somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভার্টিগো:((;):P

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডাক্তার যখন বললো আমার রোগের নাম ভার্টিগো, আমি একটু চমকাইয়া গেছিলাম। আমি তো জানতাম ভার্টিগো একটা সিনেমার নাম। হিচককের সেরা ছবির একটা ভার্টিগো। ভাবলাম এতো বেশি মুভি দেখি বলে রোগটাও বাধাইলাম শেষ পর্যন্ত একটা মুভির নামে।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোবাইলে ইন্টারনেট ঘাটা শুরু করলাম। প্রথম লাইনটা পড়ে আবার চমকাইলাম। লেখা আছে এটা একধরণের ‘স্পিনিং মুভমেন্ট’। আসলেই চার দিন আমার মাথাটাকে শেন ওয়ার্নের হাতের বলের মতো মনে হইছে। মনে হইতেছিল শেন ওয়ার্ন যেমন ইচ্ছা তেমন কইরা আমার মাথাটারে বল মনে কইরা ঘুরাইতেছে। মনে পড়লো বাসিত আলীর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে শেন ওয়ার্নের বলটা কেমনে ঢুইকা তারে বোল্ড করছিল। বেচারা বাসিত আলীর ক্যারিয়ারই বলতে গেলে শেষ কইরা দিছিলো ঐ বলটা। বাসিত আলী বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়া এক সময় বহু উল্টা পাল্টা কথা কইছিল।
রোগের নাম শুইনা পছন্দ হইছে। অভিজাত অভিজাত রোগ বইলা মনে হইতেছিল। তবে ওষুধ কিনে আনার পর মনটাই খারাপ হইয়া গেলো। ২০টা ওষুধ আনাইলাম, দাম নিল ২৬ টাকা। বুঝলাম রোগটা এমন কোনো অভিজাত রোগ না। তা না হইলে ওষুধের দাম এতা কম হয়। ডাক্তার একটা টেস্ট পর্যন্ত করতে দিলো না। বড়ই আফসুস।
মন খারাপ হইলো এক বন্ধুর কাছ থেইকা একটা ই-মেইল পাইয়া। সেই মেয়ে বিশাল এক অবাক হওয়ার ভাব ধইরা আমারে কয়, এইটা তো ‘প্রেগনেন্সি সিমটম’। আমারে ধরলো কেমনে? বিকালে আমার এক অফিস কলিগ ফোন কইরা কয় গাইনির ডাক্তার দেখাবো কিনা?
একটা বড়দের গল্প কই তাইলে।
এক লোক ভুলে ইউরিন টেস্ট করতে নিজেরটার বদলে বউয়েরটা নিয়া গেল। পাশাপাশি দুই বোতল ছিলো বুঝতে পারে নাই আরকি। পরের দিন রিপোর্ট পাইয়া মাথায় হাত। রিপোর্ট অনুযায়ী সে প্রেগনেন্ট। এক দৌঁড়ে চইলা আসলো বাসায়। বউয়ের চুলের মুঠি ধইরা কইলো, ‘......তোরে তহনই কইছিলাম উপরে উঠিস না’।
(এই অংশ টুকু পুলাপানের পড়া নিষেধ)
২.
এই রোগ হইয়া একটা লাভ হইছে। হিচকক যে ভুল করছিলো সেইটা জানতে পারলাম। ছবি হিসেবে ভার্টিগো জিপি-৫ বা জিপি গোল্ড পাওয়ার মতো। এইখানে সে দেখাইছে যে উঁচুতে উঠলে মাথা ঘুড়ায়। আর এরই নাম ভার্টিগো। কথাটা ঠিক না। উঁচুতে উঠলে মাথা ঘুরাইলে সেইটার নাম আসলে এক্রোফোবিয়া। ভার্টিগো হইলে যে কোনো স্থানেই মাথা ঘুড়ায়।

ভার্টিগো ছবিটা মুক্তি পাইছিল ১৯৫৮ সালে। ছবির নায়ক জেমস স্টুয়ার্ট উচুঁতে উঠলে এই রোগ পেয়ে বসতো। ছবিতে আরো আছে কিম নোভাক। ছবিটি প্রথমে সমালোচক বা দর্শকদের আনুকূল্য পায়নাই। কিন্তু এখন এই ছবিটাকেই ধরা হয় এখন পর্যন্ত সেরা ছবির একটি হিসাবে। ১৯৮৩ সালে ছবিটাকে নতুন করে মুক্তি দেওয়া হয়। তারপরই সারা বিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যায়।
যারা দেখেন নাই, দ্রুত দেইখ্যা ফালান।
৩.
ভার্টিগো নামে বিখ্যাত একটা গানও আছে। আমার অতি প্রিয় ব্যান্ড ইউ-টুর গাওয়া। ২০০৪ সালের গান। অতি বিখ্যাত গান। তারা ঐ সময় ওয়ার্ল্ড টুরে বাইর হইছিল, সেই টুরটার নামও ভার্টিগো টুর। আবার ভার্টিগো নামে জার্মান লেখক ডব্লিউ জি সিবাল্ড-এর একখানা বিখ্যাত বইও আছে।

একদিক দিয়া ভালই হইছে। আমি প্রচুর মুভি দেখি, প্রচুর গান শুনি, প্রচুর বইও পড়ি। ভার্টিগো নামে রোগ আছে (আমার আছে), সিনেমা আছে, গান আছে, বইও আছে।
গানটা পাবেন এখানে: Click This Link
৪. আমার ছেলের ৩ বছর হবে আগামিকাল, ২০ এপ্রিল। আমি শুয়ে আছি। আমার পাশে আমার ছেলে আর বউ। বেশি আদর করতে যাইয়া আমার বউরে কোলে নিয়া শুনি বলতাছে, ‘এইটা আমার রাজপুত্র, এই রাজপুত্রটারে কৈ পাইলাম, কে দিল আমারে?’ (এই সময় কন্ঠস্বরটা বাচ্চাদের মতো করে ন্যাকা ন্যাকা থাকতে হবে)।
আমার ছেলে তাঁর মায়ের তাকাইয়া উত্তর দিল, ‘বাবা দিছে’। আমার বউয়ের মনে হইল সে ভুল শুনছে, আবারো একই প্রশ্ন করলো। আমার ছেলের একই উত্তর।
উত্তর শুইনা আমার বউয়েরও মনে হইলো ভার্টিগোতে ধরছে। আমার ভার্টিগো ভালো হইছে। বউয়ের মাথা নাকি এখনো ঘৃরতাছে।
(অন্য কিছু মনে কইরেন না কেউ আবার। তারে শিখানো হইছিল বলতে হবে যে আল্লাহ দিছে)

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১২
৪১টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×