আমার প্রিয় পোস্ট

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

কাতিন গণহত্যা: একটি সিনেমা, ইতিহাস খুঁজে দেখা এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

শেয়ারঃ
0 1 0

একটা সিনেমা দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। একটা পোলিশ ছবি, পরিচালক আন্দ্রে ওয়াজদা (Andrzej Wajda)। ছবিটার নাম কাতিন (Katyń)। ২০০৭ সালের ছবি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল পোল্যান্ড থেকে। জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমন করার পর। পোল্যান্ডের একদিক দখল করে নেয় জার্মানি, অন্যদিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। বলা হয় গোপন চুক্তি করেই দেশ দুটি পোলান্ড দখল করে নেয়। ছবির শুরু এখান থেকে।
বিনা যুদ্ধে পোল্যান্ড ছেড়ে দেয়নি পোলিশরা। ফলে যুদ্ধে হেরে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে বন্দী হয় বিশাল এক অংশ। সেনাবাহিনী ছাড়াও বন্দী হয় শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবি, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাদের ধরে নিয়ে যায় রাশানরা। এর বড় অংশই আর শেষ পর্যন্ত ফিরে আসেনি। পুরো ছবিটা এগিয়েছে নারীদের চোখ দিয়ে। এর মধ্যে যারা আর ফিরে আসেনি তাদের স্ত্রী, বোন, মা, মেয়ে।
আন্দ্রেজ সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরে নিয়ে যায় সোভিয়েত আর্মি ১৯৩৯ সালে। অপোয় থাকে স্ত্রী আনা ও মেয়ে নিকা। আন্দ্রেজ আর ফিরে আসে না নিয়মিত ডায়েরি লিখতো আন্দ্রেজ। লেখা আছে বন্দী ক্যাম্পের অনেক ঘটনা। আন্দ্রেজকে যখন আলাদা করা হয় তখন তার বন্ধু জারজি ঠান্ডায় কাতর আন্দ্রেজকে নিজের সোয়েটারটা পড়তে দেয়। এরপরই ছবির কাহিনী শুরু হয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের পোল্যান্ড থেকে।
পোল্যান্ডে তখন সোভিয়েত পন্থী কমিউনিস্ট শাসন। আবিস্কার হয়েছে কাতিন গণকবর। কাটেইন একটা গ্রাম, জঙ্গলও আছে। বিশ্বব্যাপী প্রচার যে নাজীদের হাতে মারা গেছে পোলিশ যুদ্ধবন্দীরা। তারাই কাতিন গ্রামে গণহত্যা চালিয়েছে। একথা প্রচার করা হচ্ছিল সরকারি তরফ থেকেই। গণকবরে ছবি দেখানো হয়েছে রাস্তার রাস্তার মোড়ে। দেওয়ালে নাজী বিরোধী পোস্টার। কিন্তু পোলিশরা জানে কাজটা সোভিয়েত ইউনিয়নের। তবে তা বলা যাবে না। সিভিতে সোভিয়েতদের হাতে বাবার মারা যাওয়ার কথা লেখা ছিল বলে ভর্তি হতে পারেনি একজন। পরে সোভিয়েত বিরোধী পোস্টার ছিড়ে ফেলতে গিয়ে মারা যায় সে। ভাইয়ের কবরে সোভিয়েতদের হাতে মারা গেছে লিখতে চেয়ে জেলে যেতে হয় একজন বোনকে।এভাবেই ছবিটা এগিয়ে চলে। সবশেষে আন্দ্রেজের ডাইরি হাতে পায় আনা। ১৯৪০ পর্যন্ত সব কথা লেখা ছিল তাতে। তখনও সে সোভিয়েতের হাতে বন্দী। তারপর কেবলই ফাঁকা পৃষ্ঠা। এর পর ছবিতে দেখানো হয় আন্দ্রেজদের শেষ পরিণতি।
