somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১ টি লুলীয় নাট্যদল (এইখানা ফান পোস্ট হইতে পারিত কিন্তু কঠিন বাস্তব)

২৩ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক পরিচিতি নাট্যকার ও নির্দেশক আছেন। তার নাম ও. আর (সংক্ষেপিত)। উনি চিরস্থায়ী বেকার। নাটক লেখা ও নির্দেশনা দেয়াকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেন না, বলেন নেশা। সেই নেশা নিয়েই তিনি একের পর এক সাময়িক নাট্যদল গড়েন এবং ভাঙ্গেন।
একবার তার হাতে পয়সা নাই, কাজও নাই। তার মহল্লার কয়েক জন ছিচকে মাস্তান ধরনের ছেলেকে পটাইতে লাগলেন। উদ্দেশ্য একটা নাটকের দল গড়া এবং একটি নাটক নির্দেশনা দিয়ে কিছু পয়সা উপার্জন।
সেই ছিচকে মাস্তানরা প্রথমে রাজি না হলেও পরে তারা আগ্রহ বোধ করা শুরু করল। বিশেষত যখন নায়িকা প্রসঙ্গ বারে বারে বলতে লাগলেন, তখনই ছিচকে মাস্তানের দল খুব আগ্রহ দেখাল। ছিচকে মাস্তানের দল শর্ত দিল শহরের সবচেয়ে সুন্দরী নায়িকা নিতে হবে, টাকা যা লাগে লাগুক।
প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল, এই নায়িকারা কারা। এরা হল গরীব ঘরের সেই সব মেয়ে - যারা সামান্য কিছু টাকার জন্য বিভিন্ন দলে মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করে থাকে। তারা যে সব দলে কাজ করে সেই সব দল কমার্শিয়াল নাটক করে। কমার্শিয়াল নাটক বলতে অনেকে মনে করবেন যে, এই নাটকের টিকেট বিক্রি হয় এবং প্রচুর টাকা উপার্জন হয়। বরং ব্যাপারটি পুরো উল্টো। এই নাটক পুরো ফ্রি দেখানো হয়। এই নাটকে বাংলা সিনেমার বেশ কিছু গান থাকে। সেই গানের সাথে কিছু লুলীয় নাচ এবং অঙ্গভঙ্গি। নাটকের কাহিনীও প্রচলিত বাংলা সিনেমার নকল। কিন্তু কেন এই নাটকগুলোকে কমার্শিয়াল নাটক বলে সেটা আমার কাছে আজও বোধগম্য নয়।
এই সব কমার্শিয়াল নাটকের দলে কিছু বড় ভাই থাকেন যাদের পকেটে কিছু কাঁচা টাকা আছে। তারা এই সব মেয়েদের খরচ বহন করেন এবং দলের সব খরচ দেন।
ছিচকে মাস্তান পুলাপানদের মধ্যে কাঁচা টাকার মালিক আছিল দুইটা। কাঁচা টাকার লোকেরা প্রাকৃতিক কারণেই লুল প্রকৃতির হয়। এই দুইটাও তাই ছিল।
তখন সালমান শাহ বাংলা সিনেমার নায়ক হিসেবে খুব জনপ্রিয়। সালমান শাহর কোন এক ছবির গান নির্ধারিত হল ওই নাটকের জন্য। অভিনয়ের রিহার্সেলের আগেই নাচের রিহার্সেল শুরু হল। লুলদের একজন হল নায়ক। অন্য জন পাশে বসে নায়ক ও নায়িকার ঘনিষ্ঠ নাচ দেখতে লাগল এবং দাঁত কিড়মিড় করতে লাগল। বঞ্চিত লুল প্রস্তাব দিল, তাকে নায়ক বানাতে হবে, দরকার হয় সে বেশি টাকা দেবে। এই নিয়ে লাগল ঝগড়া এবং কয় দিন পর দেখা গেল, দলের কমপক্ষে ৫ জন লুল নায়ক হওয়ার জন্য তিন পায়ে খাড়া।
ও. আর (সংক্ষেপিত) পড়ে গেলেন বিপদে। কাকে রেখে কাকে নায়ক বানাবেন এবং নিজের পিঠ বাচাবেন সেটা ভেবে তার রাতের ঘুম হারাম।
ঘটনার এই পর্যায়ে আমার সাথে তার দেখা। আমি তত দিনে ৫ খান মঞ্চ নাটক লিখে ফেলেছি এবং ওই নাটকগুলো ও.আর (সংক্ষেপিত) দাদা দেখেছেন। ওই নাটকগুলো দেখে তারা ধারণা হয়েছে, আমি নাটকের উপর বিশিষ্ট পণ্ডিত।:P (কুয়ার ব্যাঙ তো ডোবারে সাগর মনে করবই/:))
তিনি পুরো ঘটনা বলে আমার পরামর্শ চাইলেন। বুঝলাম, কাহিনীটা সালমান শাহ অভিনীত সাম্প্রতিক বাংলা সিনেমার নকল। পুরা কাহিনীতে নায়ক-নায়িকার লদকা-লদকি।
আমি তাকে একটা ভিলেন চরিত্র বানানোর পরামর্শ দিলাম। বঞ্চিত লুলটারে সেই ভিলেন চরিত্র দিলেই ঝামেলা মিটে যাবে। আর নায়কের সাথে যেমন নায়িকার লদকা-লদকি আছে, ভিলেনের কল্পনায় ফালাইয়া সেই রকম লদকা-লদকি দিতে বললাম। (উপায় নাই , ও.আর (সংক্ষেপিত) দাদার পিঠের চামড়া বাঁচানো এখন ফরজ। )
ও.আর (সংক্ষেপিত) দাদা খুশি মনে গেলেন। যাওয়ার আগে আমারে ধইন্যবাদ দিতেও ভুললেন না।
কয়েক দিন পর হন্তদন্ত হয়ে উনি নিজে এসে হাজির। কী ব্যাপার ?
এখন সবাই ভিলেন হইবার চায়।
আমি অবাক। কারণ কী ?
আপনের কথা মতো লদকা-লদকি দিয়াই তো কাম সারছে।
আমি কেবল লদকা-লদকি দিতে বলছিলাম। উনি আগ বাড়ায়া একটা রেপ সিনও দিয়া ফালাইছেন। ফলে নায়কের চেয়ে ভিলেনের গুরুত্ব বেড়ে গেছে এবং নায়িকার সাথে ভিলেনের দৃশ্যও বেশি। নাচ-গান তো আছেই, বোনাস হইল রেপ সিন।
আমি রেপ সিন বাদ দেয়ার পরামর্শ দিলাম।
সপ্তাহখানেক পর উনার সাথে রাস্তায় দেখা। দেখি মাথায় ব্যান্ডেজ। আমি জিজ্ঞাসা করার আগেই তিনি জানালেন, নায়িকা লয়া নায়ক আর ভিলেন মারামারি করছে। আমি অগো মারামারি ঠেকাইতে গিয়া মাইর খাইয়া মাথা ফাডা।
নাটকের কী হবে ? আমি উদ্বিগ্নভাবে জানতে চাই।
উনি হতাশ গলায় বলেন, আর নাটক । ডরের চোটে নায়িকা ভাইগ্যা গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
২৬টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×