যুদ্ধ আসলে কাউকেই ছাড়ে না। নারী বা শিশুদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই যুদ্ধে। এর শিকার সবাই। দেখেছিলাম লাইফ ইজ বিউটিফুল ছবিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দি শিবিরে থেকেও বাবা সব কিছু থেকে আড়াল করে রাখে ছোট ছেলেটিকে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাবার মৃত্যু হলেও একধরনের ফিল গুড অনুভূতি হয় ছবিটা দেখে।
আসলে যুদ্ধের মধ্যে রোমান্টিকতা যেমন থাকে না, কমেডিও থাকে না। বাস্তব অন্যরকম। আর ছোটদের ভুলিয়ে রাখলেই আসলে তারা যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে থাকতে পারে না। যুদ্ধ এমনই এক জিনিষ। কথাগুলো মনে হল নতুন একটা ছবি দেখে। ‘দি বয় ইন দ্য স্ট্রাইপড পাজামাস’।
বন্দী শিবিরে এই পোশাকই পড়তে হতো।
৮ বছরের ব্রুনোর কাহিনী। বাবা নাজি কমান্ডার। পদোন্নতি পেয়ে চলে যান দূরের একটি গ্রামে। ব্রুনো সেখানে একাকী। ব্রুনো জানেনা ঠিক পাশেই বন্দী শিবির। একদিন দেখা যায় ৮ বছরের স্মুয়েলের সাথে। সে ইহুদী, বাবার সাথে বন্দী।
ব্রুনো একদিন লুকিয়ে দেখে ফেলে বন্দী শিবির নিয়ে একটি প্রপোডান্ডা মূলক প্রামান্য চিত্র। ব্রুনো দেখে যে, সেখানে বন্দীরা কাজ করে, ভাল খেতে পায়, বিকেলে ফুটবল খেলে, একটা ক্যাফে আছে আড্ডা দেওয়ার। ব্রুনো বিশ্বাস করে। গৃহশিক ব্রুনোকে শিখায় ইহুদিরা কত বড় শত্রু। তার বাসায় যে লোকটা কাজ করে একদিন ব্রুনো জানতে পারে এই লোকটি আসলে একজন চিকিৎসক। তারপরেও ৮ বছরের ব্রুনোর কাছে যুদ্ধের বিভীষিকা স্পষ্ট হয় না।
লুকিয়ে প্রপোগান্ডা মূলক ছবি দেখছে ব্রুনো।
ব্রুনো কমান্ডারের পুত্র। যুদ্ধের ভয়াবহতা তার গায়ে লাগার কথা না। স্মুয়ের জানে তার অবস্থা। তারপরেও দুজনের মধ্যে হয় বন্ধুত্ব। কাটাতারের বেড়ার দুপাশে দুজন-অসাধারণ এক দৃশ্যকল্প তৈরি করেন পরিচালক।
দুজনের বন্ধুত্ব
ব্রুনোর মা সব জানেন। তিনি মেনে নিতে পারেন না সবকিছু। চিমনির ধোয়া দেখে তিনি বুঝতে পারেন কি এসব। থাকতে চান না তিনি ছেলে মেয়েদের নিয়ে। এইটুকু বোঝেন যে ছেলে-মেয়েদের এ থেকে দূরে রাখতে হবে। এখন আর ব্রুনো যেতে চায় না।
শেষটা আর না বলি। দেখার আগ্রহ কারো তাতে বাড়তে পারে। কারো হয়তো কমবে। তবে এই ছবি সবারই দেখা উচিৎ।
এক অসাধারণ দৃশ্যকল্প

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



