আমার প্রিয় পোস্ট

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই

১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭

শেয়ারঃ
0 0 0

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত বিষয় সম্ভবত ৭১ এর ঘাতক-দালালদের সাধারণ ক্ষমা করা। সম্ভবত এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভুল ভাবে উপস্থাপিত একটি বিষয়। আজও অনেকে বলেন যে বঙ্গবন্ধুই দালালদের আইন করে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু কি আসলেই দালালদের মুক্তি দিয়েছিলেন? অনেক জ্ঞানপাপীরাও মনে করেন বা বলে থাকেন যে বঙ্গবন্ধু সবাইকে ক্ষমা করেছিলেন। এই ব্লগেও দেখলাম এসব কথা বলা হচ্ছে। আসলেই কি তাই?
দালাল আইন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর। এই আইনে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছিল কাদের, আর কাদের জন্য ক্ষমা প্রযোজ্য ছিল না। আইন অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৪, ৩৭৬, ৪৩৫, ৪৩৬ ও ৪৩৮ ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তারা ক্ষমা পাবে না।
৩০২ হলো খুন, ২০৪ খুনের চেষ্টা, ৩৭৬ ধর্ষন, ৪৩৫ অগ্নিসংযোগ, ৪৩৬ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ৪৩৮ জাহাজে অগ্নিসংযোগ।
এই যদি হয় আইন তাহলে কি করে দালালরা মুক্তি পেলো। এটা ঠিক যে এখন মনে হয় যারা সমর্থক ছিল বা সাধারণ সৈন্য যারা হুকুম তামিল করেছে তাদের ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আজকাল রাজাকারদের আস্ফালন দেখে সেটাই মনে হয়। আবার এটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েও। বঙ্গবন্ধু পরবর্তীরা শাসক বঙ্গবন্ধুর উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে দালালদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দিয়েছে। ১৯৭৫ এর পরে এই আইনটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন হলো কেন দালাল আইন করা হলো, কেন বিচার হলো না। বঙ্গবন্ধু যে কেবল একক সিদ্ধান্তে করেছেন তা কিন্তু আমার মনে হয় না। আন্তর্জাতিক চাপও একটা প্রধান কারণ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। মনে রাখতে হবে সেসময় জার্মানদের কোনো সমর্থক ছিল না। রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্টালিন বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল সমগ্র আরববিশ্ব, নিক্সন-কিসিঞ্জারের আমেরিকা ও চীন। তখনও বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের স্বীকৃত দেশ না। ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেননি, অথচ বন্দীরা ছিল তাদের কাছেই।
আরেকটি বিষয়। বাংলাদেশের তখনকার অবকাঠামো, আর্থিক সামর্থ্য ও বিচার ব্যবস্থা যা ছিল তা দিয়ে কি এত দালালের বিচার করা সম্ভব ছিল? জাতিসংঘের তত্বাবধানে ১৯৯৪ সালে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর রোয়ান্ডার জন্য ব্যয় হয়েছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার। ৫ হাজার মামলা করা হয়েছিল। তবে যে গতিতে এই ট্রাইব্যুনাল চলেছিল তাতে সব অভিযুক্তদের বিচার করতে প্রয়োজন হতো ১২০ বছর।
তাহলে কি এখন আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সুযোগ নেই? আছে, অবশ্যই আছে। নতুন করেও শুরু করা যায়। অবশ্য কিছু কাজ করাই আছে, প্রয়োজন কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের।
সবচেয়ে ভাল উদাহরণ আমাদের জন্য, সারা বিশ্বের জন্য দক্ষিন আফ্রিকা। বর্ণবাদনীতি অবসানের পর দক্ষিন আফ্রিকায় নেলনস মেন্ডেলা ১৯৯৫ সালে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েসন কমিশন গঠন করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবাদের প্রভাব সমীক্ষা করে দেখা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু।
আমরাও এখন গঠন করতে পারি এ ধরণের ট্রুথ কমিশন। তাতে খুব বেশি কষ্ট হবে না। মনে করতে পারি যে ১৯৯৪ সালে গঠন করা হয়েছিল গণ তদন্ত কমিশন। বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যান। ১৬জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। এরা হল,
১। আব্বাস আলী খান (এখন মৃত)
২। মতিউর রহমান নিজামী
৩। মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
৪। আব্দুল আলিম
৫। দেলোয়ার হোসেন সাইদী
৬। মাওলানা আবদুল মান্নান (মৃত)
৭। আনোয়ার জাহিদ
৮। আবদুল কাদের মোল্লা
৯। এস এ এম সোলায়মান
১০। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১১। মাওলানা আবদুস সোবহান
১২। মাওলানা এ কে এম ইউসুফ
১৩। মোহাম্মদ আয়েনউদ্দিন
১৪। আলী আহসান মুজাহিদ
১৫। এবিএম খালেক মজুমদার
১৬। ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন

(এই কমিশন গঠনের আগেই গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার হয়েছিল বলে এই কমিশনের তালিকায় তার নাম নেই। কমিশনের রিপোর্টটি পাওয়া যায়।)

আসুন রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরাও একটা ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই।



 

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৩
সংস্থাপক বলেছেন: অসাধারণ!
একেবারে চোখে আঙুল দিয়া দিসেন।অনেক ধন্যবাদ।

২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৩
মানুষ বলেছেন: ধন্যবাদ শওকত হোসেন মাসুম। আমার একটি ভুল ধারণার অবসান ঘটানোর জন্য।
৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:০৩
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: ৩০২, ৩০৪, ৩৭৬, ৪৩৫, ৪৩৬ ও ৪৩৮ ধারাগুলোতে কাউকে তখন কি অভিযুক্ত করা হয়েছিল? যদি করা হয়ে থাকে তবে সেই লিস্ট কি এখন আর উদ্ধার করা সম্ভব? (অবশ্য এখনও অভিযোগ করার সুযোগ আছে নিশ্চয়ই)
.
ইন্দিরার হাতে কত যুদ্ধাপরাধী ছিল? তাদের মধ্যে কতজন ছিল রাঙালী? বাঙালী যুদ্ধাপরাধী মানেই তো রাজাকার।
.
এতদিন পরে একজন রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কি বিচার করা সম্ভব?
৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: মানুষ. আপনার ভুল ধারনা ভেঙ্গেছে বললেন, এটাই তো বড় সার্থকতা।
৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
আপন তারিক বলেছেন: মাসুম ভাই দুর্দান্ত পোস্ট !
ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি আরো জোরালো হোক।
৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১৩
শাইরি বলেছেন: হায়! কত ভুলের মধ্যেই না আছি আমরা।
আপনাকে ধন্যবাদ।
৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
নাদান বলেছেন: দারুন জিনিস জানলাম।
১০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
নাভদ বলেছেন: মাসুম ভাই, আপনার এই পোস্ট যে কত গুরুত্বপূর্ন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না....৫.....
১১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: কৌশিক ভাই- অনেকেই অভিযুক্ত হয়েছিলেন, অনেকের জেলও হয়। চিকন আলি নামের একজন রাজাকার সম্ভবত বেশি সাজা পায়। পুরো তালিকা আমার জানা নাই। তবে ৭৫ সালে আইন বাতিলের পর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ইন্দিরা গান্ধীর হাতে ২শ জন বন্দী ছিল। পুরো তালিকা চাইলে দিতে পারি। সবাই ছিল পাকিস্তানের তিন বাহিনীর সদস্য।

১৯৯৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি গিয়াসউদ্দিন আহমেদের ছোট বোন ফরিদা বানু রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। সিআইডি চৌধুরী মইনউদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান নামে দুই ঘাতককে দায়ী করে চার্জসিট দিয়েছিল । এখনো এই মামলা বিচারাধীন। এভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে বিচার করা সম্ভব

