১৬ ডিসেম্বর ২০০৯। রংপুরের পীরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা জানানো হয়। সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া তার বক্তব্যে বলেন...
১৯৭১ সালে সালে আমরা যখন দেশকে মুক্ত করতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছিলাম তখন পীরগঞ্জের ৫নং মদনখালী ইউনিয়নের হারুন মিয়া পাকিস্থান বাহিনীদের সব ধরনের সহযোগিতা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাকে খালাশপীর বাজারে ধরে গাছের সাথে বেঁধে গনপিটনি দেই। অনেকের অনুরোধে তার প্রাণ ভিক্ষা দেয়া হয়।
সেই রাজাকার হারুন আজ ৫নং মদনখালী ইউনিয়নের আ'লীগ সভাপতি। ২০০৫ সালে খালাশপীর বঙ্গবন্ধু কলেজে ৫নং ইউপি আ'লীগের কাউন্সিল হয়। আমি রাজা শেখানে গিয়ে দেখি রাজাকার হারুন। আমি প্রতিবাদ করলে উপস্থিত অনেকে আমার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে আমি মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া চোরের মত ওই স্থান ত্যাগ করি। পরে শুনি রাজাকার হারুন সভাপিত নির্বাচিত হয়েছে। এ লজ্জা কোথায় রাখি...
রাজাকার যখন আ'লীগের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হয় তখন আমরা মুক্তিযোদ্ধারা গলা ফাটিয়ে যতই রাজাকারদের বিচার দাবী করিনা কেন তা কি সম্ভব এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আমার মনে....
আমি সেদিন সারারাত কেঁদেছি....আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি..হে আল্লাহ আমার মরন দাও। আজও আমার কান্না থামেনি.....
মাঝে মাঝে মনে হয় মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা থেকে নাম কেঁটে দেই...
(মুক্তি রাজার কাহিনী থেকে জন্ম একটি কবিতার। আমি আগেই শুনেছি সে কাহিনী।)
মুক্তিযোদ্ধা রাজার গল্প
কেমন আ....ছেন? সেলাম
চায়ের কাপে ঝাকনি
হাতে কাপনি
একটু হিচকি
ফিরে তাকালাম।
মনে পড়লো সেই মুখ
বদলেছে অনেক কিছু
দাঁড়ি,টুপির রং-উচ্চতা
আলখাল্লা হাটুর নিচু
পর্যন্ত মাটি ছুঁই ছুঁই।
কিছু বলার আগেই বসলো
পাশের সোফায়
একটু কাশি
দাঁড়িতে আঙ্গুলী
আমি বললাম, তুই....?
ডিসেম্বর একাত্তর
স্বাধীন স্নিগ্ধ প্রহর
খালাশপীর বাজারে
লোক হাজারে হাজার
মসজিদের পাশের
এক গাছের সাথে বেঁধে......
তুই পারিস ভুলে যেতে
ভুলিনি,তুই রাজাকার।
সে মুদু হাসি হাসলো
ধরন বদলে গেছে
হিংস্রতা আগের মতো।
তার আজ দল ভারি
বদলেছে পরিচয়
আ'লীগে ইউপি নেতা...
কমিটির সভাপতি;
কার ঘাড়ে কটা মাথা
রাজাকার তারে কয়??
মৃদু কেঁশে সে বললো
বদলেছে দৃশ্যপট
ওহে মুক্তি রাজা মিয়া
কই তোর সে দাপট?
মুক্তি রাজা নিঃস্ব আজ
দুঃস্থের সিল ঐ ঘাড়ে
রাজাকার হারু মিয়া
চিকনাই তার বাড়ে।
ভিজিএফ এর চালের লাইনে রাজা
স্বাধীনতা মানে খোঁজে
মুক্তিযুদ্ধে যাওযার এই বুঝি সাজা
এতদিন পর বোঝে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