প্রায় ২২ হাজার যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করেছিল সোভিয়েতরা। এদের মধ্যে ছিলো আন্দ্রেজদের মতো মানুষরাই। ছবিতে দেখায় দুটি স্থানের হত্যাকান্ড। একটি এক গোপন ক, অন্যটি কাতিন জঙ্গল। গর্ত খুড়ে দাঁড় করায় একেকজনকে। পেছন থেকে মাথার খুলিতে একটা করে গুলি। এভাবে ২২ হাজার হত্যা। আন্দ্রেজ পড়ে থাকে গর্তে, একটা বুলডজার মাটি চাপা দেয়। ছবি শেষ।
ছবিটা দেখে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম অনেকন। তারপর শুরু হয় ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি। পুরো ইতিহাস পরে এবার আমি হতভম্ব।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯, জার্মান দখল করে পোল্যান্ডের একটি অংশ। আর ১৭ সেপ্টম্বর সোভিয়েত রেড আর্মি দখল করে নেয় পোল্যান্ডের পূর্বাংশ। ইতিহাস বলে এই দখলের জন্য জার্মানি ও সোভিয়েতের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজস ছিল। রেডআর্মি কিছুটা বাঁধার মুখে পড়েছিল। ফলে সাড়ে ৪ লাখ যুদ্ধবন্দী থাকলেও পরে ৪০ হাজার রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সোভিয়েত ইন্টানন্যাল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এনকেভিডির (আসলে সোভিয়েত গুপ্ত পুলিশ) হাতে যুদ্ধবন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের নেওয়া হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায়। বন্দীদের তালিকায় সেনা সদস্য ছাড়াও ছিল শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। অনেককে আবার আটক করা হয়েছিল সোভিয়েত বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য। ১৯৩৯ এর অক্টোবর থেকে ১৯৪০ সালের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চলে তাদের উপর। এর উদ্দেশ্য ছিল আসলে কে বাঁচবে আর কে মরবে সেটি নির্ধারণ করা। যাদের মধ্যে সামান্যতম সোভিয়েত বিরোধী মনোভাব পাওয়া গেছে তারাই তালিকাভূক্ত হয়।
পিপলস কমিশার ফর ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ও ফার্স্ট র‌্যাংক কমিশার অব স্টেট সিকিউরিটি ল্যাভরেনিটি বেরিয়া ১৯৪০ সালের ৫ মার্চ স্টালিনসগ সোভিয়েত পলিটব্যুরোর সব সদস্যের কাছে একটি নোট পাঠায়। তাতে যুদ্ধবন্দীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ছিল। পলিটব্যুরো তাতে সম্মতি দেয়। ১৯৪০ সালের ৩ এপ্রিলের পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যে ২২৪৩৬ জনকে মেরে ফেলা হয় ঠান্ডা মাথায়, আয়োজন করে। এর মধ্যে ছিলেন একজন এডমিরাল, দুইজন জেনারেল, ২৪ জন কর্ণেল, ৭৯ লে.কর্ণেল, ২৫৮ মেজর, ৬৫৪ ক্যাপ্টেন, ২০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক, ৩০০ ডাক্তার, ২০০ বিমান চালক, ১শ লেখক-সাংবাদিক, ইত্যাদি। গুলি করা হয়েছিল জার্মানির তৈরি ওয়ালথার পিপিকে পিস্তল দিয়ে। তখন গুপ্ত পুলিশের চিফ এক্সিকিউশনার ভাসিলি মিখাইলোভিচ ব্লোখিন একাই গুলি করে মেরেছে ৬ হাজার পোলিশ বন্দীকে।



