somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে কার কি হবে ? এবং চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম অংশ

১. বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজে হলে কেম্পাসে কোন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন থাকবে না। থাকলে ছাত্র বহিষ্কার।

২. হলে বা কেম্পাসে কোন ছিনতাইকারী সন্ত্রাসী গুন্ডা বদমাইশ আর সাধারন ছাত্রের বাপের বয়সী কোন অভদ্র লোকের পছনে পড়াশুনা করতে আসা নিরিহ ছাত্র ছাত্রীদের মিছিল করতে হবে না। ঘুরতে হবে না।

৩. তবে যেকোন ছাত্রছাত্রীর মতামত প্রকাশের অধিকার হিসাবে সে ব্যাক্তিগত ভাবে যে কোন রাজনৈতিক দল করতে পারবে। নো প্রবলেম বাট নো পলিটিকেল কমিটি ইন কেম্পাস লাইক এ হাই স্কুল।

৪. ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলেও আমাদে ঐতিহ্য ছাত্র আন্দোলন কখনও বন্ধ হবে না। উদাহরনঃ গত কেয়ারটেকার সরকার আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, যদি ছাত্র রাজনীতি না থাকত তবে কি আন্দোলন কিছু কম হতো ? না ! বরং আরও ভালো, আরও পবিত্র হতো।

৫. এই মুহুর্তে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে সব রাজনৈতিক দলের সমান ক্ষতি হবে না। এক এক দল এক এক পরিমান ক্ষতিগ্রস্থ হবে যেমনঃ

ক) আওয়ামীলিগ সরকারে থাকায় অল্প কিছ্‌টা সন্ত্রাসী শক্তি হারাবে। যেহতু তার আরও অনেক বাহিনী আছে।
খ) বিএনপি মুটামুটি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারন বিরোধী দল হিসাবে রাজপথে, আন্দোলনে, সন্ত্রাসে, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি তৈরী করে সরকারকে কোন ঢাঠা করতে এই ছাত্ররাই অস্র লাশ সব সাপলাই দেয়ার কথা এবং সবচেয়ে লুক্রেটিভ অংশ।
গ) অন্যান্য দলগুলো শুধুমাত্র তাদের বড় সংখ্যক সদস্য হারাবে।
ঘ) সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ। যেহেতু জেএমবি সহ অন্য জংগি সংগঠনগুলো এই মুহুর্তে কমোর ভেঙে পরে আছে তাই বর্তমান সময়ে এই দল অনেক বেশী অর্থে ছাত্র শিবিরের উপর নির্ভরশীল। এই দলের রাজাকার নেতৃত্বকে যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে বাঁচাতে এই শিবিরই সবচেয়ে শক্তিশালি ঢাল এবং হাতিয়ার এবং লাশ।

দ্বিতীয় অংশ



এই অংশে আজ জাতির পক্ষে আমি বেহেস্তে গিয়েছিলাম আমাদের ছাত্র রাজনীতির আউটপুট গত আট ফেব্রুয়ারী তারিখে নিহত ছাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুর হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার নিতে। চলুন দেখি একজন ভুক্তভুগি হিসাবে তিনি এদেশের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে কার চেয়ে কতটা ব্যতিক্রম বলে ?

জাতিঃ ফারুক আপনি কেন ছাত্ররাজনীতিতে এসেছিলেন ? আপনি কি এমপি মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে ছিলেন ?

ফারুকঃ না তেমন কিছুই না। প্রথম বর্ষে হলে একটা সীট দরকার ছিল।

জাতিঃ ছাত্র রাজনীতি করে আপনি কি কি পেয়েছেন ?

ফারুকঃ না তেমন কিছুই পাইনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তো ধান্দার জন্য ড্রাই ল্যান্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে হতো। সেখানে সন্ধার সময় হলের গেটের আশেপাশে দাড়ালেও দুই চারটা গাড়ি থামিয়ে "বস পার্টি অফিস যাব পকেটা একেবারে খালি একটু ড্রপ করে দিয়ে আসেন" বললেও তিন চারটা ফেন্সির দাম মুহুর্তে উঠে আসে। আর অন্ধকারে কাওকে থামালেতো কমপক্ষে মোবাইল সেট সিওর। এছাড়া লিডারদের কাজের টেন্ডার ব্লকে গেলে ভালো হাত খরচ আসে। আমরা রাজশাহীতে হলে মাঝে মধ্যে ফাউ খাওয়া, কেম্পাসে ভাব নিয়ে চলা, আশেপাশে চারদিকে বাকি খাওয়া আর আশা ছিল পাশ করার পর একটা সরকারী চাকরীর লবিং যদি করা যায় ইত্যাদী। অল অড জব।

জাতিঃ তাহলে সিট ও ইত্যাদী। নীতি আদর্শ এগুলি ?

