somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ক্লীয়ার ইতিহাস ১৯৭১ থেকে ১৯৮০।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই আর দুই যোগ করলে চার হয় সেটা যখন কোন দেশের কোটি কোটি মানুষ বোঝে না তখন সে দেশের জনগন আইদার আহাম্মক অথবা ধান্দাবাজ।

শোনেন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার গন্ডোগোল লাগে। দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সেই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে। আন্দোলনের ধারাবহীকতায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়। সাধারন মুক্তিযোদ্ধা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মি আওয়ামীলীগ সবাই সেই যুদ্ধে মেরেছে এবং অকাতরে মরেছে।

এদিকে মুসলীমলীগ ও জামাতে ইসলামীর মত দলগুলো তাদের মতাদর্শের দোহাইয়ে এই গন্ডোগোলকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর চুড়ান্ত আঘাত ধরে নিয়ে পাকিস্তানী সেনা বাহীনির সাথে গণ হত্যার মত বিভৎস কর্মকান্ড চালায় সারা দেশ জুড়ে।

আর এক দিকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অয়াচ ডগ আইএসআই অলটারনেট অপশন হিসাবেই পরীক্ষিত পাকিস্তানী দেশ প্রেমীক বাঙালী সেনা অফিসারদের একটা অংশকে প্রথম থেকেই যুদ্ধের ময়দানে ইনফিলট্রেট করে যারা মূলত পাকিস্তানী সৈনিকের বুকে গুলি চালালেও তাদের বুক জুড়ে আজন্ম লালন করেছে অক্ষন্ড পাকিস্তানেরই মানচিত্র। আবার রাজনীতিবিদদের একটা অংশ আগে থেকেই আইএসআই এর দালাল হিসাবে কাজ করছিল। এদের মানস পটেও অক্ষন্ড পাকিস্তানের চিত্রটিই ছিল সবচেয় মূল্যবান।

আইএসআই এর এই দুই গোত্রের ইলিমেন্টের প্রমান পাওয়া যায় যুদ্ধের শেষের দিকে যখন পাকিস্তানের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত তখন রাজনৈতিক সামাধানের নামে বাংলার চির পরিচিত মীরজাফরের স্ট্রেটেজি নিয়ে একটা গ্রুপ কাজ শুরু করে। এই গ্রুপটার ভেতর তিনটি সাব গ্রুপ কে আইএসআই সব সময়ই কোর্ডিনেট করে আসছিল আর এরা হচ্ছে ১. টপ লেভেল রাজাকার ২. পাকিস্তানী দেশ প্রমীক বাঙালী সেনা অফিসার ৩. রাজনৈতীক দলগুলির ভেতর আইএসআই এর দালাল যেমন খন্দকার মোস্তাক মোওদুদ আহমেদ প্রমুখ।

অন্য দিকে ভারতের "র" প্রায় এক লক্ষ আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী সমর্থকদের আলাদা ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট নামে আর এক গ্রুপ তৈরী করে যাদের লক্ষ্য ১৯৭১ যুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রহনের চেয়ে দেশ স্বাধীন হলে স্বাধীন দেশের সরকার কে অর্থাৎ আওয়মীলীগ সরকারকে সমর্থন দেয়া।

এভাবে দেশ স্বাধীন হলো। বাংলাদেশের বিজয় হলো। কিন্তু হারলো কে ? ১. পাকিস্তান ২. রাজাকার ২. পাকিস্তানী দেশ প্রমীক বাঙালী সেনা অফিসার ৩. রাজনৈতীক দলগুলির ভেতর আইএসআই এর দালালরা।

স্বাধীন দেশে কি হলো ? সেই পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া সিসটেমে ডিটো দিয়ে দেশ চলা শুরু হলো। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে পুড়ানো সিস্টেম, হেরে যাওয়া চারটি ইলিমেন্টের একটিভিটি মুজিব বাহিনীর ন্যায়নীতি বর্জিত কার্যকলাপ সব মিলে দেশের বারটা বাজে। মুজিব তার জীবনের শেষ ভাষনে, ২৬ মার্চ ১৯৭৫ রেস কোর্সের ময়দানে, এই ক্ষোভই প্রকাশ করেন। তিনি শেষ রক্ষার সহজ সমাধান হিসাবে বাকশাল গঠন করে।

১৯৭১ সালের হেরে যাওয়া গোষ্ঠি এবার আবার সুসংহত হয়। ডালিম নূর ফারুক আর তাদের মৃদু ভাষী বস মেজর জিয়া মোশতাক যেই বলেন না কেন আসলে দ্বিজাতি তত্বের আদর্শই সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসে। মেজর জিয়া হত্যাকান্ডে সক্রিয় অংশ না নিলেও তিনিই ঐ হত্যাকান্ডের প্রধান বেনিফিসিয়ারী হয়ে চলে আসে সবার সামনে, সবচেয়ে গ্রহন যোগ্য এবং দ্ব জাতিতত্বের পারপাস সার্ভ করারও যোগ্যতম ব্যাক্তি হিসাবে।

জিয়া এলো ১৯৭১ এর পরাজিত গ্রুপগুলি যেন এবার তাদের হারানো বিজয় পুনরোদ্ধার করলো। জিয়ার হাত দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার মৌলিক প্রেষনাগুলোর অস্তিত্ব বিলোপ হলো। থিওরিটিক্যাললী বাংলা স্বাধীনতাই হারালো আর রাজাকারেরাই জয়ী হলো। জিয়ার হাতে এ দেশ তার চরিত্র রাজনীতি সহ আরও অনেক কিছুই হারালো। যেমন আজ আমরা ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাস দেখি তাও কিন্তু এই জিয়াই জন্ম দেয়া। তিনি নব গঠিত দলে লোক ভেড়ানোর জন্য শুধু ৭১ এ হেরে যাওয়া সাব গ্রুপগুলি নিয়েই সন্তষ্ট হয়নি করলেন ছাত্র পেশাজীবী সমস্ত দলগুলিকে মূল দলের অংগ সংগঠন হতে হবে এবং এদের সম্পূর্ন ভাবে কেন্দ্রীয় মূল দলের নিয়ন্ত্রনাধীন থাকতে হবে। যা হউক সব শেষে জিয়ার ঘারে চড়ে রাজাকারেরাই জয়ী হলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×