ভূমিকাঃ ওয়ারিদের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে এয়ারটেল কৌশলের আশ্রয় নেয়। ওয়ারিদের মোট মূল্য ১ কোটি টাকা দেখিয়ে মাত্র ৭০ লাখ টাকা বিনিময়ে ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ ভাগ শেয়ার কিনে নেয়। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ওয়ারিদ একটি লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ওয়ারিদের মালিক ধাবি গ্রুপের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে ওয়ারিদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ধাবি গ্রুপের ৭৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার কথা। প্রশ্ন উঠেছে এই ৭৫ কোটি ডলার গেল কোথায়?
ওয়ারিদ কি এতই দেনাগ্রস্ত যে এর দাম এখন মাত্র ১ কোটি টাকা ? অথচ নেটওয়ার্কের কাজে ওয়ারিদ এরিকসন বা মটোরোলার কাছ থেকে যেসব যন্ত্রপাতি কিনেছে সেগুলোর দাম হিসাব করলেও তো ৫০ থেকে ৬০ কোটি ডলারের কম হবে না! সঙ্গে রয়েছে ব্র্যান্ড ভ্যালু, লাইসেন্স ফি ইত্যাদির হিসাবও।
এ বিষয়ে ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিষয়ক ওয়েবসাইট ভিসি সার্কেল একটি হিসাব প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, ‘ওয়ারিদের সম্পদের মূল্যায়ন করে বলা যায় এর পরিমাণ ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ইউএস ডলার হবে, ফলে ভারতী এয়ারটেলকে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলারে ওয়ারিদের ৭০ ভাগ শেয়ার কিনতে হতে পারে।’ তাহলে ৭০ লাখ টাকার মতো কম দাম দেখানোর রহস্য কী?
এর আসল বিষয় হলো বিটিআরসি’র একটি নিয়ম—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স পাওয়া কোনো কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানিকে লাইসেন্স বিক্রি করতে পারবে না। কিন্তু ৩৭(৩)-এর ঝ উপধারা অনুসারে শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে।
আর এই শেয়ার হস্তান্তরের সময় শেয়ারের মূল্যের ৫.৫ ভাগ বিটিআরসিকে দিতে হবে। এখন ওয়ারিদের ৭০ ভাগ শেয়ারের মূল্য ৩০ কোটি ডলার দেখালে এর ৫.৫ ভাগ অর্থাৎ ১১৫.৫ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিতে হতো। কিন্তু শেয়ারের মূল্য নামমাত্র ৭০ লাখ টাকা দেখানোর কারণে এখন দিতে হবে ৭০ লাখ টাকার ৫.৫ ভাগ অর্থাৎ মাত্র ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
একটি ছোট প্রশ্ন, এখন যদি ওয়ারিদ শেয়ার মার্কেটে আসতো তাহলে কি এর এসেট ভ্যালুয়েশন ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা হতো বলে আপনার মনে হয় ? সে ক্ষেত্রে আপনি কত পার্সেন্ট শেয়ার কিনতে রাজি আছেন বলুন ?
