somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই

১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত বিষয় সম্ভবত ৭১ এর ঘাতক-দালালদের সাধারণ ক্ষমা করা। সম্ভবত এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভুল ভাবে উপস্থাপিত একটি বিষয়। আজও অনেকে বলেন যে বঙ্গবন্ধুই দালালদের আইন করে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু কি আসলেই দালালদের মুক্তি দিয়েছিলেন? অনেক জ্ঞানপাপীরাও মনে করেন বা বলে থাকেন যে বঙ্গবন্ধু সবাইকে ক্ষমা করেছিলেন। এই ব্লগেও দেখলাম এসব কথা বলা হচ্ছে। আসলেই কি তাই?
দালাল আইন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর। এই আইনে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছিল কাদের, আর কাদের জন্য ক্ষমা প্রযোজ্য ছিল না। আইন অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৪, ৩৭৬, ৪৩৫, ৪৩৬ ও ৪৩৮ ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তারা ক্ষমা পাবে না।
৩০২ হলো খুন, ২০৪ খুনের চেষ্টা, ৩৭৬ ধর্ষন, ৪৩৫ অগ্নিসংযোগ, ৪৩৬ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ৪৩৮ জাহাজে অগ্নিসংযোগ।
এই যদি হয় আইন তাহলে কি করে দালালরা মুক্তি পেলো। এটা ঠিক যে এখন মনে হয় যারা সমর্থক ছিল বা সাধারণ সৈন্য যারা হুকুম তামিল করেছে তাদের ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আজকাল রাজাকারদের আস্ফালন দেখে সেটাই মনে হয়। আবার এটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েও। বঙ্গবন্ধু পরবর্তীরা শাসক বঙ্গবন্ধুর উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে দালালদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দিয়েছে। ১৯৭৫ এর পরে এই আইনটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন হলো কেন দালাল আইন করা হলো, কেন বিচার হলো না। বঙ্গবন্ধু যে কেবল একক সিদ্ধান্তে করেছেন তা কিন্তু আমার মনে হয় না। আন্তর্জাতিক চাপও একটা প্রধান কারণ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। মনে রাখতে হবে সেসময় জার্মানদের কোনো সমর্থক ছিল না। রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্টালিন বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল সমগ্র আরববিশ্ব, নিক্সন-কিসিঞ্জারের আমেরিকা ও চীন। তখনও বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের স্বীকৃত দেশ না। ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেননি, অথচ বন্দীরা ছিল তাদের কাছেই।
আরেকটি বিষয়। বাংলাদেশের তখনকার অবকাঠামো, আর্থিক সামর্থ্য ও বিচার ব্যবস্থা যা ছিল তা দিয়ে কি এত দালালের বিচার করা সম্ভব ছিল? জাতিসংঘের তত্বাবধানে ১৯৯৪ সালে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর রোয়ান্ডার জন্য ব্যয় হয়েছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার। ৫ হাজার মামলা করা হয়েছিল। তবে যে গতিতে এই ট্রাইব্যুনাল চলেছিল তাতে সব অভিযুক্তদের বিচার করতে প্রয়োজন হতো ১২০ বছর।
তাহলে কি এখন আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সুযোগ নেই? আছে, অবশ্যই আছে। নতুন করেও শুরু করা যায়। অবশ্য কিছু কাজ করাই আছে, প্রয়োজন কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের।
সবচেয়ে ভাল উদাহরণ আমাদের জন্য, সারা বিশ্বের জন্য দক্ষিন আফ্রিকা। বর্ণবাদনীতি অবসানের পর দক্ষিন আফ্রিকায় নেলনস মেন্ডেলা ১৯৯৫ সালে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েসন কমিশন গঠন করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবাদের প্রভাব সমীক্ষা করে দেখা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু।
আমরাও এখন গঠন করতে পারি এ ধরণের ট্রুথ কমিশন। তাতে খুব বেশি কষ্ট হবে না। মনে করতে পারি যে ১৯৯৪ সালে গঠন করা হয়েছিল গণ তদন্ত কমিশন। বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যান। ১৬জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। এরা হল,
১। আব্বাস আলী খান (এখন মৃত)
২। মতিউর রহমান নিজামী
৩। মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
৪। আব্দুল আলিম
৫। দেলোয়ার হোসেন সাইদী
৬। মাওলানা আবদুল মান্নান (মৃত)
৭। আনোয়ার জাহিদ
৮। আবদুল কাদের মোল্লা
৯। এস এ এম সোলায়মান
১০। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১১। মাওলানা আবদুস সোবহান
১২। মাওলানা এ কে এম ইউসুফ
১৩। মোহাম্মদ আয়েনউদ্দিন
১৪। আলী আহসান মুজাহিদ
১৫। এবিএম খালেক মজুমদার
১৬। ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন

(এই কমিশন গঠনের আগেই গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার হয়েছিল বলে এই কমিশনের তালিকায় তার নাম নেই। কমিশনের রিপোর্টটি পাওয়া যায়।)

আসুন রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরাও একটা ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই।



সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১০
৭৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×