গতকাল বিকেলে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এক নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ৪ দফার স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় বলা হয়,
০১) বন্ধ ও অকেজো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে ব্যয় হবে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। আর উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ হবে ৬০০ মেগাওয়াট। উদ্যোগ গ্রহণের দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই এর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে।
০২) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ‘ক্যাপাসিটর ইন্সটলেশন’ সংযোগ করলে বিদ্যুতের সঞ্চালন মতা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে ৬০০ মেগা ওয়াট। এতে খরচ হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১ বছর।
০৩) বর্তমানে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাতির বদলে ‘এনার্জি সেভিং বাল্ব’ ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে ১০০০ মেগা ওয়াটের বেশি। এটাকে প্রচার-প্রচারণায় এনে জনগণকে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং এ বাল্ব বিক্রয়ে সরকারের ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।
০৪) বিভিন্ন মিল কারখানায় নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপিত পাওয়ার প্লান্টগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে আছে। এই ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলো ন্যাশনাল গ্রিডের সাথে যুক্ত করলে ৩ থেকে ৪ শ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ এ থেকে পাওয়া যাবে। এখানে সরকারের কর আদায়ের নীতিমালা সহজতর করতে হবে।
এই প্রস্তাবনায় ২ দফা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। পরিকল্পনাগুলো হল --
০১) গ্যাসত্রেগুলো বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীসমূহের কাছে রপ্তানীমুখী চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করার ফলে এ কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে বেশি দামে গ্যস কিনতে গিয়ে সরকারকে প্রতি বছর লোকসান দিতে হচ্ছে ১৩শ কোটি টাকা। সকল রপ্তানীমুখী চুক্তি বাতিল করে আমাদের সম্পদ আমাদের হাতে রেখে ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আমরা নিজেরাই করতে পারি। এ জন্য বিদেশী কোম্পানীর সাথে চুক্তি করারও প্রয়োজন হবে না।
০২) সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, প্লোট্রি এনার্জি সহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল বিকল্প পদ্ধতিকেই অগ্রসর করে নিতে হবে যাতে আগামী বিশ্বের এনার্জিসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে চিহ্নিত হতে পারে। আর তখনই সম্ভব হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ, এর আগে না।
এই প্রস্তাবগুলো সরকার বিবেচনা করে দেখতে পারে। কী বলেন ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

