![]()
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যে প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে তা হলো কাদের এই বিচারের আওতায় আনা হবে? শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সম্ভাব্য তালিকায় প্রথমেই আসে জামাতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর নাম।এই কুত্তাটাই একাত্তরে নেতৃত্ব দিয়েছিল আল বদর বাহিনীর।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলো জামাতে ইসলামী। আর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা অপারেশন সার্চলাইটের নামে গণহত্যা শুরু করলে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় বাঙালি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় জামাত প্রধান গোলাম আযম বৈঠক করে হানাদার জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে। জামাতি নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসাবে শান্তিকমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী।
সে সময় গোলাম আযম ঘোষণা দেয়, পাকিস্তান টিকিয়ে রাখতেই জামাতের এই সিদ্ধান্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদানদের এসব সহযোগী বাহিনী সদস্যদের দুষ্কর্ম যুদ্ধাপরাধতুল্য। দেরিতে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এজন্য ’৭৩-এর আইনকে যুগোপযোগীও করা হয়েছে, নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের স্থান। এখন অপেক্ষা তদন্ত ও বিচার কাজ শুরুর।
হত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তাদের বেশিরভাগ এখনও আছেন জামাতে ইসলামীর নেতৃত্বে। আলোচনা আছে, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরাই প্রথম আসবেন বিচারের আওতায়।
সেই কাতারেরই শীর্ষ একজন মতিউর রহমান নিজামী।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন দেশ টিভিকে বলেন, “প্রাপ্ত তথ্যাদি এমনকি পাকিস্তানী গবেষকদের মতেও, মতিউর রহমান নিজামী ছিল কিলার স্কোয়াড হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী ‘আল বদর’ বাহিনীর সারা পাকিস্তার আল বদর বাহিনীর প্রধান। এই আল বদর বাহিনী আমার শিক্ষকদের, আমার বন্ধুদের, বুদ্ধিজীবীদের সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা নিয়ে হত্যা করেছিল। সে যে যুদ্ধাপরাধী এটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি বর্তমান।”
মতিউর রহমান নিজামী বর্তমান জামাতে ইসলামীর আমির। ১৯৭১-এ এই কুত্তাটা ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান আলবদর বাহিনীর প্রধান।
তাঁর বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক শাহরিয়ার কবির বলেন, “দৈনিক সংগ্রামে সেসময় নিজামী কী লিখেছিল? এই হারামজাদা তো পাকিস্তানকে আল্লাহ’র ঘর বলেছিল। (সে বলেছিল) আল্লাহ’র ঘরের হেফাজত করার জন্য জান কুরবান করতে হবে। রাজাকার, আল বদরদের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবার জন্যে। আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিল সে। নিজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আলবদরদের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছে। তাদেরকে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে, হত্যার ক্ষেত্র তৈরী করেছে।”
অভিযোগ আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজামীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঘাতক বাহিনী গঠন এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশাসহ তার নিজ এলাকা পাবনাতেও অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিতে দেশ টিভির প্রতিনিধি যান নিজামীর নিজ এলাকাতেই। সেখানে একাত্তরে রাজাকার-আলবদরদের নৃশংস অত্যাচারের প্রত্যক্ষদর্শী এক বৃদ্ধ বলেন, “সে আল বদর, আল শামসের প্রধান ছিল। তার ইঙ্গিতেই ধর্ষণ হয়েছে, ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জবাই করা হয়েছে। এগারো জন মুক্তিযোদ্ধা একই দিনে জবাই হয়। সেদিন আমিও ছিলাম ঘটনাস্থলে।”
পাকহানাদার বাহিনীর সহযোগী এই বাহিনীর অত্যাচারের শিকার আরেক বৃদ্ধ জানান, “তার নেতৃত্বেই সাঁথিয়ার সোনাতলা নামের একটা গ্রামের সমস্ত বাড়িঘর পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়।”
১৯৯৪ সালে গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্টেও এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিউর রহমান নিজামী দ্বিতীয় দফায় জামাত প্রধান নির্বাচিত হয়েছে। ২০০১-এর নির্বাচনে সাংসদ হয়েছিল। পরে জোট সরকারের মন্ত্রিত্ব পেলে জাতীয় পতাকা উড়েছিলো তার গাড়িতে।
তথ্যসূত্রঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


