স্বরাষ্ট্র সচিবকে লেখা আইজিপি’র সর্বশেষ ডিও লেটার, ডিসি সম্মেলনের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কারণে শেষ পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) নূর মোহাম্মদকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে স্বরাষ্ট্র সচিবকে দেয়া চিঠিটিই পদ থেকে সরে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওই চিঠিতে বিভাগীয় কমিশনারদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রমণের সময় পুলিশ প্রটেকশন দেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা ছিল। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত মানতে রাজি ছিল না পুলিশ সদর দপ্তর। এজন্য পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদারকে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। ওই ডিও লেটার নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় কমিশনারদের ব্যক্তি নিরাপত্তার জন্য গানম্যান রয়েছে। এছাড়াও তাদের বাসায় হাউজ গার্ড সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন থাকে। তবে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ, ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কমে যাওয়া, উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলী স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি), উপজেলা চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় সরকারের ওপর ন্যস্ত হওয়ায় বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনারদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এরপরও আকস্মিকভাবে কেন এ ধরনের প্রটেকশনের অনুরোধ জানানো হলো তার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এবং এক প্রকার আরোপিত মর্যাদাবোধ প্রসূত ধ্যানধারণা থেকে এ ধরনের অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে আমাদের মতো দেশের দরিদ্র জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের অর্থে জনবল, যানবাহন ও জ্বালানি ব্যবহার করে প্রটেকশন প্রদান আলঙ্কারিক ও বাহুল্যসহ প্রটোকল ছাড়া আর কিছু নয়। বিভাগীয় কমিশনারদের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে অবস্থান ২১ এবং সংসদ সদস্যদের অবস্থান ১৩। বিভাগীয় কমিশনারদের প্রটেকশন দেয়া হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমপি এবং সংসদ সচিবসহ সরকারের সব সচিব, মেজর জেনারেল ও সমমর্যাদার নৌ এবং বিমান বাহিনীর সরকারি কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য, সরকারের সকল অতিরিক্ত সচিব ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেলসহ ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্সে বিভাগীয় কমিশনার থেকে উচ্চতর ধাপের অন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তারা পুলিশ প্রটেকশন দেয়ার অনুরোধ জানাবেন। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা পৃথক্করণের পর বিচারিক কার্যক্রমে নিয়োজিত বিচারকরা প্রটেকশন দাবি করবেন। ডিও লেটারে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এ ধরনের ঔপনিবেশিক চেতনার বাস্তবায়ন করলে প্যানডোরার বক্স খোলা হবে। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে প্রটেকশনের প্রাপ্যতা ও অপ্রাপ্যতা নিয়ে হাইকোর্টে মামল মোকদ্দমা সৃষ্টির যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। সর্বোপরি একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রটেকশন নিয়ে যাতায়াত করলে বিপুল সরকারি অর্থ, জনবল, শ্রম ও সম্পদের অপচয় ঘটবে। সচেতন জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে একজন সিভিল সরকারি কর্মকর্তার আলাদাভাবে প্রটেকশন নিয়ে চলাচলের কোন নজির নেই। এছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একজন মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার প্রটেকশন নিয়ে চলাফেরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে কোনক্রমেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লো কন্ডিশন (গ্রিন), গার্ডেড কন্ডিশন (ব্লু), এলিভেটেড কন্ডিশন (ইয়েলো), হাই কন্ডিশন (অরেঞ্জ) ও সেভিরি কন্ডিশন (রেড) নামে পাঁচটি হুমকি পর্যায় রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ও ২০১০ সালের ২রা মে নিউ ইয়র্ক টাইম স্কোয়ারে বোমা আক্রমণের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনায় বর্তমানে ঝুঁকি লেভেল তৃতীয় পর্যায় বিরাজ করছে। এ অবস্থায়ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমনকি সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রটেকশন দেয়ার কোন নজির দেখা যায় না। ডিও লেটারের শেষ প্যারায় বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বিভাগীয় কমিশনারদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রমণের সময় পুলিশ প্রটেকশন দেয়ার অনুরোধের বিষয়টি মুক্ত গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির আলোকে পুনঃবিবেচনা করার অনুরোধ করা হলো। ওদিকে সর্বশেষ ডিসি সম্মেলনে পুলিশের প্রতি বিষোদগার করা হয়েছে এমন অভিযোগে পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে এক অর্থে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠককেই চ্যালেঞ্জ করা হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল পুলিশের আইজির এমন কর্মকাণ্ডে দারুণ নাখোশ হন। এসব কারণ ছাড়াও ইন্সপেক্টরদের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পদ থেকে প্রত্যাহারসহ নানা ইস্যু রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
ডিসিদের বক্তব্যে পুলিশ ক্ষুব্ধঃ
গত ২৫/৭/২০১০ তারিখ থেকে তিন দিন ব্যাপী, জেলা প্রশাসক সন্মেলন হয়ে গেল প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে। এই সন্মেলনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েক জন জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে নিয়ে সারাদেশে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা হয়ে গেছে।প্রতিটি জাতীয় পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে বিষয়টি।
১. সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মন্তব্যে পুলিশ বাহিনীতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে মুক্ত আলোচনার সময় পুলিশ বাহিনীর ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। জেলা প্রশাসকরা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হলেও পুলিশ সুপাররা তাঁদের সব আদেশ মানেন না বলে কয়েকজন ডিসি জানান। মাদকের বিস্তাররোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছার অভাব আছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন।
২. গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দফতরে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি বৈঠক থেকে এ ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
৩. জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
৪. রোববার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তিন দিনব্যাপী ডিসিদের সম্মেলনের প্রথম দিন কয়েকজন ডিসি বলেন, 'এসপিদের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ডিসিদের থাকা উচিত।'
৫. ডিসি জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হলেও এসপিরা
তাদের কথা শোনেন না।'
৬. সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করে। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তদারকির জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এ অবস্থায় ভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তা দ্বারা মাঠপর্যায়ের পুলিশের তদারকির বিষয়টি অবাস্তব ও অযৌক্তিক।
৭. প্রশাসনিক পুলিশ গঠনের প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনেকটাই ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিচায়ক। উল্লেখ্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), দুজন ইন্সপেক্টর, চারজন সাব-ইন্সপেক্টর ও ৩০ জন কনস্টেবলের সমন্বয়ে 'প্রশাসনিক ফোর্স' গঠনের সুপারিশ করেন ডিসিরা।
৮. ডিসিদের সম্মেলনে মাদক ব্যবসায় পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, একটি সার্ভিসের পক্ষ থেকে অন্য একটি সার্ভিস সম্পর্কে এ ধরনের ঢালাও অভিযোগ কখনোই কাম্য নয়। পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিবি-বিধান অত্যন্ত কঠোর। মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার রোধে এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
৯. ডিসিদের প্রটেকশন সম্পর্কে বলা হয়, সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার এবং তুলনামূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের প্রটেকশন যেখানে দেওয়া হয় না সেখানে ডিসিদের পুলিশ প্রটেকশন দেওয়া অযৌক্তিক।
১০. ডিসিদের প্রটেকশনের জন্য সার্বক্ষণিক বডিগার্ড এবং হাউস গার্ড থাকে।
১১. জেলা পর্যায়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। এমতাবস্থায় ডিসিদের পুলিশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবিটি স্বাধীন বিচার বিভাগের দর্শনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে জনমনে ও ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১২. সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, 'ডিসি সম্মেলনে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যে ঢালাও মন্তব্য করা হয়েছে তা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। ঢালাওভাবে বললে সবার গায়ে লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। ভালো-মন্দ সব বিভাগেই আছে। কেউ সমালোচনার উর্ধ্বে নন।
১৩. জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের রোববার ডিসিরা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তারা বলেন, 'অনেক থানার অফিসার ইনচার্জদের তত্ত্বাবধানে মাদক ব্যবসা চলে। অনেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা চলে বলে অভিযোগ আনা হলে বেশির ভাগ জেলা প্রশাসক এ বক্তব্যকে সমর্থন দেন।
১৪. পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার এ প্রসঙ্গে বলেন, 'স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয়গুলো এ মুহূর্তে সামনে আনা ঠিক হয়নি। তবে সম্মেলনে কিছু অতিউৎসাহী লোক পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
১৫. 'ডিসি সম্মেলনের নেতিবাচক বক্তব্যে সারা দেশের এক লাখ ২৪ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের মাদক ব্যবসা নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
১৬. থানায় দায়ের করা ৬০ শতাংশ মামলা হয় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে। আর এ বিরোধের পেছনে থাকে প্রশাসনের ভূমিকা। তাদের অনিয়মের কারণেই মামলা বাড়ছে।'
১৭. জেলায় আইনশৃঙ্খলা সভায় র্যাবের প্রতিনিধিত্ব না থাকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ দাবি পুলিশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের শামিল। এসবি, সিআইডির মতো র্যাবও পুলিশের একটি শাখা, যা আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। জেলাপর্যায়ে আইজিপির হয়ে এসপি নেতৃত্ব দেন।
১৮.‘জেলা প্রশাসকদের মন্তব্য এক লাখ ২৪ হাজার পুলিশ সদস্যের মনে রক্ত ঝরিয়েছে। তাঁরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না তাঁদের সব লোক সৎ।
১৯. থানায় দায়ের করা মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬০ শতাংশ মামলা হয় জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে। জমিজমার এই বিরোধের পেছনে আছে প্রশাসনের লোকজন। তাঁদের অনিয়মের কারণেই ৬০ শতাংশ মামলা হচ্ছে।’
২০. পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘পুলিশ সম্পর্কে এ রকম ঢালাও মন্তব্য করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত। কারও কারও মধ্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মতো অবস্থা সৃষ্টির মনোভাব থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত—এ রকম ঢালাও মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। আমরা জানি কে কী করছে।’
২১. পুলিশের অধীনে কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন, জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন র্যাবের অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। সেভাবে জেলা পুলিশ সুপারদের অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। তাতে অনেক কাজ দ্রুত করা সম্ভব হবে।
২২. মহানগর এলাকায় পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করে। সেটা জেলায় করলে দোষের কী?’
২৩. জেলা প্রশাসকদের মন্তব্যের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, জানতে চাইলে পুলিশের আইজি বলেন, ‘আগে তো এ ধরনের কথা কেউ বলেনি, এখন কেন বলছে, সেটা ভেবে দেখা দরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কথা বলা উচিত।’
২৪.জেলা আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে র্যাবের উপস্থিতির ব্যাপারে বলা হয়, এসব নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশের প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের শামিল। যেখানে পুলিশের প্রতিনিধি থাকেন, সেখানে আলাদা করে র্যাব থাকার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। র্যাবও পুলিশের মতো আইজির নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