স্টালিনকে পাঠানো নোট। এখানেই হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়।


মোট তিনটি স্থানে মারা হয়। যেমন কাতিন জঙ্গল এবং কালিনিন ও কার্কিভে গুপ্ত পুলিশের বন্দীশালায়। সকালে শুরু হতো, হত্যা উৎসব চলতো সন্ধ্যা পর্যন্ত। পদ্ধতি ছিল একই। মুখে কাপড় ঢেকে পিছন থেকে একটা গুলি। বন্দীশালায় এভাবে মেরে ট্রাকে করে জঙ্গলে গণকবর। একজন জেনারেলের মেয়েকেও এভাবে হত্যা করা হয়।
১৯৪১ সালে জার্মানি রাশিয়া আক্রতম করে। ১৯৪২ সালে কিছু পোলিশ রেলশ্রমিক কাটেইনে গনকবর আবিস্কার করলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে কাটেইন জার্মানের দখলে চলে গেলে তারাই গণকবর আবিস্কার করে। বার্লিন রেডিওতে ১৩ এপ্রিল এটি ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়। জার্মানরা একটি কমিশন গঠন করে যাতে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের ফরেনসিক এক্সপার্টরা ছিলেন। তারা সবাই এ জন্য সোভিয়েতকে দায়ী করলেও সোভিয়েত তা অস্বীকার করে। তারা দাবি করে ১৯৪১ সালে জার্মানদের দখলে চলে যাওয়ার পর তারাই পোলিশ বন্দীদের হত্যা করেছে।

জার্মানরা এই পোস্টারটা বের করেছিল সে সময়। তথ্য অনুযায়ী এভাবেই হত্যা করা হয়।

পোলান্ডের প্রবাসী সরকার তখন লন্ডনে। এই সরকার ১৯৪৩ সালে বিষয়টি নিয়ে সোভিয়েত ব্যাখ্যা দাবি করলে স্টালিন পাল্টা দাবি করে যে পোলান্ডের এই সরকার নাজীদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারপর স্টালিন আরেকটি প্রবাসী সরকার (মস্কো ভিত্তিক) সমর্থন দেওয়া শুরু করে। সেসময় লন্ডন প্রবাসী পোলি প্রধানমন্ত্রী সিকোরসকি ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রসের মাধ্যমে তদন্ত চেয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালের ৩ জুলাই এক বিমান দূর্ঘটনায় মেয়েসহ তিনি মারা যান। মনে করা হয় এর সঙ্গেও সোভিয়েতের হাত ছিল।
১৯৪৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আবার কাতিন সোভিয়েতের দখলে চলে আসে। দখল পেয়েই শুরু হয় পুরো ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে জার্মানির উপর চাপিয়ে দেওয়ার কাজ। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাইরের কাউকে রাখা হয়নি। কমিটি তদন্ত করে জানিয়ে দেয় যে গণহত্যা জার্মানির কাজ, এবং সেটি হয় ১৯৪১ সালে। কাটেইন তখন জার্মানির দখলে। যুদ্ধের পর বিষয়টি আবারো ধামাচাপা দেওয়া হয়। নুরেমবার্গ ট্রায়ালে এটি প্রথমে স্থান পেলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম ১৯৯০ সালে স্বীকার করে যে কাতিন হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী তারাই। গর্ভাচেভ তখন মতায়। জানানো হয় এটি ছিল সোভিয়েত গুপ্ত পুলিশের কাজ। ১৯৯০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দায় মেনে নিয়ে মা চায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে বিষয়টির নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। কে দায়ী সেটি সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে নারাজ রাশিয়া। এমনকি এটিকে গণহত্যা বলতেও রাজী না। পোলান্ড রাশিয়ায় এসে তদন্ত করতে চাইলেও তাতেও রাজী নয় তারা।
প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই গণহত্যা। ইতিহাসবিদরা মনে করেন এর কারণ একটিই। আর সেটি হচ্ছে-পোল্যান্ড সোভিয়েতের সীমান্তের দেশ। তারা চায়নি সীমান্তে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পোল্যান্ড টিকে থাকুক। যারাই পোল্যান্ডকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে তাদেরই মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়।
পুরো ছবিটা দেখে এবং মেরে ফেলার কারণ জেনে মনে পড়ে যায় বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যার কথা। পাকিস্তান যখন দেখলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনিবার্য তখনই পরিকল্পনা হয় বুদ্ধিজীবি হত্যার, যাতে শক্তিশালী দেশ হিসেবে থাকতে না পারে বাংলাদেশ।
পোল্যান্ড আজও কাটেইন গণহত্যার বিচার চাইছে। আমরাও চাইছি। পোল্যান্ডের পে রাশিয়ার কিছু মানুষের বিচার করা হয়তো সহজ নয়। স্টালিনরা মৃত। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা বেঁচে আছে। কিছুদিন আগে তাদের একটি বড় অংশ গাড়িতে ফ্যাগ উড়িয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এবার তাদের বিচারের পালা। আওয়ামী লীগ প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আসুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার থাকি। জয় আমাদের হবেই। জয়ী হওয়ার এটাই সুযোগ।



