somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুততম কম্পিউটার ‘ইউজিন’ (JUGENE)

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আকাশের যতো তারা আছে সেই সংখ্যাকে যদি আপনার মাথায় যতো চুল আছে তা দিয়ে গুণ করে বাংলাদেশের আয়তন দিয়ে ভাগ করা হয় তবে কতো হবে বলুন তো? হিসাবটা খুবই কঠিন যদি তা আপনি কাগজ কলম ব্যবহার করে করেন।

আর কম্পিউটার ব্যবহার করে করতেও সময় নেবে কয়েক মিনিট। কিন্তু আজ আমরা এমন এক কম্পিউটারের কথা বলবো যা কিনা এরকম কয়েক কোটি হিসাব করে ফেলতে পারে এক নিমেষেই।

তেমনই একটি কম্পিউটার ইউজিন (JUGENE)। এর ক্ষমতার কথা শুনলে যে কাউকে অবাক হতেই হবে। কারণ ইউজিন নামের এই কম্পিউটারটি এক সেকেন্ডে এক লক্ষ কোটি হিসাব করতে পারে। এটি বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুততম কম্পিউটার। আর পৃথিবীর মধ্যে এর অবস্থান দ্বিতীয়।

সম্প্রতি জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলে থেকে বেশ কিছু সাংবাদিক যান এই কম্পিউটার দেখতে। এটি রাখা আছে জার্মানীর ইউলিশ শহরের সুপার কম্পিউটিং সেন্টারে। বিশাল একটি হল রুমের মধ্যে সারি সারি রাখা


বাক্স, যার মধ্যে রয়েছে প্রসেসর, ব়্যাম আর যাবতীয় সব আধুনিক যন্ত্রপাতি। বিশাল এই কম্পিউটার যে চলছে তা বোঝা যায় রুমের মধ্যে শোঁ শোঁ আওয়াজ শুনলেই। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো এই সুপার কম্পিউটারটিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে এর ভেতরই রয়েছে বড় বড় পানির পাইপ।

ইউলিশ সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের ইন্সটিটিউশন ফর এডভান্সড সিমুলেশন বিভাগের ড. নর্ব্যার্ট আটিগ জানালেন ইউজিন আসলে কি? আর এটি কেনই এতো বিখ্যাত।

সুপার কম্পিউটারের প্রধান কাজ বেসিক ন্যাচারাল সাইন্সের বিশেষ ধরণের বিষয় নিয়ে কাজ করা। হতে পারে তা ফিজিক্স কেমিস্ট্রি বা বায়োলজির মতো বিষয়ে৷শক্তিশালী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার পৃথিবীর আবহাওয়া বা কোনো দেশের আদমশুমারির মতো বিশাল তথ্য ব্যবস্হাপনা করতে পারে।

কম্পিউটারটির মোট প্রসেসরের সংখ্যা ৭৩ হাজার। যা চার ভাগে বিভক্ত। এর ব়্যাম রয়েছে ১৪৪ টেরাবাইট। আর মেমোরি হলো ৬ প্যারাবাইট। ইউলিশ সুপার কম্পিউটার সেন্টার এর পরিচালক খুব খুশি হয়েই জানালেন, সাধারণ ৫০ হাজার কম্পিউটারের যে ক্ষমতা তা একসঙ্গে একাই করতে পারে ইউজিন।



সাধারণত এই কম্পিউটারটি ইউরোপের বড় বড় কোম্পানি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের হিসাবের কাজে ব্যবহার করে থাকে। যেন খুব দ্রুত এবং নিখুঁত ভাবে হিসাব করা সম্ভব হয়। ড. নর্ব্যার্ট আটিগ ডয়চে ভেলেকে জানান, এমন কোন হিসাব নেই যা এই কম্পিউটার দিয়ে করা সম্ভব নয়। ন্যানোটেকনোলজি থেকে শুরু করে ন্যানোইলেকট্রনিক্স, ম্যাটেরিয়াল সাইন্স থেকে বায়োলজি এমনকি প্রকৌশল বিভাগের যে কোন কাজ নিমেষেই করা সম্ভব এই সুপারকম্পিউটার দিয়ে।

সাধারণ কম্পিউটারে যে সব কাজ অর্থাৎ মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ড বা এক্সেল এর মতো সব ধরণের কাজই করতে পারে এই সুপার কম্পিউটার। কিন্তু তার প্রয়োজন হয়না। কারণ এই কম্পিউটার কোন বিশেষ কোডের মাধ্যমে চলে, যা লেখা হয় কোন বিশেষ গবেষণার জন্য, হতে পারে তা ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি বা বায়োলজির কোন নতুন গবেষণা। আর তখন নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে গবেষক ইউজিন ব্যাবহার করতে পারেন।



সুপার কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এপর্যন্ত ইউরোপের ২শরও বেশি গবেষক ইউলিশ সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করেছে। যেখানে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন যদি তার কাজের ধরণ সেই রকম হয়। আর তার জন্য ইউলিশ সুপারকম্পিউটার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বেশ আগে থেকেই। যদিও এই কম্পিউটারে কাজ করার জন্য একজন ব্যবহারকারীকে ইউলিশে আসার প্রয়োজন নেই। কারণ একটি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে গ্রাহক তার ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারেন ইউজিন।

তথ্যসূত্রঃ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×