্ত্রী শাহ মোঃ আবুল হোসাইনরে দেখে বলেছিলেন, তোমারে যেন কই দেখছি।
-স্যার, আমি অর্থ প্রতিমন্ত্রী।
-ও, ম্যাডাম তোমারেও মন্ত্রী বানাইছে?
আরেকবার বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করতে গিয়ে একজন ডেপুটি গভর্ণরের রুমে ঢুকে বলেছিলেন, এতো বড় রুমে তুমি কি করো, আমারও তো এতো বড় রুম নাই।
অর্থনীতির সাংবাদিক হিসাবে আমি গত ৫ বছরেই সাইফুর রহমানের পিছনে পিছনে ঘুরেছি। তার প্রায় সব অনুষ্ঠান আমাকে কাভার করতে হয়েছে। কথা বলার জন্য তিনি ছিলেন বিখ্যাত। গালাগালিও করতেন। তার এসব কথাবার্তায় কেউ কেউ বলতেন বয়স হয়ে গেছে তো, তাই মনে থাকে না। কেউ কেউ আবার এসব কথা বার্তায় খুব মজা পেতেন। একবার তো সংবাদ সম্মেলনে সাইফুর রহমান বলেইছিলেন যে, আমি সিলটী আর ইংরেজি মিসাইয়া কই, তোমরা তোমাদের মতো কইরা লেখো, আমার তো পড়তে মজাই লাগে।
আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে তিনি সবার সামনে মানুষকে অপমান করে মজা পেতেন। বিভিন্ন বৈঠকে তিনি গালাগালি করতেন। তবে সবচেয়ে বেশি প্তি ছিলেন আয়কর কর্মকর্তাদের প্রতি। আয়কর কর্মকর্তারা নাকি ঠিক মতো কাজ করেন না এবং আয়কর আদায়ও হয় না। মনে আছে আমার ২০০৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে আয়কর কর্মকর্তাদের প্রচন্ড গালাগালি করেছিলেন। কর্মকর্তাদের করুন মুখ আমার আজও মনে পড়ে।
গত ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে বিদায় সম্বর্ধনা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ করতে হয় জানলে রাজনীতিতে আসতাম না।
গত ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, কর পরিশোধ না করার সংস্কৃতি আমাদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে। সমাজে যারা বিত্তশালী তাদের অবশ্যই কর প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে।
সেই সাইফুর আয়কর দেন নাই। এখন তিনি অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করছেন। তার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তো আরেক কাঠি সরেস। দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও সঠিক আয়কর দেননি। বিশ্বের উন্নত যে কোনো দেশে আয়কর ফাঁকি বড় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত। আর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হলে তো কথাই নেই।
প্রশ্ন হলো তারা কোথায় পেয়েছিলেন এই অর্থ?
এসব নেতা দেখে আমি লজ্জিত।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


