somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারের নতুন কিছু মুভির গল্প : ভাল মন্দ অভিজ্ঞতা

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্কার ঘোষণা হয়েছে অনেকদিন। সবগুলো ছবি দেখাও হয়নি। সবগুলো না দেখলেও কিছু কিছু দেখলাম। এবারের নতুন ছবিগুলোর দুএকটি বাদ দিলে বলা যায় খানিকটা হতাসই হতে হলো।

১। নো কান্ট্রি ফর ওল্ডম্যান: এবারের সেরা ছবি। দুই ভাই জোয়েল ও ইথান কোয়েন সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছে এই ছবি থেকে।
এটা একটা ক্রাইম থ্রিলার। চোর পুলিশ খেলা নয়, বরং বলা হয় চোর-চোর আর অসহায় পুলিশের খেলা। পরিচালকের দক্ষতা পুরো ছবি জুড়ে। ড্রাগ বিক্রির দুই মিলিয়ন ডলার নিয়ে পুরো ছবি। এক চোর পালাচ্ছে আর তার পিছনে আরেক চোর। শেষ পর্যন্ত পুলিশ যে অসহায় সেটাও দেখান পরিচালক।
এমনিতে ভাল ছবি। তবে অসাধারণ কিছু একটা দেখলাম সেরকম কিছু না।

২। জুনো-১৬ বছরের এক কিশোরীর প্রেগনেন্ট হওয়া নিয়ে গল্প। গত বছরের শেষ সময়ে এই ছবিটি মুক্তি পেয়ে হঠাৎ করেই ঢুকে যায় অস্কার লিস্টে। এলেন পেজ খুব ভাল অভিনয় করেছে। সমালোচকদের খুবই পছন্দের ছবি এটি। ছবিটি দেখে হতাসই হলাম। ঠিক ঘটনার সঙ্গে একাত্ম হওয়া যায় না। খুব বেশি এমেরিকান মুভি।

৩। নকড আপ-ফর্বস ম্যাগাজিন পড়ে দেখলাম তারা খানিকটা বিস্মিত কেন এই ছবিটি অস্কারের তালিকায় নেই। তুমুল বক্স অফিস কাপানো ছবি। এটিও অযাচিত প্রেগনেন্সির ছবি। সুন্দরী অ্যালিসন টিভি উপস্থাপিকা। প্রমোশনের খবরে উৎসব করতে গিয়েছিল বারে। মাতাল অ্যালিসন একরাতের পরিচিত বেনের ঘরে রাত কাটায়। বেন একজন তেমন কিছু না করা একজন অবৈধ অভিবাসী। প্রেগনেন্ট অ্যালিসন খুজে বের করে বেনকে। তারা একসঙ্গে থাকা শুরু করে। তারপরে একসঙ্গে থাকা না থাকার নানা সমস্যা নিয়ে ছবি। শেষ দিকে বিরক্তিকরই মনে হয়েছে।

৪। ইস্টার্ণ প্রমিসেস-এই সময়ে আমার দেখা সেরা ছবি। মুক্তি পেতেই অনেকে মনে করেছিল এটাই হবে অস্কার দৌড়ের সেরা ছবি। মাফিয়া থ্রিলার। যারা খানিকটা দুর্বলচিত্ত তাদের না দেখাই ভাল। লন্ডনে রাশিয়ান মাফিয়াদের নিয়ে ছবি। কাকতালীয় ভাবে এখানেও অযাচিত প্রেগনেন্সি ছবির বড় অংশ জুরে। প্রথম দৃশ্যেই ক্ষুর দিয়ে জবাই। তারপরেই হাসপাতালে ১৪ বছরের এক মেয়ের মৃত্যু। ধর্ষিতা এই মেয়েটি একটি মেয়ে জন্ম দিয়েই মারা যায়। হাসপাতালে কর্মরত আনা মেয়েটির সাথে পায় একটি ডায়েরি, যা রুশ ভাষায় লেখা। সেখানে ঠিকানা একটি রেস্তোর। আস্তে খুলতে থাকে জট। যারা ক্রাইম থ্রিলার পছন্দ করেন তারা একাধিক বার এই ছবিটা দেখবেন-এটা আমার বাজি। অভিনয়ও খুবই ভাল। ছবিতে কোনো বন্দুকের ব্যবহার নেই। কেবলই ছুরি-ভয়াবহ।

৫। হল্লা বোল-রাজকুমার সন্তোষীর অনেক ছবি দেখেই আমি মুগ্ধ ছিলাম। হল্লা বোল তার নতুন ছবি। আইডিয়া খারাপ ছিল না, কিন্তু অনেক কিছু এক জায়গায় আনার চেষ্টার কারণে খানিকটা গড়মিল হয়ে গেছে। ছবিটি বেশি দীর্ঘ। ফলে শেষ পর্যন্ত টান টান ভাবটা রাখা যায়নি। অজয় দেবগান বরাবরের মতোই ভাল। সবচেয়ে ভাল পঙ্কজ কাপুর।

৬। বর্ন আলটিমেটাম-বর্ণ সিরিজের শেষ পর্ব। আমার মনে হয় এটাই সেরা। ম্যাট ডেমন বরাবরের মতোই ভাল। অসাধারণ সম্পাদনা। টানটান ছবি। যারা দেখেননি তারা আগের দুটো দেখতে ভুলবেন না। বর্ন আইডেনটিটি ও বর্ণ সুপ্রিমেসি।

এখন হাতে আছে এটোনমেন্ট, জর্জ ক্লুনির মাইকেল ক্লেটন ও ডেনিয়েল ডে লুইসের দেয়ার ইজ নো ব্লাড। দেখি এগুলো কেমন লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩
২২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×