somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতি দুইটা দুই জিনিষ। পরেরটার প্রবক্তা কে ? তবে সমাধান ঠিকই আছে।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবু বকর ছিদ্দিক

রীকেপ সম্প্রতী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে প্রাণ দিতে হলো সাধারণ ছাত্র আবু বকর ছিদ্দিককে। আবু বকর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন হলের ৪০৪ নম্বর কক্ষে।

সকাল সাড়ে নয়টায় আবু বকরের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁর সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও ভাঙচুর শুরু করেন। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাধারণ ছাত্রদের বিক্ষোভ ঠেকাতে তত্পর ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারাও। তাঁরা মল চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ছাত্রদের মিছিলে বাধা দেন, ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন।

২০০৪ সালে আবু বকর এসএসসি পাস করে মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে খরচ বেশি, তাই মেধাবী আবু বকর মানবিক বিভাগে লেখাপড়া করেন। প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম জানান, স্কুল-কলেজে পড়ার খরচও আবু বকর দিনমজুরি করে জোগাড় করেছেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মা রাবেয়া বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। চেতনা ফিরলেই বিলাপ, ‘আমার বাবা কনে চইলা গেল, বাবারে আইনা দেও।’ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামের দিনমজুর রোস্তম আলীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে আবু বকর তৃতীয়।বাবা রোস্তম আলী বলেন, ‘আমি দিনমজুর মানুষ। বড় ছেলে আব্বাস আলী গোলাবাড়ী বাজারে ছোট একটি মুদির দোকান করে। ছেলের মা মুরগি পালন ও ডিম বিক্রি করে টাকা দিত বকরকে। তার পরও খরচ কুলাত না। তাই বন্ধের সময় বাড়িতে এসে বকরও খেত-খামারে দিনমজুরি করত।’

আলোচনঃ খুব খারাপ লাগছে, তাই না ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের ঘটনা গত প্রায় পচিশ ত্রিশ বছর যাবৎ মামুলি ডাল ভাতের পর্যায় গিয়ে পৌছেছে। আর আমাদের আহা উহু সর্বচ্চ সাত দিন থাকে এর পর আর কিছুই মনেও থাকে না।আমরা হচ্ছি একটা ফাজিল জাতি। ভন্ডের মত মুহুর্তে যেমন কাতর হতে পারি তেমনি প্রকাশ্য দিবালোকেও অস্বীকার করতে পারি এই বলে যে না এখন গভীর রাত।

তা না হলে আমরা কেন ভেবে দেখি না যে পঞ্চাশের দশকে ষাটের দশকে এদেশে প্রচন্ড একটিভ রাজনীতি ছিল। ছাত্র রাজনীতি সে সময়কার রাজনীতিতে অনেক অনেক বেশী অগ্রনী ভূমিকায় ছিল। কিন্তু তখন ছাত্ররা আজকের মত সীট দখল টেন্ডারবাজী সন্ত্রাসীর কাজে কখনও জড়িত ছিলনা।

কেন আজকের এই অধপতন ? তখনকার কিশোরেরা কি সবাই ফেরেস্তা ছিল ? আর আকালকার কিশোরেরা সব শয়তান হয়ে গেছে ? মাত্র একটা দশক ষাট থেকে সত্তোর এর মাঝে কিভাবে সমাজের একটা কমিউনিটির চরিত্র সম্পুর্ন বিপরীত এবং খারাপের চুড়ান্তে পৌছাতে পারে ?

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতি দুইটা দুই বিপরীত চিত্রের জিনিষ। পঞ্চাশের দশক, ষাটের দশক, স্বাধীনতা যুদ্ধ, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, গত কেয়ার টেকার সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের ছাত্র আন্দোলন এবং সর্বশেষ আবু বকর নিহত হওয়ার পর সাধারন ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন এগুলিই হলো এদেশের সাধারন ছাত্র ছাত্রীর ঐতিহ্য এবং প্রকৃত স্বরুপ। খেয়াল করে দেখুন এ সমস্ত আন্দোলনে ছাত্র রাজনীতির কোন ভূমিকা ছিল না বরং বেশীর ভাগ সময় রাজনৈতিক দলের পালিত কুত্তার ছাত্র সংগঠন গুলি মুলত স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনগুলিতে বিতর্কিত অবস্থানও নিয়েছে।