ফারুকঃ না ওগুলি কিছু না। এট লিষ্ট যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত তাদের কাছে ওগুলি কখনও বিষয় না। আপনি জানেন কতজন ছাত্রদল ক্যাডার গত এক বছরে মিছিল শেষে বক্তব্য দিছে এতদিন আমাদের ভুল শেখানো হয়েছে। আসলে স্বাধীনতার ঘোষক না। সুজোগ দিলে সবাই বলবে। আবার বিএনপি আসলে বলবে হু ইজ মুজিব, ডিড উই সী হিম, হুইচ সেক্টর ডিড হি ফাইট ? বরং সাধারন ছাত্রছাত্রী যারা কখনও রাজনীতি করে না তাদের কাছে নীতি, আদর্শ, দেশ এসব অনেক বড় বিষয়। তারা ঠিকই দেশের প্রয়োজনের সময় নিজেই টেবিল ছেড়ে চলে আসে রাজপথে। তখন আমরা ফাউ লীড নেই আবার কেউ কেউ উল্টা দিকে বিক্রি হয়ে ভালো কামিয়েও নেই।

জাতিঃ ধরেন এমন হতো দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই। আর কেউ তোমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিচ্ছে। তাহলে তোমরা কি করতে ? তখন তো কোন প্লাটফর্ম নেই নেতৃত্ব নেই।

ফারুকঃ কেউ দখল করে নিতে এলে কি করতাম তার উত্তরটা আগে দেই। তার পেছন দিয়ে দিয়ে দিতাম। আর তখন দল নেই প্লাটফর্ম নেই এগুলো কোন বিষয়ই না। দেশের নিকট অতীত থেকে পেছনের দিকে চেয়ে দেখুন বরং তখন এই প্লাটফর্ম গুলো আরও সমস্যা করে। নব্বুইয়ের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অভি গ্রুপের কথা আপনার মনে আছে না ? ওল টাইম সেইম। বহিরাগত ক্যাডার আর বাপ চাচার বয়সী লীডাররা আন্দোলনেও ধান্দাই করেছে।

জাতিঃ আচ্ছা শিবিরের ছেলেরা কেন আপনাকে হত্যা করলো আপনার কোন ব্যাক্তিগত শত্রুতা ছিল ?

ফারুকঃ না ! পোলাপান দুই দিন যাবৎই পাগলা কুত্তার মত ছিল। ওদের নেতা নিজামী কি এক বিশেষ কারনে শিবিরের হাতেই লাশ চাইছে। বাতাসে সেই ম্যাসেজই ছিল। ওরা আমাকে যে ভাবে মেরেছে, রগ কাটা ম্যানহোলে ফেলা টু টু নির্দেশ ছিল কি এক বিশেষ কারনে। মরতে মরতে আমার তাই মনে হয়েছে। আমারতো ব্যাক্তিগত কোন শত্রুতা ছিলনা ওদের সাথে, তবে কেন এমন করলো ?

জাতিঃ এবার আপনার মৃত্যুর আগের মুহুর্ত গুলি সম্পর্কে কিছু বলুন।

ফারুকঃ মাথায় লোহার রড় দিয়ে একটা প্রচন্ড বাড়ি মেরে আমাকে ফেলে দিল। ওরা দশ বার জন কেউ পিটাচ্ছে কেউ লাথি দিচ্ছে আর কয়জন আমার হাতে পায়ে ধরে গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে কচকচ করে রগ গুলি কোরবানীর গরুর মত কেটে ফেললো। আমি শুধু বাবা'গো মা'গো বলে চিল্লাচ্ছিলাম আর ওদের কাছে মাফ চাচ্ছিলাম। এরপর ওরা আমার রগকাটা হাত পায়ে ধরে ঐ টাংকির মধ্যে ফেলে দিল। যন্ত্রনায় শুধু ধরফর করেছি আর ঐ গু জীবানু ভরা পচা পানি খেয়েছি। দম বের হতে অনেক সময় লেগেছে। তখন অন্য কোন এক দুনিয়ায় ছিলাম আগের দুনিয়ানা আবার এই দুনিয়ায়ও না। সে অন্য এক যন্ত্রনার দুনিয়া।

জাতিঃ আচ্ছা আপনি তো দুনিয়ায় থাকা অবস্থায়ই শুনে এসেছেন আপনার দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে বিপক্ষে অনেক বিতর্ক আছে। এখন যদি আপনাকে জাতির পক্ষ থেকে আমি প্রশ্ন করি আপনি কি বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক এটা চান ?

ফারুকঃ অবশ্যই ! বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক। আর কেউ যদি এরে বিপক্ষে কথা বলে তাহলে তার উদ্দেশ্যে প্রথমত তাকে বলা হউক তুই মূর্খ মানব। তোর মাথায় আসলে গোবর ছাড়া আর কিছু নাই। তুই দেশ জাতি আর মানবতার শত্রু। দ্বিতীয়ত তার মাথায় লোহার রড দিয়ে একটা বাড়ি দিয়ে শিবির দিয়ে হাতের পায়ের রাগ কাটাইয়া ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হউক। সে কয়েক কোটি হলেও শিক্ষিত গরু হলেও। সে তিনশ এমপি হলেও। আর সে খালেদা হাসিনা হলে এদের দুই জনের চার জোড়া হাত পায়ের রগ কেটে মাথায় একটা বাড়ি বেশী দিয়ে দুই জনকে একটা ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হউক।

সতরাং বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি আজই নিষিদ্ধ করা হউক ! BAN IT NOW.
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×