কাটেইন গণকবর। মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গণহত্যাসিনেমা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার প্রিয় মুভিমুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: বিমা পোলান্ডে থাকে। বিমার কাছ থেকে পোলান্ডবাসীর মনোভাব জানতে আগ্রহী।
২. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০২
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: খুবই প্রাসংগিক লেখা। সকল গণহত্যার বিচার হওয়া উচিৎ ।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

৩. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৪
কিরিটি রায় বলেছেন: পুরো ইতিহাস পরে এবার আমি হতভম্ব।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪২

লেখক বলেছেন: ছবিটা দেখার আগে বিষয়টি আমি জানতাম না।

৪. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৮
হাসান শরিফ বলেছেন: মাছুম ভাই, লেখাটা ভালো লাগলো। আমি দ্রুত ছবিটা কিনে দেখতে চাই।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৮

লেখক বলেছেন: দেখা উচিৎ

৫. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১৪
জেরী বলেছেন: লেখাটা পড়ে......স্তব্ধ........।

সকল গণহত্যার বিচার হওয়া উচিৎ ।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫২

লেখক বলেছেন: স্তব্ধ হওয়ার মতোই। আমি ছবি দেখার আগে বিষয়টি নিয়ে জানতাম না।

৬. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১৯
রাশেদ বলেছেন: একজন লোক একাই ৬০০০ এর মত মানুষকে মেরে ফেলে! কি কমু!
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫৬

লেখক বলেছেন: ইন্টারনেট ঘাইটা সেইটাই পাইলাম।

৭. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৭
শেরজা তপন বলেছেন: দারুন পোস্ট। এবার ছবিটা দেখতে হবে_ধন্যবাদ আপনাকে
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০২

লেখক বলেছেন: দেখেন ছবিটা। ভাল লাগবে, ভাবাবে।

৮. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৮
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: সকল গণহত্যার বিচার হওয়া উচিৎ ।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: সকল গণহত্যার বিচার হওয়া উচিৎ

৯. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৭
হাসিব বলেছেন: এইটা দেখতে হবে ।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: দেখাই উচিৎ। আপনার ভাল লাগবে।

১০. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৫
মুকুল বলেছেন: মাসুম ভাই, পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম! সাম্রাজ্যবাদ তার প্রয়োজনে কতই না গণহত্যা করলো! তারা নিজেদের কিভাবে সভ্য দাবী করে বুঝিনা!

পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৪

লেখক বলেছেন: ছবিটা দেখার পর যখন ইন্টারনেট নিয়ে বসলাম পুরোটা জেনে আমিও স্তম্ভিত হয়ে গেছি। বিশেষ করে ছবির হত্যাদৃশ্য দেখলে স্তব্ধ হতে হয়। ছবিটা পারলে দেখেন।

১১. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৫
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ব্লগটা আপাতত পড়ছি না , আগে মুভিটা দেখব । ঘটনা জেনে গেলে মুভি দেখার থ্রিল হারিয়ে ফেলি ।আপনার লিস্ট থেকে মিসিং , দ্য কিলিং ফিল্ডস , কনস্ট্যান্ট গার্ডেনার , এরিন ব্রোকোভিচ , সিরিয়ানা দেখলাম ।

ইতিহাস বিষয়ে যারা সামান্য জ্ঞান রাখেন , তাদের জন্য মিসিং আর দ্যা কিলিং ফিল্ডস , মাইলফলক হয়ে থাকা মুভি হয়ে থাকবে । মুভি না বলে বরং লাইভ রিপোর্ট বলতে চাই । বাস্তবতাকে ছুঁয়ে ফেলা মুভি ।

