লাইফ সাপোর্টে ইয়াজউদ্দিন। আলহামদুলিল্লাহ আর এক কুখ্যাত বৃদ্ধ মরিতেছে।এরকম শখানেক সুখবর পেলেই দেশ স্বাধীন। এদের দেহ বাংলার মাটিতে ধারন করতে হবে এই দূঃখ।
সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা অবনতি হচ্ছে ক্রমশ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি সংজ্ঞা হারান। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ ও রক্তচাপ কমে যায়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে। সেখানেই তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীরে অপ্রয়োজনীয় পানি জমার কারণে বিশেষভাবে তার শরীর থেকে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। তার স্ত্রী অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বলেন, চিকিৎসকরা তার অবস্থার উন্নতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি শরীর খারাপ লাগছে বলেন। তখন তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ঘণ্টাখানেক পর একটু ভাল লাগে। রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে স্বাভাবিকভাবে রুটি, বুটের ডাল আর সবজি খান। সেই সঙ্গে খান কলা। সকাল সাড়ে দশটার দিকে গোসল করেন। ১১টার একটু আগে ভাত খান। ভাত খাওয়ার পর থেকে বলতে থাকেন- খারাপ লাগছে। বুকে ব্যথা করছে। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন খুব অস্থির হয়ে ওঠেন। একবার দাঁড়াতে চান, একবার বসতে চান। ছটফট করতে থাকেন। অবস্থা খারাপ মনে হওয়ায় নিয়ে যাই এ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানে গাড়ি থেকে হেঁটেই হাসপাতালের ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু সময় যত যেতে থাকে অবস্থা ততই খারাপ হতে থাকে। তিনি জানান, এখন তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা কিছুই বলছেন না। বছর দুয়েক আগে তার অবস্থা একবার ওই রকম হয়েছিল। তখন তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর একবার রুটিন চেকআপেও যান। গত দেড় বছরে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তবে ২-৩ মাস ধরে শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না। শ্বাসকষ্টই বেশি হতো। মূল সমস্যা হার্টে।
ড. ইয়াজউদ্দিন ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার পর গুলশানের বাসভবনে থাকতেন। বাইরের লোকের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না। কোন অনুষ্ঠান পার্বণে খুব একটা যেতেন না। প্রথম বছর সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেলেও পরে আর তা দেয়া হয়নি। এছাড়া, কেউ কেউ তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালেও নিজেই এড়িয়ে চলতেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আর একবার মানবজমিন-এ সাক্ষাৎকার দেন। এছাড়া, আর কোন মিডিয়ার কাছে মুখ খোলেন নি। মুখ না খুললেও জীবনে অনেক কথাই লিখছিলেন বইয়ে। এছাড়াও ওয়ান ইলেভেন কেন হলো, কেমন করে হলো, কি হয়েছিল- এ নিয়ে বইয়ে অনেক কথাই লিখেছেন। তবে শেষ করতে পারেন নি বইটি। ২-৩ মাস ধরে শরীর বেশি ভাল না থাকায় লিখতে পারছিলেন না। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, বুধবার সকালে গুলশানের বাসায় বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করি। তিনি কার্ডিওলজিস্ট ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন কিছুই বলছেন না। তাদের মতে হৃদরোগে আক্রান্ত জটিল রোগীদেরই সাধারণত সিসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়। আনোয়ারা বেগম জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে ২০০৬ সালে একবার বাইপাস সার্জারি করেন। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। হার্টের সমস্যার কারণে তাকে বিভিন্ন সময়ে সমস্যা পোহাতে হয়েছে। অসুস্থ ইয়াজউদ্দিনকে দেখতে তার পরিবারের সদস্যরা, তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই আসেন। হাসপাতালে তার স্ত্রী ছাড়াও তার এক ছেলে সার্বক্ষণিকভাবে থাকছেন।
উল্লেখ্য, প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৮০। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি সরকারি কর্ম কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অনেকটাই অপ্রত্যাশিতভাবে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। বিএনপি সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের মনোনয়নে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এরপর ২০০৬ সালের অক্টোবরে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান অন্য কাউকে না করে তিনি নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। তার এ কাজের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে দেশে জরুরি আইন জারি করেন। দায়িত্ব ছাড়েন প্রধান উপদেষ্টার। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা হন। তার ওই সময়ের ভূমিকা নিয়ে অনেক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। তবে তার দাবি, ওই দিন তিনি মারা যেতে পারতেন। কিন্তু কোন লাভ হতো না। তিনি মরতে চাননি। তাই তার সামনে জরুরি অবস্থা জারি না করে কোন উপায় ছিল না। দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯-এর ১২ই ফেব্রুয়ারি ছিল তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ কার্যদিবস। এরপর থেকে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে ওঠেন গুলশান এক নম্বরে নিজের বাসায়। সেখানেই স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের পিতা। বর্তমানে তার এক ছেলে দেশে আছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