তবে এখন বিচার করতে হলে সবচেয়ে ভাল পন্থা ট্রুথ কমিশন করে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তারপর বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করা।
১২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৩
নাভদ বলেছেন: কৌশিক আহমেদ বলেছেন :৩০২, ৩০৪, ৩৭৬, ৪৩৫, ৪৩৬ ও ৪৩৮ ধারাগুলোতে কাউকে তখন কি অভিযুক্ত করা হয়েছিল
--------
কৌশিক ভাই, যতদুর মনে পড়ে, চিকন আলী নামের এক রাজাকারের ১০ বছর সাজা হয়েছিল.....অনেকের বিচার চলছিল....কিন্তু ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এক সরকারী আদেশে পুরো ব্যপার টা বন্ধ করে দেয়া হ্য়.....(শেষ তথ্যটা ড. আলী আকবর খান এর দেয়া.....)
১৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৯
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: কিন্তু, একটা আইনের বোধহয় দরকার আছে। নইলে রাজাকারদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা কারীদের সাজা দেয়া তো সম্ভব হবে না।
.
রাজাকারদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা করা সম্ভব। বিষয়টা নিয়ে ক্যাম্পেইন হওয়া উচিত। যদি কিছু কেস এভাবে চালু হয় তখন ট্রুথ কমিশন গঠন করার যৌক্তিকতা আরো স্পষ্ট হবে।
.
শওকত ভাই, আজকে আবার বরিশাল যাচ্ছি। আপনার জন্য কি আনবো বলেন? এত চমৎকার একটা পোস্টের জন্য গৌরনদীর মিস্টিতে চলবে?
১৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩০
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আমার নম্বর প্রতুর কাছে আছে।
১৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩২
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ক্যাডেট কলেজ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে গৌরনদীর রসমালাই খেতাম--------আহারে মনে করিয়ে দিলেন, কৌশিক ভাই।
১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৪
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: কারো কারো ভুল ভেঙ্গেছে বলে ভাল লাগলো। আমাদের সবারই উচিত সঠিক ইতিহাসটা জানা।

বাড়তি তথ্যের জন্য ধন্যবাদ নাভদ
১৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২০
ঘাতক বলেছেন: সঠিক ইতিহাস খুন হয়ে গেছে
সেই কবে।
আরও খুন হয় প্রতিদিন।
১৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৫
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন: আমার জানা মতে, ৩৬,০০০(প্রায়) অপরাধীর মধ্যে সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়েছিলেন ২৬,০০০(প্রায়)। বাকী ১০,০০০(প্রায়) যাদের বিরূদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তারা মাপ পান নাই।
মজার ব্যাপার হলো আমরা অনেকেই এইগুলা জানি না, আর বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরীরা এইগুলা জানানোর কষ্ট করেন নাই।
~
২০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৯
অন্যআনন বলেছেন: " এটা ঠিক যে এখন মনে হয় যারা সমর্থক ছিল বা সাধারণ সৈন্য যারা হুকুম তামিল করেছে তাদের ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আজকাল রাজাকারদের আস্ফালন দেখে সেটাই মনে হয়।" ঠিক হয়নি, টয়নি না, ছাড়লো কেন? কে তাদের আবার ধরবে? স্বাধীন হবার পর দেশে বিভিন্ন বক্তৃতা- ভাষণে বঙ্গবন্ধু নিজের উদারতার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, " ...মনে করছে, সরকার কিছু কয়না। ফ্রি স্টাইল। বঙ্গবন্ধু আছে, একবার কাইন্দা পড়লে মাফ। করবো কী? এই দোষটা আমার আছে সত্যি! হাত- পা কাইন্দা পড়লে, আমার মায়া লাগে। মাফ করে দিই। কী, করবো, আমার ছেলে পেলে আইসা যখন কান্দাকাটি করে যে, আমরা খুন কইরা আইছি।..মাফ কইরা দেই। এই একটা দোষ হইয়া গেছে আমার বড়ো দোষ। এই দোষ থেকে আমি যে কি করে উদ্ধার পাবো , সেটাই ভাবতেছি...।"
২১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৫
অন্যরকম বলেছেন: সাংবাদিক এ.বি.এম মুসার একটা কলাম পড়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, "বঙ্গবন্ধুর যত দোষই থাকুক, তিনি যত ভুল বা অন্যায় করে থাকুন না কেন একটা জিনিস তার ছিল যেটা আর কারও ছিল না। তার বড় সর ১টা কলিজা ছিল। এত বড় কলিজা এ দেশে আর কারও েই। এজন্যই তিনি এদেশের মানুষকে এভাবে ভালবাসতে পেরেছেন।"
২২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৬
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: একমত ফেরিওয়ালা ভাই। আওয়ামী লীগের অনেকেও সব তথ্য জানে না বইলাই আমার মনে হয়।
২৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: একমত অন্যরকম ও অন্যআনন।

