somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামাত আমির কুত্তা নিজামীই ছিল ঘাতক আল বদর বাহিনীর নেতৃত্বে

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যে প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে তা হলো কাদের এই বিচারের আওতায় আনা হবে? শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সম্ভাব্য তালিকায় প্রথমেই আসে জামাতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর নাম।এই কুত্তাটাই একাত্তরে নেতৃত্ব দিয়েছিল আল বদর বাহিনীর।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলো জামাতে ইসলামী। আর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা অপারেশন সার্চলাইটের নামে গণহত্যা শুরু করলে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় বাঙালি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় জামাত প্রধান গোলাম আযম বৈঠক করে হানাদার জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে। জামাতি নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসাবে শান্তিকমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী।

সে সময় গোলাম আযম ঘোষণা দেয়, পাকিস্তান টিকিয়ে রাখতেই জামাতের এই সিদ্ধান্ত।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদানদের এসব সহযোগী বাহিনী সদস্যদের দুষ্কর্ম যুদ্ধাপরাধতুল্য। দেরিতে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এজন্য ’৭৩-এর আইনকে যুগোপযোগীও করা হয়েছে, নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের স্থান। এখন অপেক্ষা তদন্ত ও বিচার কাজ শুরুর।

হত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তাদের বেশিরভাগ এখনও আছেন জামাতে ইসলামীর নেতৃত্বে। আলোচনা আছে, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরাই প্রথম আসবেন বিচারের আওতায়।

সেই কাতারেরই শীর্ষ একজন মতিউর রহমান নিজামী।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন দেশ টিভিকে বলেন, “প্রাপ্ত তথ্যাদি এমনকি পাকিস্তানী গবেষকদের মতেও, মতিউর রহমান নিজামী ছিল কিলার স্কোয়াড হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী ‘আল বদর’ বাহিনীর সারা পাকিস্তার আল বদর বাহিনীর প্রধান। এই আল বদর বাহিনী আমার শিক্ষকদের, আমার বন্ধুদের, বুদ্ধিজীবীদের সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা নিয়ে হত্যা করেছিল। সে যে যুদ্ধাপরাধী এটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি বর্তমান।”

মতিউর রহমান নিজামী বর্তমান জামাতে ইসলামীর আমির। ১৯৭১-এ এই কুত্তাটা ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান আলবদর বাহিনীর প্রধান।

তাঁর বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক শাহরিয়ার কবির বলেন, “দৈনিক সংগ্রামে সেসময় নিজামী কী লিখেছিল? এই হারামজাদা তো পাকিস্তানকে আল্লাহ’র ঘর বলেছিল। (সে বলেছিল) আল্লাহ’র ঘরের হেফাজত করার জন্য জান কুরবান করতে হবে। রাজাকার, আল বদরদের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবার জন্যে। আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিল সে। নিজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আলবদরদের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছে। তাদেরকে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে, হত্যার ক্ষেত্র তৈরী করেছে।”

অভিযোগ আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজামীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঘাতক বাহিনী গঠন এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশাসহ তার নিজ এলাকা পাবনাতেও অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিতে দেশ টিভির প্রতিনিধি যান নিজামীর নিজ এলাকাতেই। সেখানে একাত্তরে রাজাকার-আলবদরদের নৃশংস অত্যাচারের প্রত্যক্ষদর্শী এক বৃদ্ধ বলেন, “সে আল বদর, আল শামসের প্রধান ছিল। তার ইঙ্গিতেই ধর্ষণ হয়েছে, ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জবাই করা হয়েছে। এগারো জন মুক্তিযোদ্ধা একই দিনে জবাই হয়। সেদিন আমিও ছিলাম ঘটনাস্থলে।”

পাকহানাদার বাহিনীর সহযোগী এই বাহিনীর অত্যাচারের শিকার আরেক বৃদ্ধ জানান, “তার নেতৃত্বেই সাঁথিয়ার সোনাতলা নামের একটা গ্রামের সমস্ত বাড়িঘর পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়।”

১৯৯৪ সালে গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্টেও এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিউর রহমান নিজামী দ্বিতীয় দফায় জামাত প্রধান নির্বাচিত হয়েছে। ২০০১-এর নির্বাচনে সাংসদ হয়েছিল। পরে জোট সরকারের মন্ত্রিত্ব পেলে জাতীয় পতাকা উড়েছিলো তার গাড়িতে।

তথ্যসূত্রঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×