somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুজিবের নামে একটি নতুন বিমানবন্দর কেন- বাংলাদেশ নাম পরিবর্তন করে মুজিবদেশ রাখলেই সব ঠেলা একবারে চুকে যায়।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর আছে। এসব বিমানবন্দরের কোনোটারই ধারণক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা হয় না। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দেশের প্রধান বিমানবন্দরে বছরে ৮০ লাখ যাত্রী পরিচালনক্ষমতা রয়েছে গত বছর প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী এখানে আসা-যাওয়া করেছে।

শাহজালালে বর্তমান রানওয়ের ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতার ৪০ শতাংশ ব্যবহূত হয়। জাপানের নারিতা বিমানবন্দরও একটি রানওয়ে দিয়ে চলছে। সেখানে ঢাকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিমান ওঠানামা করে। যুক্তরাজ্যের গেটউইক বিমানবন্দরেও একটি রানওয়ে ছিল। সম্প্রতি তারা দুটি করেছে। কিন্তু একটি রানওয়ে থাকা অবস্থায় সেখানে বছরে সাড়ে তিন কোটি যাত্রী পরিচালন করা হতো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টায় গড়ে ৬০টির মতো বিমান ওঠানামা করলে সেটি স্বাভাবিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলা যায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে ব্যস্ত সময়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০টি বিমান ওঠানামা করে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের সহ। অর্থাৎ ঢাকায় বর্তমানের পাঁচ গুণ বিমান ওঠানামা এবং যাত্রীর পরিমাণ দ্বিগুণ হলেও এর জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই যথেষ্ট। তা ছাড়া আধুনিকায়নের মাধ্যমে এ বিমানবন্দরের ক্ষমতা-দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তো রয়েছেই। এর পরও যদি স্থানসংকুলান না হয়, তাহলে বিমানবন্দর সংলগ্ন ১৩০ একর জমি কেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি ক্লাব, গলফ ক্লাব, পাঁচ তারকা, তিন তারকা হোটেল ইত্যাদি করার নামে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে ইজারা দেওয়া হলো?

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচল বৃদ্ধির যে প্রবণতা, তাতে ২০২৫ সালে এখানে মোট ৫৭ হাজার ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার। ২০১৫ সালে এটা ৩২ হাজার এবং ২০২০ সালে ৪২ হাজার হতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টায় ঢাকায় বিমান ওঠানামা করবে ১৪টি। ২০২০ সালে তা ২০ ও ২০২৫ সালে ২৯টিতে উন্নীত হতে পারে।

বিকল্প হিসেবে আরেকজন বিশেষজ্ঞ বলেন, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরকে পুনরুদ্ধার করে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে এবং শাহজালাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ওড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে।

মুজিবের নামে একটি নতুন বিমানবন্দর কেন- বাংলাদেশ নাম পরিবর্তন করে মুজিবদেশ রাখলেই সব ঠেলা একবারে চুকে যায়। আর জাতিয়তা হবে- মুজিবই। দেশ আজ কারও পৈত্রিক সম্পত্তি কারও শশুড় বাড়ির সম্পত্তি, জনগণ কোন বালছাল।



আড়িয়ল বিলে জনরোষ, সংঘর্ষ, পিটিয়ে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ, আহত শতাধিক

আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে জনতা। গতকাল হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে নেমে আসে রাজপথে। একসময় জনরোষে পরিণত হয় গোটা এলাকা। পুলিশ জনতার অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। বিক্ষুব্ধ জনতা এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও গুলি ছোড়ে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে সামনে পেয়ে পেটাতে থাকে। বেদম প্রহারে পুলিশের কনস্টেবল মতিউর নিহত হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটি ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। এসময় লোকজন ঢাকা-মাওয়া সড়কের হাঁসাড়া থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত শতাধিক পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি, বিদ্যুৎ খুঁটি ও টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পুলিশ মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ।
এসময় দফায় দফায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১ পুলিশ নিহত ও অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। সকাল ৯টায় অবরোধ কর্মসূচির কথা থাকলেও ভোর থেকে নবাবগঞ্জ, দোহার ও শ্রীনগর উপজেলার বিক্ষুব্ধ জনতা হাঁসাড়া বাজারে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টায় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা হাঁসাড়া কালিকিশোর উচ্চ বিদ্যালয় গেট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন সহ রাম দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, লাঠিসোটা এবং মহিলারা হাতে ঝাড়ু নিয়ে মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলটি হাঁসাড়া থেকে শ্রীনগরের দিকে এগোতে থাকে। পুলিশ তখন ষোলঘর নামক স্থানে অবস্থান নেয়। পরে ছনবাড়ীর দিকে পিছু হটতে থাকে। বিক্ষুব্ধ জনতা ছনবাড়ীর দিকে মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ ঢাকা-মাওয়া সড়কের শ্রীনগর বাজার রোডে অবস্থান নেয়। সে সময় উত্তেজিত জনতা পুুলিশের উপর ইটের টুকরো ও মার্বেল মারতে মারতে শ্রীনগর বাজারের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা চড়াও হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। দুপুর ১২টায় শ্রীনগর ছনবাড়ী থেকে পুলিশের ১টি জলকামান ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে উঠে হাঁসাড়ার দিকে এগোতে থাকলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-মাওয়া সড়ক থেকে রাস্তার পাশের বিল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। বেলা সোয়া ১২টায় ছনবাড়ী থেকে ষোলঘর পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বেলা ১টায় কিছু সংখ্যক পুলিশ হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান নিলে উত্তেজিত জনতা হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় এবং দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করে। বেলা ১টায় ঢাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পৌঁছে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাঁসাড়া কালিকিশোর উচ্চ বিদ্যালয় গেটের কাছে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তারা পুলিশকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল মতিউর নিহত এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল, এটিএন নিউজের সাংবাদিক আহাদ সহ অর্ধশতাধিক পুলিশ আহত হয়। এ সময় সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে প্রথম আলোর সাংবাদিকের মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ধৈর্যের সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছি। জনতা আমাদের পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। এ সময় মতিউর নামের ১ জন কনস্টেবল নিহত হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশ আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সকাল থেকে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল না করায় হাজার হাজার পথচারী চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ইজতেমা থেকে ফেরত আসা মুসল্লি ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে গ্রামে ফিরে। বিকাল সাড়ে ৪টায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অল্প কিছু সংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কেসি রোড থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ রাস্তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে অবস্থান করছে।