ধন্যবাদ বিপ্লব
২৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৫
আশরাফ রহমান বলেছেন: যে ষোল জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল তার ফলাফল কি ছিল ? দালাল আইনে কতজনকে সাজা দেয়া হয়েছিল ? কারো মৃত্যুদন্ড হয়েছিল কি ?
২৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৪
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: আশরাফ রহমান- তদন্ত করেছিল একটা বেসরকারি কমিশন। এর রাষ্ট্রীয় বৈধতা নেই। বিচার করবে তো সরকার। সেটা হয়নি।
২৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৬
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: "ধন্যবাদ শওকত হোসেন মাসুম। আমার একটি ভুল ধারণার অবসান ঘটানোর জন্য। "
কি লাভ এইসকল ভুল ধরিয়ে দিয়ে? ১৫ আগষ্ট, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ শে মার্চ... এই তিন দিন .. দ্যান আবার যেই লাউ সেই কদু...

কি করা যায়... কি করতে হইবো... এইসব বাদ দিয়া শুরু করেন.. প্লিজ.. অনেক হইছে... নেতারা কেউ কিছু করবোনা... যা করার আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষদেরই করতে হবে।
২৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
অন্তরাল বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট। ধন্যবাদ। এখন দাবি তোলা যায়। তবে বঙ্গবন্ধু বিচার করলে এখন জামাতীদের আর রাজনীতি থাকত না। সঙ্গে আরো কয়েকটি দলেরও জন্ম হত বলে মনে হয় না।
২৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪২
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: প্রত্যুত-নেতারা করবে না এটা মানি। বিচার করতে হবে এই দাবিটাই বার বার বলতে হবে।
২৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৭
অন্তরাল বলেছেন: '৭১এ গোলামদের বিচার করে ফাসিতে ঝুলাতে পারলে বাংলাদেশে এই যে দুই ধারার রাজনীতি চলতাছে তা নাও হতে পারত। বাংলাদেশে আসলে রাজনীতি হলো আওয়ামী লীগ, ভারত আর তার বিপরীতে এন্ট্রি ভারত, এন্ট্রি আওয়ামী লীগ, প্রো পাকিস্তান বা মুসলিম অর্থে এন্ট্রি ভারত। যে কারণে আওয়ামী লীগকে এক গোষ্টি দেখে ভারতের দালাল হিসাবে। অন্যদিকে ধর্ম-কর্ম না করলেও মুসলমান "সাজে"। তাই তারা ভারত বিরোধী আর আওয়ামী লীগ বিরোধী। কিন্তু বাংলাদেশে এন্ট্রি আওয়ামী শক্তি ক্ষমতায় থাকলেই বরং ভারতের সুবিধা বেশি। ভারত সে সময় বেশি সুবিধা নিতে পারে।
স্বাধীনতার পরই গোড়া মেরে কেটে দিতে হত পাকিস্তান পন্থিদের নেতৃত্বকে। দেখেন জামাত-আল বদর আল শামসরা কিন্তু ভুল করেনি। ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের ঠিকই হত্যা করেছে। এটা করেছিল সুদূর পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। কিন্তু স্বাধীন দেশের শাসক ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারীরা ভুল করল। এটা কেবলমাত্র ভুল ছিল তা ঠিক নয়। এর সঙ্গে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের রক্ষার তাগিদও ছিল। যেমন করে পরবর্তীতে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের দলে ডেকে পদ দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিকে আত্মীয়করণ করা হয়েছে।
ধন্যবাদ মাসুম ভাই। সঙ্গে আমার বক্তব্যও দিলাম।
৩১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১২
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: সম্পূর্ণ একমত অন্তরালে, ভুল তো বঙ্গবন্ধুর ছিলোই।
৩২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৭
চুপেচাপে বলেছেন: আমি অন্তরালের সঙ্গে সম্পুর্ন একমত। আর ধন্যবাদ শওকত হোসেন মাসুম ও অন্তরালকে। মাসুমের পোষ্ট ও অন্তরালের মন্তব্য মিলে একটা আরো ভালো পোষ্ট হতে পারে। দুইজনেরটা মিলে আরেকটা পোষ্ট হতে পারে।
৩৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৭
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: চুপেচাপে-অন্তরাল এবার লিখুক
৩৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৩
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ধন্যবাদ ঝরা পাতা ও আরণ্যক
৩৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:০৯
এহহামিদা বলেছেন: মাসুম সাব, মতি সাব মনে হয় আন্নেরে এই কতা গুলা কইতে ভুইলা গেছে!!!!
Under the terms of the agreement worked out by Foreign Ministers Kamal Hossein of Bangladesh, Swaran Singh of India and Aziz Ahmed of Pakistan, Bangladesh agreed "as an act of clemency" to drop its plans to try 195 Pakistani prisoners for war crimes. The prisoners will now be returned to Pakistan, along with the remaining 6,500 of the 90,000 P.O.W.s captured during the war and held since then in camps in India. That repatriation, begun last August, is expected to be completed by the end of the month.
...............
In a magnanimous gesture, Pakistan's Foreign Minister Ahmed gave chief credit for bringing an end to a "painful chapter" in South Asia's history to Bangladesh's Prime Minister Sheik Mujibur Rahman. Later in the week, Mujib flew into New Delhi for a brief visit after two weeks of medical treatment in Moscow. Added Swaran Singh: "The trials, tribulations and conflicts of our subcontinent will become a thing of the past—something of a bad dream that is best forgotten."
Click This Link
943620,00.html
৩৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:২৬
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: এহহামিদা-এটা তো এই অধ্যায়ের আরেকটা অংশ।
তারপরেও বলবো ভাল মন্তব্য। চালিয়ে যান। কিন্তু সব কিছুর মধ্যে মতি ভাই কেমনে আসে।
আমি এখানে সাংবাদিকতা করতে আসি নি। এসেছি ব্লগের লেখা পড়তে ও ভাল লাগলে লিখতে।
৪২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৩৫
এহহামিদা বলেছেন: যেই দালাল আইনের কথা বলা হইতাছে, সেই আইনে ১৯৭৪ এর এপ্রিল মাসি বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্থানের মধ্যকার চুক্তির আগে শুধু একজনের শাস্তি হয়!!
তার নামটা জানাব, রিপোর্ট টা খুজছি!!
চুক্তি পর আর কারো বিচারের কথা শুনা যায় নাই!!

তবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরই জনগন অনেক রাজাকারদের মেরে ফেলে!!

অনেকে (অনেকেই বল্লাম, খেয়াল কইরা) যারা বেচে যায়, তাদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে আত্মীয়তার কারনে বেচে যায়!!
৪৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৪০
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: তার নাম চিকন আলী। রাজাকার মেরে ফেলে এবং আত্মীয়তার কারণে বেচে যায়-আমি একমত।
৪৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৫১
নাভদ বলেছেন: এহহামিদা বলেছেন : অনেকেই আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে আত্মীয়তার কারনে বেচে যায়
-----------------------------------------------তখনো তো শহীদ জিয়া বিএনপি বানান নাই .............আর কার আত্মীয় হবে?
৪৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:১২
দিগন্ত বলেছেন: এই পোস্টটাতে ৫ এর কম কে দিয়েছে জানতে পারি?
৪৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:২৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: কে কম দিছে কেমনে কই।
ধন্যবাদ দিগন্ত, সাইমুম ভাই, এস্কিমো, আমি কে, নাভদ ও ডাক্তার সাব।
৫০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৩৬
সাইমুম বলেছেন: মাসুম ভাই : ট্রুথ কমিশন গঠন করা যাবে। তবে ওয়্যার কমিশন গঠন করতে হলে অন্য কিছু লাগবে।
একাত্তরের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালাল আইনের দৃষ্টিকটু অপপ্রয়োগ হওয়ায় বঙ্গবন্ধু কিছু ক্যারাগরির অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে বাকিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনেছিলেন।
প্রচলিত আইনেও দালালদের বিচার সম্ভব। কিন্তু খাই খাই নেতারা যতদিন থাকবে ততদিন কিসসু হবে নারে ভাই।
৫২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৫১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: রাজনীতির স্বার্থেই রাজনীতিবিদরা এটা করবেন না তা আমি বুঝি সাইমুম ভাই।
৫৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৫৯
নাভদ বলেছেন: @মাসুম ভাই, এই বার মনে হয় করবেন.....যে ধাক্কা খেয়েছেন তার পরে অনেকের ঘুম কেটে যাবার কথা....
৫৪. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:২৩
হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: খুবই দরকারী পোস্ট।প্রিয় পোস্টে এড করে রাখলাম।
৫৫. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: পোস্টেরে ৩ আর অন্তরাল-এর কমেন্টেরে ২=৫
৫৬. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ধন্যবাদ হোসেইন ভাই। শুক্রবার অনলাইনে ছিলাম না। আজ এসে আপনার মন্তব্য পড়লাম
৫৭. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৫৩
সাইফ সামির বলেছেন: মাসুম ভাই, এখানে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে।
আপনি বলছেন, 'দালাল আইন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর। এই আইনে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছিল কাদের, আর কাদের জন্য ক্ষমা প্রযোজ্য ছিল না। আইন অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৪, ৩৭৬, ৪৩৫, ৪৩৬ ও ৪৩৮ ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তারা ক্ষমা পাবে না।
৩০২ হলো খুন, ২০৪ খুনের চেষ্টা, ৩৭৬ ধর্ষন, ৪৩৫ অগ্নিসংযোগ, ৪৩৬ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ৪৩৮ জাহাজে অগ্নিসংযোগ।'
কিন্তু অনেক দালাল নেতারা তো প্রতক্ষ্যভাবে এসবে জড়িত ছিল না! তবে কি তারা ক্ষমা পেয়ে গেছেন?
৫৮. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৫৯
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: আমি যতদূর জানি হাতে গোনা কয়েকজন নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এটা ঠিক যে বেশিরভাগই ছাড়া পায়। এ কারণেই তো নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছি।
৫৯. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:১১
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। অপূর্ব বস। লাল সেলাম।

