সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্টা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রলীগের দুই নেতা এক স্বামীর সাথে থাকা নৃত্য শিল্পি স্ত্রী'কে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষন করতে থাকে ও তা ভিডিও করতে থাকে। পুলিশ খবর পেয়ে ধর্ষকদের ছেড়ে দিয়ে শুধু ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে আনে। পরে চাপে পরে ধরে এখন কেইস সাজায়। এই আপনার ছাত্রকে দিয়ে লেখাপড়া করানো ? এই কাজের জন্য সংগঠন ? এইটা কি একটা রাজনৈত সংগঠনের ছাত্রছাত্রী ফ্রন্টের অবস্থা ? একি লীগ অব স্টুডেন্টস্, না সন্ত্রাসী, ধর্ষক, আর নীতিহীন ব্যাক্তিত্ব/নেতৃত্ব তৈরীর ফ্যাকটরি ? ঐ দিন কুয়েটে পরেরদিন বুয়েটে, পরেরদিন কুয়েটে, তারপরের দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তারপরের দিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে প্রতিদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের অত্যাচার চলছেই।
ধর্ষনঃ সাতক্ষীরা, ৫ জানুয়ারী: ছাত্রলীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন খুলনার এক নৃত্যুশিল্পী। ধর্ষণের শিকার ওই নৃত্যশিল্পী বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর থানায় ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই শিল্পীকে বুধবার রাত দেড়টার সময় নাজমূল হুদা পলাশের শহরের মধ্য কাটিয়ার বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রাত ১২টার সময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ওই নৃত্যুশিল্পী ও সঙ্গে থাকা তার স্বামীকে শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠান থেকে টাকা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান ওই ছাত্রলীগ নেতা। পথে স্বামীর কাছ থেকে নৃত্যশিল্পীকে ছিনিয়ে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা পলাশ ও জুয়েল হাসান তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।ধর্ষিতার স্বামী সাংবাদিকদের জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই নৃত্যশিল্পী। তারাসহ আরও তিন শিল্পী প্রত্যেকে তিন হাজার টাকা চুক্তিতে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্থানীয় শিল্পী সোহাগ ও সন্তোষের মাধ্যমে বুধবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরায় যান। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, পুলিশ শহরের কাটিয়া এলাকায় টহল দেওয়ার সময় খবর পেয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের বাসা থেকে খুলনার ওই মেয়েকে উদ্ধার করে।এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান পালিয়ে যায়।রাত সাড়ে তিনটার সময় তাদের সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি অঝোরে কাঁদছেন।ধর্ষিতা বাদী হয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদাকে আসামিকে করে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি।
এতো গেল একটা ছাত্র লীগের ধর্ষনের রেকর্ড দেখলে যেকারও শিউরে উঠবে। মনে হয় না ৭১ মুজিব বাহীনি ও রক্ষি বাহীনি রাজাকার আলবদর ও পাক বাহীনির চেয়ে কম ধর্ষন করেছে (?)