এরিন ব্রোকোভিচে জুলিয়া রবার্টের অভিনয় এখনও মাথায় ঘুরছে ।

অন্তত তিনটি মুভিতে সিআইএ র তত্ত্বাবধানে চলতে থাকা গণহত্যা , রাষ্ট্রীয় ক্যু কে স্পষ্ট করে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে । অদ্ভূত এক দেশ ....... হাজারটা মানবতাবিরোধী অপরাধ ফাঁস হয়ে যাবার পরেও সংস্থা চলছে নিজের মতই ।

আরেকবার ধন্যবাদ
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩১

লেখক বলেছেন: মিসিং আমার অল টাইম ফেভারিটের মধ্যে পড়ে। এটা নিয়ে আমার আলাদা একটা পোস্ট আছে। কিলিং ফিল্ডস-এর এই সাংবাদিক ৭১-এর বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করেছিলেন। এই জাতীয় ছবিগুলোই আমার বেশি প্রিয়

১২. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৩
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

ছবিটা দেখার ইচ্ছা রাখি ।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: দেখেন।

১৩. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৫
একরামুল হক শামীম বলেছেন: সকল যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের অপরাধীদের কঠিন বিচার চাই।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: বাংলাদেশে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের অপরাধীদের কঠিন বিচার চাই।

১৪. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৫
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: বিমা পোলান্ডে থাকে। বিমার কাছ থেকে পোলান্ডবাসীর মনোভাব জানতে আগ্রহী।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

লেখক বলেছেন: বিমার অপেক্ষায় আছি

১৫. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০০
পারভেজ বলেছেন: ছবিটা দেকতে চাই। রাইফেলসে কি পামু?
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৪

লেখক বলেছেন: ছবিটা সব জায়গায়ই পাবেন এখন।

১৬. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৯
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: মাসুম ভাই এখন আমি ইউনিভার্সিটিতে । বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে হয়ত বাসায় ফিরবো ।
তখন অনেক কথা বলা যাবে ।
১৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০
মাহবুব সুমন বলেছেন: কাল মুভিটা দেখবো।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:২৮

লেখক বলেছেন: দেখেন।

১৮. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: আমি এই মুভিটা সামারে থিয়েটারে চলতে দেখেছি । সিনেমাটা দেখার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু সময়ের অভাবে দেখা হয় নি । তখন সামার জব করি অলস সময় একেবারেই কম । তার উপর পোলীশ মুভি থিয়েটারে কোন সাব-টাইটেল দেয় না । এটাও একটা কারন ।
আপনার পোস্টটা পড়ে এখন আফসোস হচ্ছে । ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা দুটো বইয়ের নাম বললো 'কাতিন' নিয়ে কিন্তু দুইটাই পোলীশ ভাষায়। আমাদের লাইব্রেরীরে দেখলাম আছে । অনেক অনেক ছবিও দেখলাম বইয়ের ভেতর। স্ট্যালীনকে পাঠানো নোটটার কপিও দেখলাম বইয়ের ভেতর।
উচ্চারনটা কিন্তু 'কাতিন' হবে মাসুম ভাই।