৬১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৩২
জেনারেল বলেছেন: ভাল লিখেছেন, ধন্যবাদ
৬২. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৪৭
দ্বান্দ্বিক বলেছেন: ধন্যবাদ তথ্যবহুল এই পোস্টটির জন্য। ৫।
৬৪. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:১৭
আমি মাহমুদ বলেছেন: ভালো লেখা । সেভ করে রাখলাম। ৫
৬৫. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:৪০
সুপান্থ রহমান বলেছেন: মাসুম ভাই.....অসাধারণ।
আর কি বলব........প্লিজ এইরকম আরো চাই.........
৬৭. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:৩২
এ এক অন্য আই বলেছেন: মাসুম ভাই : 'ট্রুথ কমিশন' নিয়া আপনি এগিয়ে চলুন। আমি আছি আপনার কাতারে।
৬৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৭
নিজেরআয়না বলেছেন: মাসুম, ধন্যবাদ। ব্লগে আমি এসেছি অনেক পড়ে। তাই পুরনো অনেক লেখা পড়ছি এখনো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তোমার পড়াশুনা ভালো হচ্ছে। চালিয়ে যাও।
৭০. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৩৮
স্বাধীন বাংলা বলেছেন: এগিয়ে যাও
চালিয়ে যাও
আমরা আছি তোমার সাথে।
৭১. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:১৭
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
*** রাজাকার দের বর্জন করুন- এরা দেশ ও ধর্মের শত্রু ***
*** যারা তাদের সমর্থন করে, পুনর্বাসন করে তারা দেশের শত্রু - এদের প্রতিরোধ করুন ***
৭২. ১০ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
আরিফ জামান বলেছেন: এত কথা জানতামনা ! Thanks
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

লেখক বলেছেন: কি হইছে বিমা। এতোদিন পর এই পোস্ট ঠেলতাছো কেন?

৭৬. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৩
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: এখনইতো উপযুক্ত সময় এই পোস্ট ঠেলা মারার
নিয়ম কইরা দিনে দুইবার ঠেলা মারুম । আপনে পরে ঠেলা কমেন্টগুলি মুইচ্ছা দিয়েন । ;)
৭৮. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৭
সপ্ন পুরন বলেছেন: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: মারো ঠেলা হেইয়ো

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩২৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আকাল-তবু স্বপ্ন থাকে
বিরোধ-তবু স্বপ্ন থাকে
ভাঙ্গন-তবু স্বপ্ন থাকে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