এছাড়া গুরুতর আহত নায়েক গাজীউল হক (৪০) হাবিলদার আবদুল হক (৩২), কনস্টেবল আলিম (২৮), কনেস্টবল মো. শাহবুদ্দিন (৫০)কে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এস আই কামাল পাশা (৩২), হাবিলদার মনির হোসেন (৪০), কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন (৩০), নায়েক মফিজুল ইসলাম (৩০), হাবিলদার আবুল কালাম (৩৫) কনস্টেবল মো. আজান (৩২)-কে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম, মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. শফিক আহম্মেদ, র‌্যাব-১১ এর সিও লে. কর্নেল আহসান, শ্রীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল লতিফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা এ সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫টায় যানচলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় গ্রামবাসী হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত আন্দোলনকারীদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আজিজুল আলম জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। রাস্তায় গাছপালা, কাঠের গুঁড়ি ও ইটপাটকেল থাকায় যানচলাচলে কিছুটা সময় লাগবে। মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার শফিক আহম্মেদ জানান, বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা করে প্রায় ৪০-৫০ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের অস্ত্র খোয়া গেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনেক পুলিশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়ন বলেন, আন্দোলনকারী লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করেনি। স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লোকজন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বলেন, পুলিশের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিরোধী দলের একটি মহলের উসকানিতে মহাজোট সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আহত পুলিশদের দেখতে গেলেন আইজিপি
যাদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহত ও আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আড়িয়ল এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে গতকাল বিকালে ১০ পুলিশ সদস্য ভর্তি হয়েছেন। নিহত হযেছেন এসআই মতিউর রহমান। গতকাল বিকেলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে হাসপাতালে যান। প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে ও পরে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তারা। সেখানে ভর্তি আছেন- সিরাজদিখান থানার এসআই মোস্তফা কামাল পাশা (৪০), মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইনের হাবিলদার আবুল কালাম (৪৫), নায়েক মফিজুল হক (২৮), ডিএমপির হাবিলদার মনির হোসেন (৩৫), কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন (২৭) ও কনস্টেবল আয়জান (৩০)। বিকাল ৩টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএমপির এসআই মতিউরকে মৃত ঘোষণা করেন। মিটফোর্ডে ভর্তি করা হয়- কনস্টেবল আলিমউদ্দিন (২৮), হাবিলদার আবদুল হক (৩৫), সাহাবুদ্দিন (৫০) ও গাজীউল ইসলাম (৪০)-কে।

আড়িয়ল বিলের ঘটনা সরকারের পূর্বপরিকল্পিত: বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার জানান, আড়িয়ল বিলের ঘটনা সরকারের পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবির পাশাপাশি বিল রক্ষায় আন্দোলনকারী এলাকাবাসীর প্রতিবাদে একাত্মতাও ঘোষণা করেছে দলটি। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে এক যৌথসভা শেষে গতকাল বিকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেয়া এক ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এ ঘোষণা দেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের ইচ্ছা জোর করে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুন্সীগঞ্জে অহেতুক সংঘর্ষের সৃষ্টি করা হয়েছে। আড়িয়ল বিলের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে শুধু বাবার নাম দেয়ার জন্য নতুন বিমানবন্দর বানাচ্ছে। জিয়া বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কিছু করলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হতো। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দরের কি দরকার। যে বিমানবন্দর আছে তাই ২৭ ভাগ ব্যবহার হয়। আসলে এই বিমানবন্দরের নামে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে অর্ধেকই লুটপাট করা হবে। ওই এলাকার মানুষের স্বার্থ বিনষ্ট করে বিমানবন্দরের কোন প্রয়োজন নেই। আড়িয়ল বিল রক্ষার আন্দোলনকারীরা স্বাধীনতা বিরোধী- একাধিক মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মতের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের সকল মানুষইতো এর বিরোধিতা করছে। তারা সবাই কি যুদ্ধাপরাধী? আড়িয়ল বিল রক্ষাকারীদের আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি’র একাত্মতা ঘোষণা করে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থেই কথা বলবো। সেখানে যা ঘটছে এজন্য সরকারই দায়ী। সরকার জনস্বার্থ বিরোধী কমকাণ্ড বন্ধ না করলে শুধু মুন্সীগঞ্জ নয়, সারা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করা হবে।


৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×