সেনা বাহিনীর কোর্ট মার্শালে শাস্তি হওয়া মেজর হেলাল মোহাম্মদ খানকে নির্দোষ দাবি করেছে তার পরিবার। গতরাতে মেজর হেলালের মা বাবা আমাদের সময়কে জানান, তাপস হত্যা প্রচেষ্ঠার ঘটনার সময় হেলাল জি-২ হিসেবে বিডিআরে মহাপরিচালকের সঙ্গে কর্মরত ছিলো। বিডিআর হেডকোয়ার্টারে কর্মরত থাকাবস্থায় কীভাবে তার ছেলে মতিঝিলে গেলো? ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তাদের ছেলেকে দোষি করা হয়েছে। এধরণের জঘন্য ঘটনার সঙ্গে তাদের ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বলেন, ‘যে ডিজির সঙ্গে আমার ছেলে কর্মরত ছিলো তিনি একবারও প্রতিবাদ করলেন না’!
হেলালের পিতা জানান, বিডিআর বিদ্রোহের সময় তার ছেলে টেকনাফে কর্মরত ছিলেন। সেখানে ৩ কোটি টাকার হিরোইন আটকের জন্য বিডিআর সপ্তাহে তাকে পুরস্কৃত করার কথা ছিলো। স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং গুরুতর অসুস্থ থাকার কারণে সেদিন সে পিলখানায় আসতে পারেনি। ২৫ ফেব্র“য়ারী ২০০৯ সালে টেকনাফে সিপাহীরা গুলি করলে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে কাটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত জঙ্গলে পালিয়ে জীবন বাচিয়েছে। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় মেজর হেলাল ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও সেনাবাহিনীর অত্যন্ত চৌকষ কর্মকর্তা। ইংরেজীতে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী হেলাল সেনাবাহিনীতে পিএসসি করেছেন। কমান্ডো ট্রেনিংএ ফাস্ট হয়েছেন। দুইবার হজ করেছেন। সেনাবাহিনীর সর্বশেষ জার্নালেও তার লেখা বেরিয়েছে। বিভিন্ন ইংরেজি সংবাদপত্রে তার একাধিক প্রবন্ধ রয়েছে।
তারা জানান, যে ৫ কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে তারা সকলেই ছিলেন বিডিআরে কর্মরত এবং নিরপরাধ। দুই জন ক্যাপ্টেন ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের তদন্ত কর্মকর্তা। গত নভেম্বরের ১১ তারিখে তাদের কর্মরত অবস্থায় তুলে নেয়া হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ২৬ দিন তাদেরকে ইন্টারগেশন সেলে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবার পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হয়নি।
তারা দাবি করেন, কোনো সাক্ষ্য ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। গত ঈদের সময় এক ঘন্টার জন্য পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে সুযোগ দেয়া হয়েছিলো। সেসময় তারা এসব জানিয়েছে। কেউ কেউ বলেছে, নির্যাতনের চেয়ে সিভিল জেলে পাঠিয়ে দিক তবুও ইন্টারগেশন সেলে আর যেতে চাই না।
তারা বলেন, হেলালে বিরুদ্ধে কোনো ধরণের সাক্ষ্য প্রমাণ ছিলো না। বেআইনীভাবে বিচার করা হয়েছে।
মা বাবা বলেন, এতো সবের পরও হেলালের একটা বিশ্বাস ছিলো শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবে। তারা নির্দোষ প্রমাণিত হবে। কিন্তু পরিকল্পিত বিচারের তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। ৩২২ জাহেদ।
মন্তব্যঃ সেনা বাহিনীর কোর্ট মার্শাল একটি পরীক্ষিত ও প্রমানীত অবিচারের কারখানা। গনিমতের মাল ভাগাভাগির জন্য এই বাহিনী ও এর কোর্ট মার্শাল নিজের বাপের মুখের উপর রায়/বলে দিতে পারে যে সে তার মা'রে মারে নাই, সে আরেক বেডার পয়দা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




