যেখানে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট অনেক আগেই এদেশের অর্থনীতির একটি অন্যতম পজিটিভ ও ইনভল্ভড ফ্যাকটর হওয়া উচিত ছিল সেখানে বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেটের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় দুইই হলো কিছু বড় বড় বাটপার প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রন সংস্থা এসিসি, অর্থ মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর সমূহ এবং মাফিয়া ইনভেস্টরদের ম্যাকানিজম করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারীদের টাকা নিয়ে যাওয়ার একটি সফল ও অনৈতিক মার্কেট।
ছোট্ট একটি উদাহরন দিলে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আসলে এরকম অসংখ্য ফন্দি-ফিকির করে পাবলিকের টাকা খেয়ে তাদের পথে বসানোই শেয়ার মার্কেট এসিসি ও অর্থমন্ত্রনালয়ের মিশন এবং ভিশন।
যেমন কিছুদিন আগে ওশেন কন্টেইনার লিমিটেড নামক একটি কোম্পানী শেয়ার মার্কেটে এসেছে এবং প্রথম দিনই তার দশ টাকার শেয়ার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে সর্বচ্চ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যার মূল্য আজ গতাকাল থেকে ১৭ টাকা কমে ২৭৮ টাকায় আছে।
এখন দেখা যাক বিষয়টা কি হলো ? ধরে নিলাম ওসিএল মানে ওশেন কন্টেইনার লিমিটেড প্রতি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা হিসেবে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার মার্কেটে ছারলো। আরও ধরে নিলাম গড়ে ৩০০ টাকা দরে শেয়ারগুলো বিক্রি করেছে। তাহলে কি করলো ? ১০ টাকাকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৫০ কোটি টাকা বিক্রি করলো ১৫০০ কোটি টাকা।
এখন দেখা যাক কি হওয়ার কথা ছিল ? নিয়ম মত যে কোন কম্পানী মার্কেটে আসতে চাইলে তাকে প্রাইমারী শেয়ার মানে আইপিও মানে সম্প্রতি গ্রামীন ফোনের শেয়ার যেভাবে আবেদনের ভিত্তিতে লটারীর মাধ্যমে মার্কেটে শেয়ার ছেরেছে সেভাবে আসতে হবে। গ্রামীন এর ক্ষেত্রে দেখেছেন ১০ টাকার শেয়ারের সাথে সম্ভবত ৭০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ করেছে ৮০ টাকায় বিক্রি করেছে (এখানে গ্রামীনে মত কম্পানী ৭০ টাকা নেয়া ঠিকই আছে)। এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে এই প্রিমিয়াম নির্ধারন করার একটা নীতিমালা আছে যদিও কতটুকু কি আছে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
এখন প্রশ্ন হলো ওসিএল যদি গ্রামীনের এই প্রক্রিয়ায় আসতো তাহলে কি হতো ? হ্যা সেই ক্ষেত্রে ওসিএল এর দশ টাকার শেয়ারের সাথে সর্বচ্চ ৪০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ হয়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। তাহলে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হতো ২৫০ কোটি টাকায় । তাহলে দেখা যাচ্ছে কোম্পানীটি আইপিও ডিক্লিয়ার না করে সরাসরি সেকেন্ডারী মার্কেটে শেয়ার ছেরে মার্কেটে কোম্পানীর প্রফাইল নিয়ে কিছু রিউমার ছরিয়ে প্রান্তক বিনিয়োগ কারীকে লোভ দেখিয়ে ১২৫০ কোটি টাকা বাড়তি নিয়ে গেল হার্ড ক্যাশ হিসাবে। হয়তো একাজে সে মন্ত্রনালয় ও এসিসি সহ সংশ্লষ্ট অফিসগুলোতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছে এডভান্স অথচ তারপরও কত সহজে কয়েক দিনেই ১০০০ কোটি টাকার উপর উপার্জন (?) করে নিল।
কাজটা কি ভাবে করলো ? অর্থমন্ত্রনালয়ের একটা বিশেষ অর্ডার নিয়ে কোম্পানীটি আইপিও না দিয়ে এসিসির সহায়তায় সোজা সেকেন্ডারী মার্কেটে ৫০ কোটি টাকা ৫ দিনে ১৫০০শ কোটি টাকা নিয়ে গেল।
আপনাদের কি মনে হয় ? এই টাকা কার পকেট থেকে যাবে ? এই পুরো টাকাটাই যাবে প্রান্তিক বা ম্যাঙ্গো বিনয়োগকারীর পকেট থেকে।
এর বিচার কি হওয়া উচিত ? বিচার না। প্রকাশ্য দিবালোকে কোট-টাই পরা লোকের এরকম বাটপারী যার ক্ষতি পরিমান অদৃশ্য এবং ব্যপক তা নিয়ে আর কোন আইন আদালতে না গিয়ে সরাসরি রায়ঃ
১. ম্যাংগো বিনিয়োগকারী এবং আমার মত সামান্যতম খোজ খবর রাখা ম্যাংগো জনতা মিলে ঐ কোম্পানীর মালিককে ধরে এনে স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে খালি গায়ে দাড় করিয়ে মার্কেটে থাকা সবগুলো শেয়ার সর্বচ্চ দর যত উঠেছিল সেই দরে কিনে নিতে হবে। এবং যতক্ষন পর্যন্ত সবগুলো কেনা না হয়ে ততক্ষন ঐ রাস্তায় ঐ ভাবেই খালি গায়ে দাড়িয়ে থাকবে, সে দিন হলে দিন রাত হলে রাত। সমান্যতম অন্যথায় রেব ওকে ঐ খানেই ক্রস ফায়ার করবে। কারন এ কালা ফারুকের চেয়ে জঘন্য অপরাধী।
২. ঐই কাজে জড়িত সরকারী নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ যারা জড়িত ছিল মন্ত্রী সচিব চেয়ারম্যান নির্বিশেষে সবগুলিকে ধরে এনে একই সাথে খালি গায়ে রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে থাকতে হবে এই সময়। কারন যারা এই শেয়ার কিনেছিলেন তারা শেয়ার বেচে যাওয়ার সময় এদের উদাম শরীরে থুথু দিয়ে যাবে। এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই কয়টাকে বাংলাদেশের বাইরে কোথাও ফেলে আসা হবে। (দেশে এমনিতে কোট-টাই পড়া বাটপার গিজগিজ করছে আরও অনেক ফেলতে হবে।) সামান্য অন্যথায় রেব তো থকলই।
সবগুলো সরকারী কোম্পানীকে অতিস্বত্ত্বর মার্কেটে এনে এবং শেয়ার মার্কেটকে যথাযথ নিয়ন্ত্রন করে এদেশের অর্থনীতিতে সঠিক ও প্রয়োজনীয় অবদান রাখার এই মার্কেট নিয়ে যারা এমন অনৈতিক কাজ করে গরীবে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করে পক্ষান্তরে দেশের অর্থনীতিতে আরও ব্যপক ক্ষতি করে তাদের এমন আদর্শ শাস্তিই দেওয়া উচিত দেশের বৃহত স্বার্থেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