আমার বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলাম ঘটনা কি ?
সবাই দেখলাম কাতিনের কাহিনী জানে। আরো কিছু জায়গার নাম লিখে দিলো আমাকে যেখানে যেখানে গনহত্যা চালানো হয়েছিলো বিশ্বযুদ্ধের আগেই ।
Grodno, Indura, Sopoćkiny, Skidel, Brzostowica Wielka, Jeziory,Ostryń, Antopol, Dereczyn,Byteń
১৯৩৯ সালের সোভিয়েট আক্রমনের পরপর ইহুদীরা এই হত্যাকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো । এটা অনেকেই বললো। শুনে যা বুঝলাম ইহুদীরা সেই সময় '৭১ এর আল-বদর, আল-শামস এর দ্বায়ীত্ব পালন করেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটা হচ্ছে 'কাতিন' গনহত্যা ।
ইউনিভার্সিটির ক্যাফেটেরীয়ায় বসে কথা হচ্ছিলো ক্লাসমেইটদের সাথে । আমি পুরো ক্যাফেটেরীয়ায় একটা ছোটখাট জরিপ চালালাম .. অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের ছাত্র-ছাত্রীদের ধরে ধরে 'কাতিন' সম্পর্কে জানতে চাইলাম ।
২২/২৩ বছরের কম ছেলে-মেয়েদের দেখলাম ধারনা কম , অনেকে জানেই না।
২৩/২৪ বছরের উপরের সবাই মোটামুটি ঘটনাটা জানে । এর পেছনে রাশিয়া ছিলো এটাও জানে । জানতে চাইলাম তোমরা কি কিছু করেছ এই হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য ?
কোন এক আইনের কারনে এতদিন এই বিচার হওয়াটা সমস্যা ছিলো । ১৯৯৯ সালের পর জোরে শোরে পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হয়।
সবাই চায় বিচার হোক .... কিন্তু নিজেরাই স্বীকার করলো এটার ব্যপারে যারা প্রত্যক্ষ ভুক্তভুগি সেই সব পরিবার বেশি সোচ্চার । সাধারন নাগরিকরা হয়তো আমাদের মত এত সচেতন না। তারা মনে প্রাণে বিচার চাচ্ছে কিন্তু এই বিচারের জন্য কেউ নিজে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি এটা অবলীলায় স্বীকার করলো .. প্রায় সবাই দেখলাম এইকারনে বেশ লজ্জিত।
পত্রপত্রিকা এবং ভুক্তভুগি পরিবার বেশ সোচ্চার ।
আমার এক বন্ধু বললো ওর এক বন্ধুর দাদা কাতিন গনহত্যায় মারা যান , উনি পোলীশ সামরিক অফিসার ছিলো ।
সেই ছেলের সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখালাম ... দেখা যাক আরো কিছু জানা যায় কিনা।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিমা। উচ্চারণটা নিয়ে আমিও বিভ্রান্তিতে ছিলাম।
পরিস্থিতি তো প্রায় আমাদের মতোই। আমরা বোধহয় খানিকটা ভাল অবস্থানে আছি। তবে তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে আরেকটি দেশের সঙ্গে, রাশিয়া। আর আমাদের দেশে সাধারণ নাগরিকরা এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সোচ্চার।

২০. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: পোলীশদের বিষয়টা আন্দাজ করা যায় । ওদের গনহত্যার ঘটনা তো একটা দু'টা না , অসংখ্য এবং অনেকের দ্বারা।
আমাদের কষ্টটা অন্যরকম .. যারা গনহত্যা চালিয়েছে তারা আমাদের দেশেরই লোক আর পরবর্তিতে আমাদের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে ।
আমাদের দেশের ঘটনা যখন বলছিলাম, অনেকেই জানতে চাইলো বদর শামস এর বংশের কেউ বর্তমানে বাংলাদেশে আছে নাকি ??
বাস্তবতা বলার পর ওরা বেশ অবাক হলো , এটা কিভাবে সম্ভব !!!
শুধুমাত্র ধর্মের উপর ভর করে হায়েনার দল অনেকদুর শেকর গেড়ে শক্ত ভিত্তি নিয়ে বসে আছে ।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: হুমম। আমাদের লজ্জাটাই আসলে বেশি। মন্ত্রী পর্যন্ত বানাইছি। এই লজ্জা এবার কাটাইতে হবে।

২১. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: সিনেমাটা দেখলাম , আমিও স্তব্ধ হয়ে গেছি ।
৫০ টা বছর এমন বর্বরোচিত ঘটনার ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছিল !!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৩৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আকাল-তবু স্বপ্ন থাকে
বিরোধ-তবু স্বপ্ন থাকে
ভাঙ্গন-তবু স্বপ্ন থাকে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