ইস এই যুদ্ধটা যদি অহন ২০১০ এ লাগতো আ-হা। তাহলে আজই আমি ফেইসবুকে "আমরা কালুমামার লেডু-তে স্বাধীনতার ঘোষনা দেই" নামে একটা গ্রুপ খুইলা কয়েক হাজার দাওয়াত পত্র সেন্ড করে দিতাম। আর কয়দিন পর এক সকালে উঠিয়া আমিই ঘোষক আমিই ঘোষক বলিয়া চিৎকার করিতে থাকিতাম (?) ঐ দিকে আবার আমারও ওস্তাদ কেউ গ্রমীনে ৫০০ টাকার চুক্তিতে ২২২১ থেকে কয়েক হাজার মোবাইলে কয়েক হাজার পুশ ম্যাসেজে যুদ্ধের দাওয়াত দিয়ে স্বাধীনতার আরেক ঘোষনা দিল ? ওকে, সেও ঘোষক। আরও কয়েক হাজার ? ওকে, তারাও কারন দিনকে তো আর রাত বলা যাইবে না।
ঠিক একই ভাবে সেই একাত্তুরেও জিয়ার মত আরও অসংখ্য মানুষ, পুলিশ, বিডিয়ার, সেনা কর্মকর্তা তার পিঠের রেডিও দিয়ে, ওয়ারলেস সেটে, টকিতে, মাইকে, কোন ছাত্র বন্ধুদের ডেকে, হাটে বাজারে, মহল্লায় যুদ্ধের ডাক দিয়া মৃত্যু পথে ঝাপাইয়া পরিয়াছে। এখন জিয়ার টাউট পত্নি তার বাটপারীর ফর্মূলায় তাদের সবাইকে স্বাধীনতার ঘোষক বলিবেন কি ? আমরা এ প্রজন্ম অবশ্যই তাদেরকেও যুদ্ধ ডাকার নায়কের খেতাবই দেব যদিও ঐ ভদ্রলোকদের কেউ ঘোষক হওয়া দাবি করবে না, পার্থক্য শুধু এটুকুই। কারন বাস্তব যুক্তি বোধ ইহাকে সমর্থন করে না। ইহা কল্পনায় ইচ্ছা করায়ও কু-মানসিকতার পরিচয় দেয়।
আমাদের দেশের কিছু মানুষ - চেহারায় কুকুরের ছাপ পরে যাওয়া - যখন নির্লজ্জ চামচার মত গলার রগ ফুলাইয়া চিৎকার করিয়া জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক ঘোষক বলিয়া আজান দেয় তখন নবীন ছেলেমেয়েরা খুবই বিরক্ত হয়। এই কনফ্লিক্ট জাতিকে সাকোলজিকেল ইরিটেশনের রোগী বানাইতেচ্ছে। উনারা কি বোদাই যে এটুকু যুক্তিবোধও নাই ? কানের পেছনে পুনপুন "ক" কে "জ", "ৎ" কে "শ" বলিয়া দাঁত মেলিয়া হাঁসিতে থাকে কেন ? এদের কথাগুলি শুনিলে এই জাতি যে কত বড় চামচার জাতি তার প্রতিচ্ছবি ঐ বাটপারগুলোর মুখে স্পষ্ট ভাসিয়া ওঠে।
কত বড় টাউট হলে মাত্র চল্লিশ বছর আগের ঘটনা নিয়ে এমন অযুক্তিক বিতর্ক কোন মানুষ করতে পারে ? এমন জাতি কি পৃথিবীর বুকে আর একটাও কি আছে ? উইকিপিডিয়ায় পুরো দুনিয়ার আর কোন দেশের এরকম ফাউল একটা পেইজ কি আছে "Bangladeshi Declaration of Independence " দেখেন Click This Link , ছিঃ ছিঃ। এতো দেখি দিনকে রাত আর রাতে দিন বলতে পারার সেই কুখ্যত জাতি গোষ্ঠি।
আরে বেয়াক্কেলেরা অজ্ঞ মানব সম্পদ-না-আপদ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা হয়েছে ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল। বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে। আর সেই ঘোষনা পত্র পাঠ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ইতিহাসে এভাবেই কাজটা হয়। আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৭৭৪ সালে আর ঘোষনা ৪ জুলাই, ১৭৭৬, এই সময়ে যুদ্ধ ছড়াতে থাকলেও কেউ পরবর্তীতে অভদ্রের মত লাফ দিয়ে বলে ওঠেনি এই দেখেন আমার এক্স হাসবেন্ডে হেড ডিইকলেয়ার্ড ইট। আর যদি ২৬ মার্চের কথা বলেন ? সেদিনের ঘোষনা পাঠ করা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকেই। সেই টোটাল সময়ের মধ্যে অনেকেই আছে আবার জিয়া নাই সে কথাটাও কোন হারামি কোনদিন বলবে না।
জিয়া নিজে কখনোও দাবী করেনি কালুর ঘাটের ঐ ঘোষনা স্বাধীনতার ঘোষনা এবং তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। কারন তিনি বুঝতেন এই দাবী করা মত্রই তিনি নিজেকে টাউট হিসাবে প্রমান করবেন। এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বাংলাদেশে সেদিনের সেই কালুর ঘাটের, কুমিল্লা পর্যন্তও না পৌছানোর ৫০ কিলোমাটার ক্ষমতা সম্পন্ন, বেতার বার্তা এদেশের লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার যে কারও দায়িত্ব হিসাবে যেখানে যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধের ডাক দিয়ে ঝাপিয়ে পরার একটা সুন্দর উদাহরন। কিন্তু এই ঘোষনার আগে বা পরে এক মুহূর্তও যদি তিনি ভাবেন হ্যাঁ এবার পাইছি, ফাঁকতালে নিজের নামে জমি কাওলা করে নেই তাহলে তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি একজন টাউটে পরিনত হবেন। আর জিয়া একজন সেনা অফিসার হিসাবে আর যাই হউক নিজেকে টাউট প্রমান করতে পারে না। তাই তিনি দাবি করেন নি।
এই টাউটে কর্ম মউদুদের, সাকার, জয়নালের, দেলোয়ারের, হালের ইরানের মীর্জা আলমগিরের এবং টাউট এমাজ উদ্দিন প্রমুখের। আর চাচা দেখেন আপনি এটা কি মূর্খ একখান চাচি রেখে গেলেন যে আপনি মরার পর এক দল টাউট সাথে নিয়ে আপনাকে সকাল বিকাল আপনাকে টাউট বানাচ্ছে ? ৪২০ ধারায় প্রসিকিউশন হয়ে যাবেতো। থাম !
এরপরও যে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়া কথা বলিবে, ধরে নিতে হবে সে ব্যাক্তি শুধু কথায় না জন্মেও ফাউলের উপদান বহন করে। স্লামুয়ালাইকুম ভালো থাকবেন।
আমরা কাঁদামাটির জাওলা বাঙালী তাই ফাউলের সাথে তার উপযুক্ত ভাষায়ই কথা বলি, কিছু মনে করবেন না। করলেও ক্ষতি নেই কারন আমি আপনাকেও না আপনার দেশকে ভালোবাসি মাত্র।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

