১. বাড্ডা এলাকার টায়ার ব্যবসায়ী আসলাম শেখ (৩৭), গত ২৯ জুন সকাল ৭টার দিকে তার খিলবাড়িটেকের বাসা থেকে হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যায় গুলশান থানা পুলিশ।
২. গ্রেফতারের কারণ জানতে থানায় ছুটে যান তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রিপা। অভিযোগে প্রকাশ, গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দেখালেও তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করেন গুলশান থানার এসআই আনিসুর রহমান।
৩. নিরুপায় রিপা স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ১ লাখ টাকা নিয়ে ছুটে যান থানায়। এসআই আনিসের হাতে তুলে দেন ১ লাখ টাকা। তবুও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি রিপা। পুলিশকে টাকা দেওয়ার তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অপরাধে একটার পর একটা সন্দেহজনক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে ব্যবসায়ী আসলাম শেখকে।
৪. গত ২৯ জুন আসলাম শেখের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল মিজান, মানিক, জালাল নামে আরও ৩ জনকে। গ্রেফতারের দু'দিন পর ১ জুলাই রাতে গুলশান এলাকায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় মিজানের। একই সময় গুলিবিদ্ধ হয় মানিক।
৫. পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় মিজান মারা যায়। মিজানের স্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর পুলিশের দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় মিজানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৬. রিপা থানায় গিয়ে আনিসের হাতে ১ লাখ টাকা পেঁৗছে দেন। টাকা নেওয়ার পরও এসআই আনিস তার স্বামীকে মুক্ত করে দিতে কোনো সহযোগিতা করেননি। গুলশান থানায় বিভিন্ন সময় দায়ের করা মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। টাকার কথা ফাঁস করে দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন এসআই আনিস। নিয়মিত রিপাকে হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
৭. নিহত মিজানের স্ত্রী-সন্তান লাপাত্তা : মিজানকে গ্রেফতারের পর পুলিশকে ১ লাখ টাকা না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মিজান হত্যাকাণ্ডের ২-৩ দিন পরই মিজানের স্ত্রী-সন্তান এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মিজানের একাধিক বন্ধু নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় গোপন রাখার শর্ত আরোপ করে বলেন, পুলিশের সঙ্গে মিজানের স্ত্রী তাসলিমার সমঝোতা হয়েছে। পুলিশের কথামতো সে মিথ্যা জবানবন্দিও দিয়েছে। বিনিময়ে পুলিশ তাকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছে। তাসলিমা এবং তার সন্তানকে পুলিশই লুকিয়ে রেখেছে।
৮. চোখ বাঁধা অবস্থায়ই গুলি করা হয় : ১ জুলাই রাতে জালালের সঙ্গে দেখা করতে গুলশান থানায় যান তার ভগি্নপতি মজনু মিয়া। সঙ্গে ছিল তার এক বন্ধু ও ছেলে। তিনজন থানাগেটে গেলে পুলিশ ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। ব্যর্থ হয়ে তারা দীর্ঘ সময় থানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মজনু মিয়া বলেন, 'আমরা চায়ের দোকানে থাকা অবস্থায়ই থানা থেকে তিনটি গাড়ি বের হতে দেখি। দুটি পুলিশের গাড়ির মাঝখানে একটি পীত রঙের প্রাইভেটকার। প্রাইভেটকারে চোখ বাঁধা অবস্থায় জালালের মতো একজনকে দেখে আমরাও গাড়িগুলোর পেছনে পেছনে যাই। গাড়িগুলো গিয়ে বনানী ব্রিজের পাশে থামে। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় জালালসহ চারজনকে নামানো হয়। চারজন পুলিশ তাদের হাত ধরে কিছুদূর হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। কোথায় নিচ্ছে আমরা দেখার চেষ্টা করলে পুলিশ আমাদের ধাওয়া দেয়। আমরা পাশের একটি গলিতে ঢুকে আবার বের হয়ে আসি। এ সময় হঠাৎ করেই চারটি গুলির শব্দ শুনি। তারপর চিৎকারের শব্দ।
৯. পুলিশের বক্তব্য : গুলশান জোনের পুলিশের উপ-কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালালে ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে মিজান ও মানিক গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চিকিৎসা চলাকালে মিজান মারা যায়। একই ঘটনায় আসলাম ও জালাল নামে আরও দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। নিহত মিজানসহ গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা এলাকার চিহ্নিত ডাকাত দলের সদস্য বলেও তিনি জানান।
পুলিশ কত বড় কুত্তার বাচ্চা। আসলে পুলিশের চরিত্রের ভেতর দিয়েই বের হয়ে আসছে আমাদের সমাজের প্রকৃত চেহারা। অভিশপ্ত হচ্ছে এই সমাজ। একদিন এদের কৃতকর্মের ফসল হিসাবে আমাদের দেশ সমাজ বিকলাংগ সন্তানে ভরে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