সন্ত্রাসের খবরঃ কুয়েটে বেলা একটা দশে সেকেন্ড হাফের ব্রেকে। সবাই যখন হাত-পা ছড়িয়ে শুয়েছে বিছানায় কিম্বা বসেছে প্রিয় কম্পিউটারের সামনে। তখনই দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল ছাত্রলীগ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের নিয়ে। ছাত্ররা টের পেয়ে তালা লাগিয়ে দিল কলাপসেবল গেটে। কিন্তু মূহুর্তেই ভেঙ্গে গেল সেই তালা ছাত্রলীগের মূহুর্মূহ রডের আঘাতে। নিমিষেই ছড়িয়ে গেল তারা হলের সবখানে। হাতে বাঁশের চেলা, রামদা, চাপাতি, চাদরের নিচে লুকানো আগ্নেয়াস্ত্রটা ঝিলিক দিচ্ছিল মাঝেমাঝে। কিচ্ছুক্ষণ পরেই শুরু হল পাশবিক চিতকার আর প্রবল আর্তনাদ। সেই চিতকারে-আর্তনাদে কোন সুস্থ মানুষ ঠিক থাকতে পারে না।রাম দা এর ক্রমাগত আঘাত যখন থেতলে দিচ্ছে ছাত্রটির হাত-পা, ঝরাচ্ছে ঝরঝর করে রক্ত তখনো সে ভাবছে, কেন সে মার খাচ্ছে? কি তার অপরাধ? ধারালো দিক দেখিয়ে রাম দা হাতে উদ্যত ছেলেটি বলে “এই দিক দিয়ে মারব তোকে? এই দিক দিয়ে?” সিনিয়র ভাইটিকে মারতে মারতে বলে, “অনেকদিন 2k7 মারি না, এবার মারব শালা” এসব শব্দের কোনটিই পৌঁছে না মার খেতে থাকা ছাত্রটির কানে। শুধু সর্বশেষে যখন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে রেখে যায়, যখন তার দম বন্ধ হয়ে আসে, তখন তার মনে হয় সে বুঝি আর বাঁচবে না। যখন সম্বিত ফিরে আসে তখন সে দেখে রুমের সবাই রক্তাক্ত। সৌভাগ্যক্রমে কম মার খাওয়া কেউ তার ক্ষতস্থানে সেভলন লাগিয়ে দিচ্ছে। চোখ জ্বালা করে, বেরিয়ে আসে অশ্রু, শারীরিক আঘাতে নয়, কষ্টে, অপমানে।দুই তারিখ দুপুরে রুমে রুমে গিয়ে লিস্ট ধরে ধরে পিটিয়েছে ছেলেদের। যারা ফেরাতে এসেছে তাদেরও পিটিয়েছে।নিজের বিভাগের বড় ভাইকে পেটানোর জন্য অন্য বিভাগের ছেলেদের রুমে ঢুকিয়ে দিল আর নিজে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখল।শুভজিতকে যখন ছাত্রলীগের কুকুররা পেল তখন আর তাদের আনন্দ, তাদের পাশবিকতা দেখে কে? জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এল হলের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায়। সবাই একসাথে ঘিরে ধরে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিল কিছুক্ষণ। তারপরই শুরু হলো সতঃস্ফূর্ত অমানুষিক নির্যাতন। আহঃ কোন মানুষ এভাবে মানুষকে মারতে পারে না।যখন এক পর্যায়ে জনি ফেরাতে গিয়ে বলল, “ভাই আর মারিস না, মরে যাবে” তখন যেন তাদের চোখে ঝিলিক খেলে গেল। “অই তোর অত লাগে কেন?” বলে জনিকেও পেটাতে শুরু করল। পালিয়ে যাবার কোন উপায় ছিল না ওদের। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও মার খেয়েছেন, পুলিশ আসার কোন নাম নেই।প্রকৌশলী হতে আসা একটা ছাত্র যখন চাপাতি হাতে তুলে নেয় তখন তার হাত কি একটুও কাঁপে না? বড়ভাইকে-শিক্ষককে মারতে যাবার আগে তার বিবেক কি এতটুকুও কাজ করে না? এরা কি পরিবার থেকে কিছুই শিখে আসেনি? হে জননী, আপনার যে আদরের সন্তানকে পরমযত্নে, ভালবাসায় উচ্চশিক্ষিত করার আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন একবার কি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন কি অবলীলায় রাজনীতির বিষাক্ত ছোঁয়ায় সে মানুষ থেকে পশু হয়ে গেছে? সে এখন ছাত্র পেটায়, শিক্ষক পেটায়, সে এখন ত্রাস! হে দায়িত্ববান পিতা, আপনি কষ্ট করে প্রতিমাসে যে টাকা পাঠান আপনার ছেলেকে সেই টাকা দিয়ে সে যে মদ গাঁজার নেশায় ডুবে থাকে, রাতভর জুয়া খেলে, আরো টাকার প্রয়োজনে ফিস্টের টাকা আত্নসাত করে, বাঁধা দিলে রামদা, চাপাতি দিয়ে কোপায় তা কি আপনি জানেন?
শেখ হাসিনা বলেন ছাত্ররা লেখাপড়া করবে, মানুষের মত মানুষ হবে, আর ছাত্রলীগ স্ত্রী'কে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষন ও সন্ত্রাসী নিয়ে ব্যস্ত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