মাত্র কয়েক কোটি টাকা পেলে এরা দেশটাই বেচে দিতে পারবে ।
সংবাদ সূত্রঃ Click This Link
বর্ননাঃ ডিজিটাল বাংলাদেশের সামগ্রিক খতিয়ান হলোঃ
১. সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথম সপ্তাহেই দেশের দশ কোটি মানুষের তথ্য পাওয়ার একমাত্র মাধ্য টেলিভিশন কে শুধুমাত্র বিটিভির উপর সীমাবদ্ধ করে টেরেস্টারীয়ল টেলিকাস্টকে পুনরায় শুধু বিটিভির জন্য সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখে দেশের দ্বিতীয় ভিএইচএফ চ্যানেলটি অব্যবহৃত রেখেছে।
২. কমিনিটি রেডিও নামে ১৮ কিঃমিঃ এর এবং শুধু এনজিওরাই পেতে পারবে এমন নীতিমালা দিয়ে দেশের সাধারন মানুষের সামর্থের প্রধান ডিজিটাল রিসিভারকে পঙ্গু করে রেখেছে।
৩. এসএমএস ব্যাংকিং এর পার্মিশন শুধু একটি ব্যাংক অর্থাৎ ট্রাস্ট ব্যাংককে দিয়েছে।
৩. ইন্টারনেশনাল ইন্টারনেট ব্যাংকিং নিয়ে এখনও কিছুই করতে পারে নি।
৫. ইউজাররা নেটের গতি না পেলেও দেশের বর্তমানের সাবমেরিন ক্যাবলের মাত্র ৪৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের পাঁচ ভাগের চার ভাগ সুপরিকল্পিত ভাবে অব্যবহৃত রেখে ভারতে রপ্তানীর পায়তাঁরা করছে।
৬. মোবাইল কোম্পানিগুলি ২০০৫ সালে থ্রীজি চেয়ে বসে থাকলেও ওয়াইমেক্সের তদবীরে আজও ওপেন করার কোন খবরই নেই, যেখানে ওয়াইমেক্সের নীতিটাই রিভাস করে আরও অনেকগুলো লাইসেন্স কম দামে বা ফ্রী দেয়া উচিত।
৭. গত ডিসেম্বর মাসে একটি মাত্র কোম্পানীকে সারাদেশে অপটিকেল ফাইবার স্থাপনের লাইসেন্স দিয়ে অপটিক ফাইবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে।
৮. এক্সেস টু ইনফর্মেশন নামের প্রজেক্ট জুমলায় (ফ্রী সিএমএস) শত কোটি টাকা খরচ করে নেশনাল ওয়েব সাইট বানাচ্ছে আর অবাস্তব সব প্রজেক্টে বিসিএস এর পরামর্শে শতশত কোটি টাকার ডিভাইস কিনছে।
চলুন দেখা যাক কারা এই চক্রে কাজ করছে ?
১. জনাব রাজিউদ্দিন আহাম্মে রাজু, মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।
২. জনাব সুনিল কান্তি বোস, সচিব ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়।
৩. মেজর জেনারেল অব জিয়া আহাম্মেদ পিএসপি চেয়ারম্যান বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন)
৪. জনাব সুনিল কান্তি বোস, চেয়ারম্যান টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ।
৫. জনাব সুনিল কান্তি বোস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সাবমেরিন কম্পানী লিঃ
৬. জনাব সুনিল কান্তি বোস, সভাপতি ন্যাশনাল ফ্রিকোয়েন্সি এলোকেশন কমিটি।
৭. জনাব সুনিল কান্তি বোস, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ক্যাবল শিল্প
৮. হাসানুল হক ইনু এমপি, চেয়ারম্যান সংসদীয় কমিটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়।
৯. আবুল মাল আব্দুল মুহিত, অর্থ মন্ত্রী। (এসএমএস ব্যাংকিং ইন্টারনেট ব্যাংকিং)
১০.ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর। (এসএমএস ব্যাংকিং ইন্টারনেট ব্যাংকিং)
১১. আবুল কালাম আজাদ, তথ্য মন্ত্রী। (টেরেস্টারিয়াল টেলিকাস্ট ও কমউনিটি রেডিও এর পকেটে)
১২. নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব। (এক্সেস টু ইনফর্মেশন যেমন জেলা ওয়েব পোর্টাল)
উপসংহারঃ আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং উনার পুত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের কান্ডারী সজিব ওয়াজেদ জয় এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। উপরের এই টিমটার একজনেরও সামান্যতম দেশপ্রেম নেই। এরা দেশ ও আপনাদের দলের ভবিষ্যৎ দুই-ই ধ্বংস করছে।
দ্রঃব্যঃ ছোট ছোট পয়েন্টে উপস্থাপন করলেও এদেশের সাধারন মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ টেলিকমিউনিকেশন তথা তথ্য যোগাযোগ এই বিশ্বাস ও উপলব্ধি থেকেই দেশের প্রত্যন্ততম লোকেশনে বসে রাত জেগে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা সময় ব্যয় করে ইন্টারনেটের এক মাথা থেকে আর এক মাথা চষে বেড়িয়ে বুঝেছি বিষয় গুলো আমাদের জন্য কতটুকু অপরিহার্য। কোন দল বা ব্যাক্তিকে ভালোবেসে না শুধু দেশকে ভালোবেসে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