আবার দেখা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ববর্তী কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজকের মত ছাত্র রাজনীতির মত সহিংসতা ছিলনা। তখন যা দেখা যায় তার সবগুলোই ছিল ছাত্র আন্দোলন এবং সেখানে ছাত্র সংগঠন ও সাধারন ছাত্রছাত্রী সকলে দেশের ও জনগনের জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে মূলত সোত্তুরের দশকের শেষ দিক থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাতেগোনা দু একটা ছাত্র আন্দোলন ছাড়া বাকি প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে ছিল ছাত্র রাজনীতির তান্ডব নৃত্য। ইন্টারনাল এক্সটারনাল গ্রুপিং, সরকার দল বিরোধী দলের ক্যডার বাহিনীর মহড়া, হল দখল কিলিং ইত্যাদী।

এখন কথা হলো কি হয়েছে ষাট আর সত্তুর দশকের মাঝে ? কি এমন এডিশনাল উপাদান যোগ হয়েছে এর মাঝে ? কি সেই ইলিমেন্ট যা যোগ করার পর মুহুর্তে একটা সাদা দ্রবন কালো হয়ে গেল ? কে ইনডিউস করল এই সর্বনাশা উপাদান ? কেন করলো ? কি ভাবে করলো ?

হ্যাঁ! বেসিক একটা পরিবর্তন ছিল। জেনারেল জিয়া একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেন। নতুন দলে অনেক বড় বড় শয়তানও ভিরেছে। জেনারেল জিয়া সুক্ষ কোয়ান্টিটেটিভ লোক ছিলেন তাই তিনি সমাজের প্রতিটি লেভেলে তার দল ও রাজনীতি ঢোকানোর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে ঘোষনা দিলেন ছাত্র, পেশাজীবি ট্রেড ইউনিয়ন সহ যে কোন দলকে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের অংগ সংগঠন হতে হবে। অর্থাৎ অংগ সংগঠনগুলির রাজনীতি কমিটি গঠন সব কিছু সরাসরি মূল দল দারা নিন্ত্রীত হবে যেমন আজ খালেদা বুড়ো ধামরা টুকুকে ছাত্র দল সভাপতি বানিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ে পাঠায়। এই ঘোষনার পর তিনি নীবিড় মনোযোগ দিলেন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। ততকালীন এইএসসিতে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্রদের সাথে নিয়ে ঘুরলেন দেশ বিদেশে। নিজ হাতে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করে দিলেন। ছাত্র দলের সেই নেতারা মেধাবী ছাত্র থেকে পরিনত হলো অস্র আর অর্থের এক একজন মহানায়ক। সেই থেকে এদেশের অতীতের সমস্ত ছাত্র আন্দোলনের গৌরব ভুলে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হলো ছাত্র রাজনীতি।

দ্রঃব্যঃ জিয়া প্রকৃত পক্ষে খুব খারাপ মানসিকতার লোক ছিলে সে বুঝে না বুঝে দেশের অনেক মৌলিক ক্ষতি করে গেছে যার মাসূল জাতিকে আরও কমপক্ষে পঞ্চাশ বছর দিতে হবে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে একটি প্রবাদ মনে করুন "বৃক্ষ তোমার নাম কি ? ফলে পরিচয়।" এবার ফল দুইডা দেখেন।

সমাধানঃ নির্বাচন কমিশন ও গত কেয়ারটেকার সরকার বিষয়টিকে উপলব্ধি করে সমাধানের চেষ্টা করেছিল। তবে পারেনি সেনা বাহিনীর হাটুতে বুদ্ধিওয়ালা গর্ধপরা যা করেছে তা হলো অংগ সংগঠন থেকে সহযোগি সংগঠন করেছ। যাহা লাউ তাহাই কদু আরকি।

আমাদের যে বিষয়টি করতে হবে তা হলো ঐ জিয়ার কু বুদ্ধির অক্টোপাশ থেকে বের হয়ে ছাত্র সংগঠন গুলোকে আবার আগের ব্যবস্থাপনায় নিতে হবে যেখানে ছাত্ররাই পরিচালনা করবে তাদের কমিটি সংগঠন এবং কর্ম পরিকল্পনা। উল্লেখ্য ছাত্রলীগের জন্ম কিন্তু আওমীলীগেরও দেড় বছর আগে, কে বাইছিল সেই কমিটি ?



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১১
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×